১
ইলমে গায়েব
লেখকঃ অধ্যাপক আবদুন নূর সালাফী (রহ.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
সাধু মহাজনগণকে কেন্দ্র করে নরপূজার সৃষ্টি
পৃথিবীতে সাধু মহাজনগণকে কেন্দ্র করে নরপূজার সৃষ্টি হয়েছে। যখনই মানুষ আমাদের নবী ও রসূলকে অতি মানব বলে আখ্যায়িত করেছে, তখনই তারা প্রথমতঃ নবী ও রসূলগণকে অস্বীকার করেছে এবং অস্বীকার করেছে তাদের প্রচারিত তওহীদকে।
আল্লাহ রাব্বল আলামীন হযরত মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বারা ঘোষণা করেন যে, তিনি (নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অতি মানব নন এবং গায়েব জানেন না। এরশাদ হচ্ছে
(আরবী)
বলে দাওঃ আমি তোমাদেরকে একথা বলি না যে, গায়েবের ভাণ্ডারগুলো আমার অধিকারে আছে। আর না আমি গায়েব জানি। আমার কথা এরও নয় যে, আমি (অতি মানব) ফেরেশতা। আমার মর্যাদা এতটুকু যে, আমি আল্লাহর প্রত্যাদেশ অনুযায়ী চলি। আর এ পথে চলার জন্য তোমাদেরকেও আহ্বান করি। সূরা আল-আনআম ৫০ )
উক্ত আয়াতে হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেছেন : “আমি গায়েব জানি না এবং আমি (অতি মানব) ফেরেশতাও নই”। তবুও যদি কেউ বলে যে, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয়াবনত হয়ে বলেছেন যে, তিনি গায়েব জানেন না, আসলে তিনি গায়েব জানতেন- তাহলে আমরা কুরআন মাজীদের পরিপন্থী আকীদা পোষণকারীকে সত্যবাদী বলব, না আল্লাহকে সত্যবাদী বলব? অন্ততঃ কোন মুসলমান আল্লাহর আদেশের পরিপন্থী মত বা আকীদা পোষণ করতে পারে না। কারণ, আল্লাহর কালাম তাঁর শেষ সিদ্ধান্ত হিসাবে উক্ত মত ঘোষণা করেছে।
ইয়াহুদীরা বলেছিলঃ “আমরা আল্লাহর কালাম শ্রবণ করলাম বটে কিন্তু মানলাম না।” মুসলমান কিন্তু ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের মত নয়। যদি কেউ ইয়াহুদীদের মতো মত পোষণ করে, তবে সেও তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। বলা বাহুল্য, সব সমাজেই প্রায় নবী ও রসূলগণকে অতি মানব এবং গায়েব দা বলার জন্যে নরপূজার সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম সমাজেও সে আঁচ লেগেছে। কারণ মুসলমানগণও আমাদের প্রিয় নবীকে অতি মানব এবং গায়েব জান্ত বলে আখ্যায়িত করেছে। এমনকি অনেক সীমালঙ্ঘনকারী রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবতার পর্যন্ত বলেছে।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদ লিখেছেন : (তর্জুমানুল কুরআন থেকে অনুবাদ করছি) আবহমান কাল থেকে মানুষের সাধারণ ভ্রষ্টতা এই ছিল যে, তারা সৃষ্টির অভ্যন্তরের ও বাইরের আশ্চর্য রহস্য উদঘাটন করতে উদগ্রীব এবং এ স্পৃহাই তাদেরকে সত্যের সোজা পথকে যথেষ্ট বিবেচনা করাতে পারেনি। ফলে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা আমাদের ধর্মকে খেয়ালী পূজার রাস্তা বানিয়েছে। এ কারণেই তারা নিজেদের ধর্ম যাজকদেরকে অতি মানব বলে ধারণা করে নিয়েছে এবং তাদেরকে পরম পূজনীয় বলে মনে করেছে, এমনকি তাদেরকে আল্লাহর মর্যাদায় পর্যন্ত পৌছিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু কুরআন মাজীদ পাঠানো হয়েছে সমস্ত পথভ্রষ্টতার পথ রোধ করার উদ্দেশ্যে। সূরা আনআমের ৫০নং আয়াতে ইসলামের পয়গাম্বরের মর্যাদা বর্ণনা করে বলা হয়েছে, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার দাবী কেবলমাত্র এই যে, আমি আল্লাহর প্রত্যাদেশ মতে সত্য পথ দেখিয়ে দিয়েছি। আমি নিজেও এ পথে চলি, অপরকেও এ পথে চলার আহ্বান করি মাত্র। একথা ব্যতীত অন্য কোন কিছুর কথা বলি না।” তর্জুমানুল কুরআন ৪৪৮ পৃঃ)
