hadith book logo

কুরআন ও হাদীসের আলোকে শাফা‘আত

লেখকঃ মুহাম্মাদ নাজমুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

একটি বিশেষ আবেদন

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, “আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। তারপর দুনিয়াবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন:

«مَنْ يَدْعُوْني فَاسْتَجِيْب لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأعْطِيْهِ مَنْ يَسْتَغْفِرْنِي فَأغْفِر لَهُ»

“কে আছে আমাকে ডাকবে, তার ডাকে আমি সাড়া দিব, কে আছে আমার কাছে প্রার্থনা করবে আমি তাকে দান করব, আর কে আছে আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব”। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক, সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম।]

আমরা সবাই জানি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে যে সংবাদ দান করেছেন তা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশিত খবর । আর তিনি হচ্ছেন এমন এক মহান ব্যক্তি যিনি ‘আপন রব ও মা‘বুদ’ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, সবচেয়ে উত্তম নসীহতকারী, সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। আর তিনি নিজেই তাঁর উম্মতকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা রাতের তিন ভাগের একভাগ সময় বাকী থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে তাঁরই নিকট প্রার্থনা করতে বলেন এবং এ সময়ের প্রার্থনা কবুল করবেন বলে ওয়াদা করেছেন।

এহেন অবস্থায় কী করে একজন মুসলিম নিজেকে রাসূলের উম্মত বলে পরিচয় দেয় আবার শেষ রাতে গাইরুল্লাহকে আহ্বান করে! এটি কি রাসূলের শিক্ষা নিয়ে উপহাসের শামিল নয়? আর কেমন করেই বা তারা শেষ রাত্রে অর্থাৎ ফজরের আযানের পূর্বে এবং রমযান মাসে সাহরীর সময় নিয়মিত বলে: মুহাম্মাদ ইয়া রাসূলাল্লাহ! শাফা‘আত কি-জিয়ে লিল্লাহ!

“হে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর ওয়াস্তে শাফা‘আত করুন!”

তারা দূর দূরান্ত থেকে আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডেকে তাঁরই নিকট শাফা‘আত প্রার্থনা করলেন। তারা ভুলে গেলেন যে, শেষ রাতে আল্লাহকে ডেকে একমাত্র আল্লাহরই কাছে প্রার্থনা করার জন্য স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে আদেশ করেছেন।

সকলের প্রতি সম্মান রেখে অনুরোধ জানাচ্ছি যে, আপনারা অন্যান্য প্রার্থনার মত শাফা‘আতের প্রার্থনাও কেবল আল্লাহর কাছেই জানান। কেননা তিনি দো‘আ কবুলের ওয়াদা দিয়েছেন এবং নিশ্চয় তিনি ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।

﴿وَيَسۡتَجِيبُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَيَزِيدُهُم مِّن فَضۡلِهِ﴾ [ الشورا : ٢٦ ]

“তিনি ঈমানদার সৎ কর্মীদের দো‘আ কবুল করেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন।” [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৬]

তাই আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে বলি:

রোজ হাশরের মালিক ওগো তুমি মেহেরবান,

মুহাম্মাদের শাফা‘আত করো মোদের দান।

এমন বললে শির্ক মুক্ত থাকা যায়, তাওহীদ রক্ষা পায় এবং শাফা‘আতের প্রার্থনাও সঠিক জায়গায় করা হয়। আল্লাহই একমাত্র তাওফীকদাতা, তিনি সকলের আশ্রয়, তিনি করুণা ও অনুগ্রহের একক আকর তাঁরই সমীপে আকুতি ও প্রার্থনা জানাই- হে আল্লাহ! তোমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা‘আত থেকে আমাদের বঞ্চিত করো না। বঞ্চিত করো না তোমার করুণা থেকে।

سبحان ربك رب العزة عما يصفون وسلام على المرسلين والحمد لله رب العلمين .

সমাপ্ত