hadith book logo

নারী-পুরুষে দেখাদেখি, নির্জনে অবস্থান ও সহাবস্থান সংক্রান্ত বিবিধ ফাতওয়া

লেখকঃ শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-‘উসাইমীন, শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন এবং স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের ফতোয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

যৌন কামনা ব্যতীত হারাম শরীফে নারীদের দিকে তাকানো

প্রশ্ন: হারাম শরীফে যৌন কামনা ব্যতীত কোনো পুরুষ নারীদের দিকে তাকালে তাকে শরী‘আতের দৃষ্টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হবে কিনা, জেনে রাখা দরকার যে, নারীরাই তাদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে?

উত্তর: বাস্তব কথা হলো হারাম শরীফে নারীদের সমস্যাটি একটি বড় ধরনের সমস্যা। কারণ, নারীদের মধ্যে যারা ইবাদাত ও আনুগত্যের এ স্থানটিতে হাযির হন, তারা এমন চেহারা নিয়ে হাযির হন, যাতে কেউ ফিতনার শিকার না হয়, আবার কোনো কোনো নারী আসে সৌন্দর্য প্রদর্শন করে সুগন্ধি লাগিয়ে এবং কখনও কখনও তার চালচলন থেকে এমন ভাব প্রকাশ পায় যে, সে পুরুষদের সাথে প্রেমালাপ করছে, আর এ কাজটি মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য যে কোনো জায়গাতেও অন্যায় ও অপরাধ। সুতরাং তা মসজিদে হারামে কীভাবে বৈধ হতে পারে?! আর তাদের মধ্য থেকে যারা শুনেন ও পাঠ করেন, তাদের প্রতি আমার নসীহত বা উপদেশ হলো, তারা যেন তাদের নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করেন এবং যে কেনো অপরাধ সংঘটিত হওয়া থেকে ‘বাইতুল্লাহ’ তথা আল্লাহ তা‘আলার ঘরকে সম্মান করেন। আর পুরুষগণের দায়িত্ব হলো, যখন তারা কোনো নারীকে অশালীন চেহারায় দেখতে পাবে, তখন তাদের কর্তব্য হলো তাকে উপদেশ দেওয়া, ধমক দেওয়া অথবা যিনি তাকে নিষেধ করতে ও ধমক দিতে পারেন, তার সম্পর্কে তাকে জানিয়ে দেওয়া, আর আল-হামদুলিল্লাহ, (সেখানকার) মানুষগুলোর মধ্যে ভালো গুণ রয়েছে।

কিন্তু এটা সত্ত্বেও আমরা বলব: অবশ্যই পুরুষ ব্যক্তির দায়িত্ব হলো সাধ্য অনুযায়ী তার দৃষ্টিকে অবনমিত রাখা, যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ﴾ [ النور : ٣٠ ]

“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।” [সূরা আন-নুর, আয়াত: ৩০]

সুতরাং তার আবশ্যকীয় দায়িত্ব হলো তার দৃষ্টিকে সাধ্যানুসারে অবনমিত রাখা, বিশেষ করে যখন সে নিজেকে দেখবে মজা পাওয়ার জন্য মন আনচান করে, তখন তার জন্য ওয়াজিব হলো বেশি বেশি করে নিচের দিকে তাকানো, আর এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে বহু রকম-ফের রয়েছে।

শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-‘উসাইমীন