আল্লাহ রাব্বল আলামীন হযরত মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বারা ঘোষণা করেন যে, তিনি (নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অতি মানব নন এবং গায়েব জানেন না। এরশাদ হচ্ছে
(আরবী)
বলে দাওঃ আমি তোমাদেরকে একথা বলি না যে, গায়েবের ভাণ্ডারগুলো আমার অধিকারে আছে। আর না আমি গায়েব জানি। আমার কথা এরও নয় যে, আমি (অতি মানব) ফেরেশতা। আমার মর্যাদা এতটুকু যে, আমি আল্লাহর প্রত্যাদেশ অনুযায়ী চলি। আর এ পথে চলার জন্য তোমাদেরকেও আহ্বান করি। সূরা আল-আনআম ৫০ )
উক্ত আয়াতে হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেছেন : “আমি গায়েব জানি না এবং আমি (অতি মানব) ফেরেশতাও নই”। তবুও যদি কেউ বলে যে, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয়াবনত হয়ে বলেছেন যে, তিনি গায়েব জানেন না, আসলে তিনি গায়েব জানতেন- তাহলে আমরা কুরআন মাজীদের পরিপন্থী আকীদা পোষণকারীকে সত্যবাদী বলব, না আল্লাহকে সত্যবাদী বলব? অন্ততঃ কোন মুসলমান আল্লাহর আদেশের পরিপন্থী মত বা আকীদা পোষণ করতে পারে না। কারণ, আল্লাহর কালাম তাঁর শেষ সিদ্ধান্ত হিসাবে উক্ত মত ঘোষণা করেছে।
ইয়াহুদীরা বলেছিলঃ “আমরা আল্লাহর কালাম শ্রবণ করলাম বটে কিন্তু মানলাম না।” মুসলমান কিন্তু ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের মত নয়। যদি কেউ ইয়াহুদীদের মতো মত পোষণ করে, তবে সেও তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। বলা বাহুল্য, সব সমাজেই প্রায় নবী ও রসূলগণকে অতি মানব এবং গায়েব দা বলার জন্যে নরপূজার সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম সমাজেও সে আঁচ লেগেছে। কারণ মুসলমানগণও আমাদের প্রিয় নবীকে অতি মানব এবং গায়েব জান্ত বলে আখ্যায়িত করেছে। এমনকি অনেক সীমালঙ্ঘনকারী রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবতার পর্যন্ত বলেছে।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদ লিখেছেন : (তর্জুমানুল কুরআন থেকে অনুবাদ করছি) আবহমান কাল থেকে মানুষের সাধারণ ভ্রষ্টতা এই ছিল যে, তারা সৃষ্টির অভ্যন্তরের ও বাইরের আশ্চর্য রহস্য উদঘাটন করতে উদগ্রীব এবং এ স্পৃহাই তাদেরকে সত্যের সোজা পথকে যথেষ্ট বিবেচনা করাতে পারেনি। ফলে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা আমাদের ধর্মকে খেয়ালী পূজার রাস্তা বানিয়েছে। এ কারণেই তারা নিজেদের ধর্ম যাজকদেরকে অতি মানব বলে ধারণা করে নিয়েছে এবং তাদেরকে পরম পূজনীয় বলে মনে করেছে, এমনকি তাদেরকে আল্লাহর মর্যাদায় পর্যন্ত পৌছিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু কুরআন মাজীদ পাঠানো হয়েছে সমস্ত পথভ্রষ্টতার পথ রোধ করার উদ্দেশ্যে। সূরা আনআমের ৫০নং আয়াতে ইসলামের পয়গাম্বরের মর্যাদা বর্ণনা করে বলা হয়েছে, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার দাবী কেবলমাত্র এই যে, আমি আল্লাহর প্রত্যাদেশ মতে সত্য পথ দেখিয়ে দিয়েছি। আমি নিজেও এ পথে চলি, অপরকেও এ পথে চলার আহ্বান করি মাত্র। একথা ব্যতীত অন্য কোন কিছুর কথা বলি না।” তর্জুমানুল কুরআন ৪৪৮ পৃঃ)