১
মহা নাবীর সর্ব শেষ ওসিয়ত আস-সালাত, আস-সালাত
লেখকঃ নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪
উপসংহার:
সম্ভবত এ আলোচনা থেকে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বিষয় অনুভব করতে পেরেছি। ফিকহি আলোচনা উদ্দেশ্য ছিল না; উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে এমন কিছু প্রকাশ্য ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করা।
এসব মাসায়িল শুধু ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে তা হবে বড় বিপদ। এসব কিছুর পরও কেউ কেউ বলবে, জামাআত হল সুন্নাতে মুয়াক্কাদা অথবা ফরযে কিফায়াহ। তখন সে ঘরে সালাত আদায় করাকে পাপ বলে মনে করবেনা, আর জামাআতে অংশ গ্রহণ না করা যে মুনাফিকির নিদর্শন সে দিকে দৃষ্টিই দিবে না।
ইমাম, খতীব ও জ্ঞানী আলেম ওলামাদের অবশ্যই কর্তব্য এমন জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে খুৎবা ও ওয়াজের বিষয়বস্ত্ত বানানো। তা না হলে তারাও ভুল বুঝাবুঝি ও খারাবি বৃদ্ধির দায় এড়াতে পারবেন না।
কারণ মানুষ এসব মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে জানার জন্য তাদের দারস্থ হয় -যা ছিল তাদের [ওলামাদের] প্রধান দায়িত্ব- আর তারা এসব বুনিয়াদি বিষয়বস্ত্তকে পাশ কাটিয়ে শ্রোতাদের দৃষ্টি এমন সব কিচ্ছা কাহিনীর দিকে ফিরিয়ে দিলেন, সমস্যার সাথে যার দূরতম সম্পর্কও নেই। ফলে ভুল ভুলই থেকে গেল। যা শোনানো হল এবং যা শুনল কোনই কাজে আসল না। অনুরূপ ভাবে মসজিদগুলোতে ফজরের পর দ্বীনী তা’লীমের ব্যবস্থা গ্রহণ করাও অতীব জরুরী। আর ঈমানদার নির্ণয়ের বড় মাপকাঠি হওয়া উচিত ফজরে মসজিদে উপস্থিত হওয়া।
সুন্দর সুন্দর কথা, হাসিখুশি চেহারা, অধিক গল্পে মেলামেশা সততা ও ঈমানের নিদর্শন নয়। অনেক খতীব আছেন -ভাষাবিদ, বাগ্মী, কথার জাদুকর- কিন্তু সূর্য কিরণ ছড়ানোর পূর্বমুহূর্তে কোন যুবক বা কিশোরকে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে হয়। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সত্য উচ্চারণ করা ও পরস্পর একে অপরের হিতাকাঙ্খী হওয়া; সঙ্গি-সাথি, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক ও মুরবিবদের সাথে মোসাহেবি নয়। এতে উম্মতের কল্যাণ চলে যায়।
অনেক গুনাহের কাজ ছোট আকারে শুরু হয়। সে সম্পর্কে মানুষ নীরব থাকে,বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয় না। পরে এক সময় এটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। যেখানে আর ব্যক্তিগতভাবে আদেশ নিষেধ কঠিন হয়ে পড়ে।
সুতরাং বর্তমানে যে বে পর্দা, মদের আসর, নাচ-গানের আসর, ধূমপান, দাড়ি কামানো, সালাতে অবহেলা, সুদ খাওয়া, কাজ কারবারে ঘুষের বিস্তৃতি ইত্যাদি। এসব এত ব্যাপক হয়েছে শুরুতে সংশোধনের প্রতি উদাসীনতা-অবহেলার কারণে।
হে আল্লাহর বান্দা! সালাতে একাগ্রতা এবং বিনম্র্তার গুরুত্ব ভুলে যাবেন না। কারণ সালাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর বড় উদ্দেশ্যই হল একাগ্রতা ও বিনম্র্তা।
আপনার হৃদয়ে যে পরিমাণ একাগ্রতা, বিনম্র্তা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সালাত আদায়ে অনুসরণ হবে রাসূল স. এর সালাতের, ঠিক সে অনুপাতেই আপনি এর প্রতিদান পাবেন।এর প্রতি ইংগিত করে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন।
إنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
‘নিশ্চয় সালাত অশীল ও মন্দ কাজ হতে বিরত রাখে’। [আনকাবুত : ৪৫]
এমন অনেক আসবাব-উপকরণ রয়েছে , যার কারণে অনেক জাতি গোষ্ঠী বিলীন হয়ে গিয়েছে বা ধ্বংসের দারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছেছে । সে সব কার্যকারণ অস্পষ্ট ও অপ্রকাশ্য থাকায় সমাজ বিজ্ঞানীরা তা উদ্ঘাটন করতে পারেনি বা বিলম্বে উদ্ঘাটিত হয়েছে।কিন্তু ক্ষতি যা হবার হয়েই গিয়েছে। আমি এ পুস্তিকাতে সে সব কার্যকারণ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করেছি।
পরিশেষে আল্লাহর কাছে আমার ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা চাই। তিনি যেন আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে আমার গোনাহ মাফ এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে কবুল করেন। প্রত্যেক মুসলিম পাঠকের কাছে সংকলকের পক্ষ থেকে বিনীত প্রত্যাশা তারা যেন তার জন্য ক্ষমা এবং খাতিমা বিল খাইরের দু‘আ করেন।
سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلاأنت أستغفرك وأتوب إليك .
