১
গল্পে আঁকা ইতিহাস ২ -অপরাধী ও পুলিশ
লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
অমন মানুষকেও মানুষ মারতে পারে
কিছুদিন পর এক সন্ধ্যায় গৃহস্বামী ফিরে এলেন। কিন্তু তাঁর ক্ষত বিক্ষত ও বিধ্বস্ত শরীর দেখে আমি আঁতকে উঠলাম। তিনি কিছু না বললেও আমার বুঝতে বাকি থাকলো না যে, নিপীড়ন ও নির্যাতনের কী ভয়াবহ ঝড় বয়ে গেছে তার উপর দিয়ে। আর এর কারণ যে আমি তা বুঝতে পেরে আমার লজ্জা ও অনুশোচনার কোনো সীমা রইলো না।
হায়! এমন সোনার মানুষটাকে এভাবে মারতে ওদের হাত একটু কাঁপলোও না! কেন আমি তার নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে বিষয়টা আঁচ করতে পারলাম না? আমি যদি স্বেচ্ছায় গিয়ে জালিমদের হাতে ধরা দিতাম তাহলে কি এই শরীফ নিরপরাধ মানুষটার এই করুণ দশা হতো?
লজ্জায়-অনুশোচনায় আমি এমন কাতর হয়ে পড়লাম যে, গৃহস্বামীর দিকে চোখ তুলে তাকাতেও পারছিলাম না। কিন্তু তিনি বারবার আমাকে বিভিন্নভাবে প্রবোধ দিতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, ‘আপনার সাথে আমার এ-দুর্দশার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি অন্য একটা দুর্ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েছিলাম।’
পরে অবশ্য আমি সব জানতে পারলাম। যে কোনো কারণেই হোক বিদ্রোহীদের সন্দেহ পোক্ত হয়ে গিয়েছিলো যে, গৃহস্বামীই আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন। তাই বিদ্রোহীরা বাজারে তার দোকান থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো। তারপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্দয় বেত্রাঘাত। কিন্তু ওদের সকল নির্দয়তার মুখেও তিনি যখন আমার ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হলেন না, নরপশুরা তখন তাকে বন্দি রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন চালিয়েছে।
জালিমদের সব অত্যাচার তিনি সহ্য করেছেন, কিন্তু মুখ খুলেননি। শেষ দিন যখন নির্যাতনের মাত্রা সকল সীমা ছাড়িয়ে গেলো এবং তাঁর সহ্যশক্তিও ফুরিয়ে গেলো তখন তিনি তাদেরকে অনুনয় করে বললেন, ‘দেখো! আর জুলুম না করে তোমরা আমাকে একেবারে মেরেই ফেল। শোনো! আমি যদি তাঁকে আশ্রয় দিয়েও থাকি তাহলে আরব রক্তের কাছে কীভাবে তোমরা আশা করছো যে, নিজের জীবন বাঁচাতে আমি আমার আশ্রিত মেহমানকে তোমাদের হাতে তুলে দেবো?!
আল্লাহর কসম! আমি যদি জানতাম, তবু তার খবর তোমাদেরকে বলতাম না। এখন তোমাদের যা ইচ্ছে তাই করো! তবে মনে রেখো, একদিন অবশ্যই বিচারের জন্যে আল্লাহর সামনে তোমাদেরকে দাঁড়াতে হবে! সেদিন কী জবাব দেবে?
কণা পরিমাণ ঈমানও যাদের অন্তরে আছে আল্লাহর ভয় এক সময় এক সময় তাদের বিচলিত করেই। শত হোক, এই জালিমরাও মুসলমান ছিলো। তাই পরকাল আর আখেরাতের কথা মনে করিয়ে দিতেই তারা দমে গেলো এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো।
হায়! এমন সোনার মানুষটাকে এভাবে মারতে ওদের হাত একটু কাঁপলোও না! কেন আমি তার নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে বিষয়টা আঁচ করতে পারলাম না? আমি যদি স্বেচ্ছায় গিয়ে জালিমদের হাতে ধরা দিতাম তাহলে কি এই শরীফ নিরপরাধ মানুষটার এই করুণ দশা হতো?
লজ্জায়-অনুশোচনায় আমি এমন কাতর হয়ে পড়লাম যে, গৃহস্বামীর দিকে চোখ তুলে তাকাতেও পারছিলাম না। কিন্তু তিনি বারবার আমাকে বিভিন্নভাবে প্রবোধ দিতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, ‘আপনার সাথে আমার এ-দুর্দশার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি অন্য একটা দুর্ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েছিলাম।’
পরে অবশ্য আমি সব জানতে পারলাম। যে কোনো কারণেই হোক বিদ্রোহীদের সন্দেহ পোক্ত হয়ে গিয়েছিলো যে, গৃহস্বামীই আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন। তাই বিদ্রোহীরা বাজারে তার দোকান থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো। তারপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্দয় বেত্রাঘাত। কিন্তু ওদের সকল নির্দয়তার মুখেও তিনি যখন আমার ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হলেন না, নরপশুরা তখন তাকে বন্দি রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন চালিয়েছে।
জালিমদের সব অত্যাচার তিনি সহ্য করেছেন, কিন্তু মুখ খুলেননি। শেষ দিন যখন নির্যাতনের মাত্রা সকল সীমা ছাড়িয়ে গেলো এবং তাঁর সহ্যশক্তিও ফুরিয়ে গেলো তখন তিনি তাদেরকে অনুনয় করে বললেন, ‘দেখো! আর জুলুম না করে তোমরা আমাকে একেবারে মেরেই ফেল। শোনো! আমি যদি তাঁকে আশ্রয় দিয়েও থাকি তাহলে আরব রক্তের কাছে কীভাবে তোমরা আশা করছো যে, নিজের জীবন বাঁচাতে আমি আমার আশ্রিত মেহমানকে তোমাদের হাতে তুলে দেবো?!
আল্লাহর কসম! আমি যদি জানতাম, তবু তার খবর তোমাদেরকে বলতাম না। এখন তোমাদের যা ইচ্ছে তাই করো! তবে মনে রেখো, একদিন অবশ্যই বিচারের জন্যে আল্লাহর সামনে তোমাদেরকে দাঁড়াতে হবে! সেদিন কী জবাব দেবে?
কণা পরিমাণ ঈমানও যাদের অন্তরে আছে আল্লাহর ভয় এক সময় এক সময় তাদের বিচলিত করেই। শত হোক, এই জালিমরাও মুসলমান ছিলো। তাই পরকাল আর আখেরাতের কথা মনে করিয়ে দিতেই তারা দমে গেলো এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো।