১
কুরআন ও সুন্নাহ’য় বর্ণিত শাফা‘আত এবং শাফা‘আতকারী
লেখকঃ শাইখ ইবরাহীম ইবন আবদিল্লাহ আল-হাযেমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
শাফা‘আত লাভের অন্যতম একটি উপায় হলো মদীনায় বসবাস করা এবং সেখানে মারা যাবে
৭০. মাহরীর আযাদকৃত গোলাম আবূ সা‘ঈদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«أَنَّهُ جَاءَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِىَّ لَيَالِىَ الْحَرَّةِ فَاسْتَشَارَهُ فِى الْجَلاَءِ مِنَ الْمَدِينَةِ وَشَكَا إِلَيْهِ أَسْعَارَهَا , وَكَثْرَةَ عِيَالِهِ , وَأَخْبَرَهُ أَنْ لاَ صَبْرَ لَهُ عَلَى جَهْدِ الْمَدِينَةِ وَلأْوَائِهَا . فَقَالَ لَهُ : وَيْحَكَ لاَ آمُرُكَ بِذَلِكَ إِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «لاَ يَصْبِرُ أَحَدٌ عَلَى لأْوَائِهَا فَيَمُوتَ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا كَانَ مُسْلِمًا» .
“তিনি হাররা [ইয়াযিদের সেনাপতি কর্তৃক মদীনা আক্রান্ত হয়ে সেখানকার মানুষ অমানষিক কষ্টের মধ্যে পড়েন। সে ঘটনায় মদীনার হাররায় বহু লোক মারা যায়। ইতিহাসে সেটা ‘হাররা’র ঘটনা নামে খ্যাত। [সম্পাদক]] ঘটনার সময় কোনো এক রাত্রে আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট আগমন করেন; তারপর তিনি মদীনা ত্যাগের ব্যাপারে তাঁর নিকট পরামর্শ চাইলেন এবং তাঁর নিকট মদীনার দ্রব্যমূল্য ও তার পরিবারের লোকসংখ্যার আধিক্যের ব্যাপারে অনুযোগ করলেন, আর তাকে জানিয়ে দিলেন যে, মদীনার কষ্ট ও তার দুর্বিষহ জীবনযাপনে তার কোনো প্রকার ধৈর্য নেই। তখন সাহাবী তাকে বললেন: তোমার জন্য আফসোস! আমি তোমাকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেই না, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে কোনো ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, তারপর মারা যাবে, আমি কিয়ামতের দিনে তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব, যখন সে মুসলিম হবে”। [সহীহ মুসলিম (২/১০০২); আহমদ (৩/২৯)।]
৭১. আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«مَنْ صَبَرَ عَلَى لأْوَائِهَا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .
“যে ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, আমি কিয়ামতের দিনে তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব।” [সহীহ মুসলিম (২/১০০৪)।]
৭২. যোবায়েরের আযাদকৃত গোলাম ইউহান্নেস থেকে বর্ণিত, তার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা’র নিকটে বিপর্যস্ত [আর তা হলো ইয়াযিদের যামানায় সংঘটিত উত্তপ্ত পরিস্থিতি।] পরিস্থিতে বসা ছিলেন; অতঃপর তাঁর নিকট তাঁর আযাদ করা এক দাসী এসে তাঁকে সালাম পেশ করল, তারপর বলল:
«إِنِّى أَرَدْتُ الْخُرُوجَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ اشْتَدَّ عَلَيْنَا الزَّمَانُ . فَقَالَ لَهَا عَبْدُ اللَّهِ : اقْعُدِى لَكَاعِ فَإِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «لاَ يَصْبِرُ عَلَى لأْوَائِهَا وَشِدَّتِهَا أَحَدٌ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَهِيدًا أَوْ شَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .
“হে আবূ আবদির রহমান! আমি (মদীনা থেকে) বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি, আমাদের ওপর যুগ-যামানা কঠোর হয়ে গেছে। অতঃপর আবদুল্লাহ তাকে বললেন: বোকা মেয়ে, তুমি বস। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে কোনো ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ ও কঠিন জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, আমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব”। [সহীহ মুসলিম (২/১০০৪)]
৭৩. সুফিয়া বিনতে আবি ‘উবাইদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
« من استطاع منكم أن لا يموت إلا بالمدينة فليمت بها ، فإنه من يمت بها يشفع له ويشهد له » .
“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মদীনাতেই মারা যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, সে যেন সেখানে মারা যায়। কারণ, যে ব্যক্তি সেখানে মারা যাবে, তার জন্য তিনি সুপারিশ করবেন এবং তার পক্ষে তিনি সাক্ষ্য দিবেন”। [ইবন হিব্বান, পৃ. ২৫৫; হাদীসটি ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত।]
৭৪. আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«من استطاع أن يموت بالمدينة فليمت بها , فإني أشفع لمن يموت بها» .
