hadith book logo

নারী-পুরুষে দেখাদেখি, নির্জনে অবস্থান ও সহাবস্থান সংক্রান্ত বিবিধ ফাতওয়া

লেখকঃ শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-‘উসাইমীন, শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন এবং স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের ফতোয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫

অপরিচিত বা পরনারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করা হারাম

প্রশ্ন: এখানে কোনো কোনো মানুষ অপরিচিত বা পরনারীর সাথে কথা বলার ব্যাপারটিকে খুবই স্বাভাবিক মনে করে, উদাহরণস্বরূপ ধরে নিন- যখন কোনো পুরুষ ব্যক্তি তার বন্ধুর বাড়িতে আসে এবং তাকে না পায়, তখন তার স্ত্রী আগন্তুক এ পুরুষের (তার স্বামীর বন্ধুর) সাথে কথা বলে, বৈঠকখানা খুলে দেয় এবং তার জন্য চা ও কফি সরবরাহ করে। সুতরাং এটা কি বৈধ হবে? জেনে রাখা দরকার যে, ঘরের মধ্যে এ স্ত্রী লোকটি ছাড়া আর কেউ নেই।

উত্তর: কোনো নারীর জন্য তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার স্বামীর ঘরে কোনো পরপুরুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া বৈধ নয়, যদিও সে পুরুষ লোকটি তার স্বামীর বন্ধু হয় এবং যদিও সে কোনো বিশ্বস্ত বা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হয়। কারণ, এর মধ্যে অপরিচিত বা পরনারীর সাথে একান্ত নির্জনে অবস্থান করার ব্যাপার রয়েছে, অথচ হাদীসের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ» .

“কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না, তবে জেনে রাখবে এমতাবস্থায় তাদের সাথে তৃতীয় জন হলো শয়তান।” [তিরমিযী, হাদীস নং- ২১৬৫]

অনুরূপভাবে পুরুষ ব্যক্তির জন্য হারাম হলো তার বন্ধুর স্ত্রীকে তার নিকট প্রবেশ করতে বলা এবং তার খেদমত করতে বলা, যদিও সে আমানতদারীতা ও দীনদারীর কারণে নিজের ব্যাপারে আস্থাবান হয়ে থাকে এ আশঙ্কায় যে, শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিবে এবং তাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করবে।

আর স্বামীর উপর আবশ্যকীয় কতৃব্য হলো অপরিচিত কোনো পুরুষ ব্যক্তি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করানো থেকে তার স্ত্রীকে সাবধান ও সতর্ক করা, যদিও সে পুরুষ ব্যক্তিটি তার নিকটাত্মীয়দের কেউ হয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«إيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ , أَرَأَيْتَ الْحَمْوَ ؟ قَالَ : الْحَمْوُ الْمَوْتُ» .

“তোমরা পরনারীদের নিকট অনুপ্রবেশ করা থেকে বিরত থাক। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! দেবরের (অনুপ্রবেশের) ব্যাপারে আপনার মতামত কী? জবাবে তিনি বললেন: দেবর তো মৃত্যুর মতো ভয়ঙ্কর।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম।]

আর ‘দেবর’ হচ্ছে স্বামীর ভাই অথবা তার নিকটতম আত্মীয়। সুতরাং সে (দেবর) ভিন্ন অন্যের অনুপ্রবেশ তো আরো উত্তমভাবেই অগ্রহণযোগ্য।

শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন