১
নারী-পুরুষে দেখাদেখি, নির্জনে অবস্থান ও সহাবস্থান সংক্রান্ত বিবিধ ফাতওয়া
লেখকঃ শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-‘উসাইমীন, শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন এবং স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের ফতোয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪১
আমার শ্যালিকারা খোলামেলা থাকাবস্থায় আমি তাদেরকে গাড়িতে করে গন্তব্য স্থানে পৌঁছায়ে দেই
প্রশ্ন: আপনাদের জ্ঞাতার্থে সবিনয়ে বলতে চাই যে, আমি এমন এক কন্যাকে বিয়ে করেছি, যার ছোট আরও তিন বোন রয়েছে, আর আমি আমার শশুরের সাথেই বসবাস করি তার বিভিন্ন কাজে তাকে সহযোগিতা করার জন্য। কিন্তু সমস্যা হলো ঘরের মধ্যে এবং আমার শ্যালিকাদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে তাদের সাথে আমার অনেক বেশি মেশামেশি হয়ে যায়, তবে শ্যালিকাদের মাথা ঢাকা থাকে এবং চেহারা খোলা থাকে, আবার কখনও কখনও আমাকে তাদের কাউকে মাদরাসা বা কলেজে বা অফিসে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করতে হয়। সুতরাং এ ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কী?
উত্তর: উল্লিখিত কারণে আপনার শশুরের সাথে বসবাস করাতে কোনো অসুবিধা নেই -পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অথবা অন্য কোনো কারণে তার সাথে বসবাস করাটা বৈধ ব্যাপার। তবে আপনার শ্যালিকাদের জন্য আবশ্যক হলো তারা আপনার থেকে পর্দা করবে এবং তাদের চেহারা ঢেকে রাখবে। কারণ, চেহারা হলো সবচেয়ে সৌন্দর্যপূর্ণ বস্তু। আল্লাহ তা‘আলা সূরা আন-নূরে বলেন:
﴿وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوۡ ءَابَآئِهِنَّ أَوۡ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ ...﴾ [ النور : ٣١ ]
“আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর ....ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১]
আর আপনার জন্য তাদের কোনো একজনকে নিয়ে নির্জনে অবস্থান করা এবং একাকিনী অবস্থায় তাকে নিয়ে স্কুল-কলেজ বা অফিসে যাওয়া বৈধ নয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ» .
“কোনো মাহরাম পুরুষ সাথী ছাড়া কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৩৩৩৬]
তিনি আরও বলেন:
«لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ ، فَإِنَّ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ» .
“কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না। কারণ, তাদের সাথে তৃতীয় জন হলো শয়তান।” [বায়হাকী, হাদীস নং- ১১০৮৫]
সুতরাং যখন আপনি তাদের কাউকে নিয়ে স্কুল-মাদরাসায় যাবেন, তখন আপনার জন্য আবশ্যক হলো আপনাদের সাথে তৃতীয় আরেক জনকে সাথে নেওয়া, যাতে তার দ্বারা একান্ত নির্জনতার সমস্যা দূর হয়ে যায় এবং তার উপস্থিতিতে নিরাপদ হওয়া যায় সতর্ক করা শয়তানের কুমন্ত্রণা বা প্ররোচনা থেকে। আল্লাহ আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে তার প্ররোচনা থেকে রক্ষা করুন।
শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
উত্তর: উল্লিখিত কারণে আপনার শশুরের সাথে বসবাস করাতে কোনো অসুবিধা নেই -পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অথবা অন্য কোনো কারণে তার সাথে বসবাস করাটা বৈধ ব্যাপার। তবে আপনার শ্যালিকাদের জন্য আবশ্যক হলো তারা আপনার থেকে পর্দা করবে এবং তাদের চেহারা ঢেকে রাখবে। কারণ, চেহারা হলো সবচেয়ে সৌন্দর্যপূর্ণ বস্তু। আল্লাহ তা‘আলা সূরা আন-নূরে বলেন:
﴿وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوۡ ءَابَآئِهِنَّ أَوۡ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ ...﴾ [ النور : ٣١ ]
“আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর ....ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১]
আর আপনার জন্য তাদের কোনো একজনকে নিয়ে নির্জনে অবস্থান করা এবং একাকিনী অবস্থায় তাকে নিয়ে স্কুল-কলেজ বা অফিসে যাওয়া বৈধ নয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ» .
“কোনো মাহরাম পুরুষ সাথী ছাড়া কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৩৩৩৬]
তিনি আরও বলেন:
«لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ ، فَإِنَّ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ» .
“কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না। কারণ, তাদের সাথে তৃতীয় জন হলো শয়তান।” [বায়হাকী, হাদীস নং- ১১০৮৫]
সুতরাং যখন আপনি তাদের কাউকে নিয়ে স্কুল-মাদরাসায় যাবেন, তখন আপনার জন্য আবশ্যক হলো আপনাদের সাথে তৃতীয় আরেক জনকে সাথে নেওয়া, যাতে তার দ্বারা একান্ত নির্জনতার সমস্যা দূর হয়ে যায় এবং তার উপস্থিতিতে নিরাপদ হওয়া যায় সতর্ক করা শয়তানের কুমন্ত্রণা বা প্ররোচনা থেকে। আল্লাহ আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে তার প্ররোচনা থেকে রক্ষা করুন।
শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায