hadith book logo

মহা নাবীর সর্ব শেষ ওসিয়ত আস-সালাত, আস-সালাত

লেখকঃ নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

ইসলামে মসজিদের ভূমিকা:

এতে কোন সংশয় নেই যে রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র যে কাঠামোগুলোর উপর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মসজিদ হল সে কাঠামোগুলোর অন্যতম। হিজরতকালে তিনি হুইয়াই বিন আমর বিন আউফের নিকট কোবা নামক স্থানে অবস্থান করে কয়েকদিনের মধ্যে মসজিদে কোবার নির্মাণ শুরু করেন। আর এটিই হলো মদিনায় নির্মিত সর্বপ্রথম মসজিদ। [বিদায়া নিহায়া ইবনে কাসির ২২৫/৩] তাঁর নিয়ম ছিল সফর অথবা যুদ্ধকালে কোন জায়গায় অবতরণ করে, কিছু দিন অবস্থান করলে, সেখানে তিনি মসজিদ নির্মাণ করতেন এবং সাহাবাদের নিয়ে তাতে সালাত আদায় করতেন। যেমন করেছেন ‘খায়বর’ এবং ‘তাবুক’ যুদ্ধকালে। এমনিভাবে খন্দক যুদ্ধের সময়ে নির্মাণ করেছেন মসজিদুল ফাতহ। [ওফাউল ওফা বি আখবারে দারিল মুস্তফা ১০২৮-১০২৯/৩] আর এর সবই নির্দেশ করে মসজিদ নির্মাণের গুরুত্বের প্রতি এবং মুসলমান যেখানেই অবস্থান করুক সেখানে এর প্রয়োজনীয়তার উপর। এও নির্দেশ করে যে, কোন পাড়া-মহল্লাই মসজিদ শূন্য থাকতে পারেনা।

এ উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে - অপবিত্র স্থান ব্যতীত- যমীনের সব স্থানেই তাদের জন্য সালাত আদায় বৈধ করা হয়েছে । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

جُعِلَتْ لِيَ الأرْضُ مَسْجِداً وَطَهُوراً .

‘সমগ্র যমীনকে আমার জন্য পবিত্র ও সিজদার স্থান করা হয়েছে, [বুখারি, ১৭২/১ মুসলিম ৩৭৮/১ তিরমিযি,১৩৪/২]

কেননা পূর্ববর্তী উম্মতগণ কেবল নির্দিষ্ট কিছু পবিত্র স্থানেই সালাত আদায় করতে পারত। মসজিদ আল্লাহর যমীনে আল্লাহর ঘর। আল্লাহর বন্দেগিকে সমুন্নত করার স্থান। মুত্তাকিদের ইবাদতের কেন্দ্র, যেখানে মুমিনগণ প্রশিক্ষণ লাভ করে। তাইতো কুরআনের বহুস্থানে আল্লাহ তা‘আলা মসজিদকে আপন সত্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে বর্ণনা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে -

إنَّمَا يَعْمٌرٌ مَسَاجِدَ اللهِ .

‘নিশ্চয় আল্লাহর মসজিদ আবাদ করে.....’

وَأنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ .

‘নিশ্চয় মসজিদ সমূহ আল্লাহর জন্য......’

মসজিদের যদি সম্মান ও গুরুত্ব না থাকতো আল্লাহ তায়ালা মসজিদকে নিজ সত্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতেন না। সুতরাং মসজিদ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত আদায়ের স্থান। কারো মত হচ্ছে, যে স্থানে মানুষ ইবাদাত করে সেটিই মসজিদ [ইলামুল মাসজিদ ফি আহকামিল মাসজিদ পৃ: ২৭]। আর যে বিনা কারণে মসজিদ হতে বিমুখ হয় সে নিজেকে মুনাফিক হিসাবে নাম লেখায়। শাসকের উপর দায়িত্ব হল প্রজাদেরকে প্রত্যেক ওয়াক্তে জামাআতের সঙ্গে সালাত আদায়ের জন্য উপস্থিত হতে বাধ্য করা, এবং যে বিনা কারণে জামাআতে অনুপস্থিত থাকবে তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিবে। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব শাস্তি আরোপ করেন নি যেমন আগুনে ভষ্ম করা- সে সব প্রয়োগ করবে না।

মসজিদ হচ্ছে সবচেয়ে পুণ্যময় স্থান, মুসলমান যেখানে দ্বীন-দুনিয়ার যাবতীয় বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে । মসজিদ হলো ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য বিদ্যাপীঠ স্বরূপ। যার সিলেবাস হচ্ছে আল-কুরআন। যাকে গণ্য করা হয় দ্বীন এবং রাষ্টের যাবতীয় বিষয়ে আলোচনা করার উপযুক্ত স্থান হিসেবে [মাফহুমুল মসজিদ ফিল ইসলাম, ড. আলি আল কারাত,পৃ:১০৯]। যা ইসলামি জামাআতের অগ্রযাত্রা, তাদের ইবাদাত, শিক্ষা ও বিবিধ কর্মসূচির প্রচার কেন্দ্র। তাই সেখানে সালাত প্রতিষ্ঠা করা হয়, শিক্ষার আসর বসে, কুরআন হেফয, অনুবাদ-ব্যাখ্যা ইত্যাদি কর্মকান্ড চলে। এবং এখান থেকেই জিহাদি কাফেলা যাত্রা করে, এখানে আল্লাহর শরিয়ত এবং তাঁর নবীর তরিকা মত বিচারকার্য পরিচালিত হয়। এ মসজিদ হচ্ছে জীবনের সব বিষয়ের জন্য ‘বাতিঘর’ স্বরূপ।

সালাতের সাথে মসজিদের সংযুক্ততার কারণে তা হয়ে উঠেছে মুসলমানদের প্রথম ‘শিক্ষা কেন্দ্র’ আর এ রসালাতই হল দ্বীনের বুনিয়াদ ও খুঁটি। ইসলামি জামাআত তৈরীতে মসজিদরে ভূমিকা হচ্ছে মূখ্য। রাসূল স. মদিনায় হিজরত করে সর্বপ্রথম মসজিদে নববীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আর তা হয়ে উঠেছিল উম্মতকে শিক্ষা দানের মূল কেন্দ্র। সাহাবাগণ যেখানে তাঁর চারপাশে বৃত্তাকারে বসে যেতেন তাঁর মুখ:নিসৃত বাণী শ্রবণের জন্য।