সমাপ্ত
এসব মাসায়িল শুধু ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে তা হবে বড় বিপদ। এসব কিছুর পরও কেউ কেউ বলবে, জামাআত হল সুন্নাতে মুয়াক্কাদা অথবা ফরযে কিফায়াহ। তখন সে ঘরে সালাত আদায় করাকে পাপ বলে মনে করবেনা, আর জামাআতে অংশ গ্রহণ না করা যে মুনাফিকির নিদর্শন সে দিকে দৃষ্টিই দিবে না।
ইমাম, খতীব ও জ্ঞানী আলেম ওলামাদের অবশ্যই কর্তব্য এমন জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে খুৎবা ও ওয়াজের বিষয়বস্ত্ত বানানো। তা না হলে তারাও ভুল বুঝাবুঝি ও খারাবি বৃদ্ধির দায় এড়াতে পারবেন না।
কারণ মানুষ এসব মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে জানার জন্য তাদের দারস্থ হয় -যা ছিল তাদের [ওলামাদের] প্রধান দায়িত্ব- আর তারা এসব বুনিয়াদি বিষয়বস্ত্তকে পাশ কাটিয়ে শ্রোতাদের দৃষ্টি এমন সব কিচ্ছা কাহিনীর দিকে ফিরিয়ে দিলেন, সমস্যার সাথে যার দূরতম সম্পর্কও নেই। ফলে ভুল ভুলই থেকে গেল। যা শোনানো হল এবং যা শুনল কোনই কাজে আসল না। অনুরূপ ভাবে মসজিদগুলোতে ফজরের পর দ্বীনী তা’লীমের ব্যবস্থা গ্রহণ করাও অতীব জরুরী। আর ঈমানদার নির্ণয়ের বড় মাপকাঠি হওয়া উচিত ফজরে মসজিদে উপস্থিত হওয়া।
সুন্দর সুন্দর কথা, হাসিখুশি চেহারা, অধিক গল্পে মেলামেশা সততা ও ঈমানের নিদর্শন নয়। অনেক খতীব আছেন -ভাষাবিদ, বাগ্মী, কথার জাদুকর- কিন্তু সূর্য কিরণ ছড়ানোর পূর্বমুহূর্তে কোন যুবক বা কিশোরকে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে হয়। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সত্য উচ্চারণ করা ও পরস্পর একে অপরের হিতাকাঙ্খী হওয়া; সঙ্গি-সাথি, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক ও মুরবিবদের সাথে মোসাহেবি নয়। এতে উম্মতের কল্যাণ চলে যায়।
অনেক গুনাহের কাজ ছোট আকারে শুরু হয়। সে সম্পর্কে মানুষ নীরব থাকে,বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয় না। পরে এক সময় এটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। যেখানে আর ব্যক্তিগতভাবে আদেশ নিষেধ কঠিন হয়ে পড়ে।
সুতরাং বর্তমানে যে বে পর্দা, মদের আসর, নাচ-গানের আসর, ধূমপান, দাড়ি কামানো, সালাতে অবহেলা, সুদ খাওয়া, কাজ কারবারে ঘুষের বিস্তৃতি ইত্যাদি। এসব এত ব্যাপক হয়েছে শুরুতে সংশোধনের প্রতি উদাসীনতা-অবহেলার কারণে।
হে আল্লাহর বান্দা! সালাতে একাগ্রতা এবং বিনম্র্তার গুরুত্ব ভুলে যাবেন না। কারণ সালাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর বড় উদ্দেশ্যই হল একাগ্রতা ও বিনম্র্তা।
আপনার হৃদয়ে যে পরিমাণ একাগ্রতা, বিনম্র্তা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সালাত আদায়ে অনুসরণ হবে রাসূল স. এর সালাতের, ঠিক সে অনুপাতেই আপনি এর প্রতিদান পাবেন।এর প্রতি ইংগিত করে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন।
إنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
‘নিশ্চয় সালাত অশীল ও মন্দ কাজ হতে বিরত রাখে’। [আনকাবুত : ৪৫]
এমন অনেক আসবাব-উপকরণ রয়েছে , যার কারণে অনেক জাতি গোষ্ঠী বিলীন হয়ে গিয়েছে বা ধ্বংসের দারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছেছে । সে সব কার্যকারণ অস্পষ্ট ও অপ্রকাশ্য থাকায় সমাজ বিজ্ঞানীরা তা উদ্ঘাটন করতে পারেনি বা বিলম্বে উদ্ঘাটিত হয়েছে।কিন্তু ক্ষতি যা হবার হয়েই গিয়েছে। আমি এ পুস্তিকাতে সে সব কার্যকারণ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করেছি।
পরিশেষে আল্লাহর কাছে আমার ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা চাই। তিনি যেন আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে আমার গোনাহ মাফ এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে কবুল করেন। প্রত্যেক মুসলিম পাঠকের কাছে সংকলকের পক্ষ থেকে বিনীত প্রত্যাশা তারা যেন তার জন্য ক্ষমা এবং খাতিমা বিল খাইরের দু‘আ করেন।
سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلاأنت أستغفرك وأتوب إليك .
সমাপ্ত