hadith book logo

গল্পে আঁকা ইতিহাস ২ -অপরাধী ও পুলিশ

লেখকঃ আলী তানতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

স্মৃতিময় দামেস্ক

শেকলবাঁধা বন্দির মুখে ‘দামেস্ক’ শব্দটা শোনা মাত্রই অতীতের একটা বিস্মৃতপ্রায় মধুময় স্মৃতি আমার মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিলো। আমি ‘দামেস্ক’ উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লাম। আপন মনে বলে উঠলাম, ‘হে আল্লাহ! দামেস্কের প্রিয় মাটি চিরকাল তোমার করুণা-বর্ষণে সিক্ত হোক!’

আমি এরপর লোকটির দিকে মায়া-মায়া চোখে তাকিয়ে বললাম, ‘বন্দি! তোমার দামেস্কের কাছে আমি চিরঋণী। সেখানে এমন এক মহানুভব মানুষের দেখা পেয়েছিলাম আমি, যার উপকার আমি কোনোদিন ভুলতে পারবো না। কতদিন কতোজনকে আমি বলেছি তার কাহিনী। এমন কি আমার ছোট্ট মেয়েটিও স্মরণ করে আমার উপকারী সেই বন্ধুকে। এখনো দামেস্কের কোনো কাফেলার সাথে দেখা হলে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে যাই। তাদের কাছে ব্যাকুলচিত্তে জানতে চাই- দামেস্কের খবর। সেই উপকারী বন্ধুর কথা।’

লোকটি তখন মৃদু করুণ হেসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, ‘কী নাম তার?’

আমি নাম বলে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কেনো তুমি চেনো তাঁকে?’

লোকটি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বললো, ‘কী উপকার করেছে সে আপনার?’

আমি বললাম, ‘শোনবে?’ এরপর আমি তার জবাবের অপেক্ষা না করেই বলতে শুরু করলাম তার কাহিনী— ‘সে বেশ আগের কথা। আমি তখন দামেস্কে বাস করি। দামেস্কের শাসনকর্তার অধীনে চাকরি করি। দামেস্কের জীবন ও প্রকৃতি বড়ো অদ্ভুত! এমনিতে মানুষ সেখানে বেশ শান্ত, ভদ্র। কিন্তু কখনো কোনো কারণে তারা যদি জ্বলে উঠে, তাহলেই বিপদ! মুহূর্তেই দৃশ্যপট বদলে যায়। এই শান্ত মানুষগুলোই হয়ে উঠে অশান্ত ও ঝাঞ্ঝা -বিক্ষুব্ধ।

দামেস্কের আবহাওয়া যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনি প্রশান্তিকর। কিন্তু মাঝে-মধ্যেই সেখানে বয়ে যায় তপ্ত লু-হাওয়া। যার নাম ‘বুরকান’। একবার আমরাও পড়েছিলাম এই ভয়ংকর বুরকান এর কবলে। তখন শহরবাসীর সে কী কষ্ট! আমরা কয়েকজন শাসনকর্তার প্রাসাদে ছিলাম তাই বাঁচুয়া। সন্ধ্যাটা ভালোয় ভালোয় পার করতে পারলেও বিপত্তি দেখা দিলে অন্যখানে। শহরে হঠাৎ করে দেখা দিলে গোলযোগ ও মারদাঙ্গা। বিদ্রোহের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো সারা দামেস্কে। জনতা কুঁসে উঠলো রুদ্ররোষে। ঘেরাও করলো আমীরের প্রাসাদ। দাবি তাদের একটাই- আমার এবং আমীরের কল্লা চাই! কেননা তাদের এ দাবি- তার কিছুই জানি না আমরা। শুধু জানি- এখান থেকে আমাদেরকে যে কোনো উপায়েই হোক পালাতে হবে।