“যে ব্যক্তির মদীনায় মারা যাওয়ার সামর্থ্য আছে, সে যেন সেখানে মারা যায়। কারণ, যে ব্যক্তি তাতে মারা যাবে, আমি তার জন্য সুপারিশ করব।” [আহমদ (২/৭৪ এবং ১০৪); তিরমিযী (৫/২৭৭) এবং তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
«أَنَّهُ جَاءَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِىَّ لَيَالِىَ الْحَرَّةِ فَاسْتَشَارَهُ فِى الْجَلاَءِ مِنَ الْمَدِينَةِ وَشَكَا إِلَيْهِ أَسْعَارَهَا , وَكَثْرَةَ عِيَالِهِ , وَأَخْبَرَهُ أَنْ لاَ صَبْرَ لَهُ عَلَى جَهْدِ الْمَدِينَةِ وَلأْوَائِهَا . فَقَالَ لَهُ : وَيْحَكَ لاَ آمُرُكَ بِذَلِكَ إِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «لاَ يَصْبِرُ أَحَدٌ عَلَى لأْوَائِهَا فَيَمُوتَ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا كَانَ مُسْلِمًا» .
“তিনি হাররা [ইয়াযিদের সেনাপতি কর্তৃক মদীনা আক্রান্ত হয়ে সেখানকার মানুষ অমানষিক কষ্টের মধ্যে পড়েন। সে ঘটনায় মদীনার হাররায় বহু লোক মারা যায়। ইতিহাসে সেটা ‘হাররা’র ঘটনা নামে খ্যাত। [সম্পাদক]] ঘটনার সময় কোনো এক রাত্রে আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট আগমন করেন; তারপর তিনি মদীনা ত্যাগের ব্যাপারে তাঁর নিকট পরামর্শ চাইলেন এবং তাঁর নিকট মদীনার দ্রব্যমূল্য ও তার পরিবারের লোকসংখ্যার আধিক্যের ব্যাপারে অনুযোগ করলেন, আর তাকে জানিয়ে দিলেন যে, মদীনার কষ্ট ও তার দুর্বিষহ জীবনযাপনে তার কোনো প্রকার ধৈর্য নেই। তখন সাহাবী তাকে বললেন: তোমার জন্য আফসোস! আমি তোমাকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেই না, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে কোনো ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, তারপর মারা যাবে, আমি কিয়ামতের দিনে তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব, যখন সে মুসলিম হবে”। [সহীহ মুসলিম (২/১০০২); আহমদ (৩/২৯)।]
৭১. আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«مَنْ صَبَرَ عَلَى لأْوَائِهَا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .
“যে ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, আমি কিয়ামতের দিনে তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব।” [সহীহ মুসলিম (২/১০০৪)।]
৭২. যোবায়েরের আযাদকৃত গোলাম ইউহান্নেস থেকে বর্ণিত, তার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা’র নিকটে বিপর্যস্ত [আর তা হলো ইয়াযিদের যামানায় সংঘটিত উত্তপ্ত পরিস্থিতি।] পরিস্থিতে বসা ছিলেন; অতঃপর তাঁর নিকট তাঁর আযাদ করা এক দাসী এসে তাঁকে সালাম পেশ করল, তারপর বলল:
«إِنِّى أَرَدْتُ الْخُرُوجَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ اشْتَدَّ عَلَيْنَا الزَّمَانُ . فَقَالَ لَهَا عَبْدُ اللَّهِ : اقْعُدِى لَكَاعِ فَإِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «لاَ يَصْبِرُ عَلَى لأْوَائِهَا وَشِدَّتِهَا أَحَدٌ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَهِيدًا أَوْ شَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .
“হে আবূ আবদির রহমান! আমি (মদীনা থেকে) বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি, আমাদের ওপর যুগ-যামানা কঠোর হয়ে গেছে। অতঃপর আবদুল্লাহ তাকে বললেন: বোকা মেয়ে, তুমি বস। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে কোনো ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ ও কঠিন জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, আমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব”। [সহীহ মুসলিম (২/১০০৪)]
৭৩. সুফিয়া বিনতে আবি ‘উবাইদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
« من استطاع منكم أن لا يموت إلا بالمدينة فليمت بها ، فإنه من يمت بها يشفع له ويشهد له » .
“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মদীনাতেই মারা যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, সে যেন সেখানে মারা যায়। কারণ, যে ব্যক্তি সেখানে মারা যাবে, তার জন্য তিনি সুপারিশ করবেন এবং তার পক্ষে তিনি সাক্ষ্য দিবেন”। [ইবন হিব্বান, পৃ. ২৫৫; হাদীসটি ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত।]
৭৪. আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«من استطاع أن يموت بالمدينة فليمت بها , فإني أشفع لمن يموت بها» .
“যে ব্যক্তির মদীনায় মারা যাওয়ার সামর্থ্য আছে, সে যেন সেখানে মারা যায়। কারণ, যে ব্যক্তি তাতে মারা যাবে, আমি তার জন্য সুপারিশ করব।” [আহমদ (২/৭৪ এবং ১০৪); তিরমিযী (৫/২৭৭) এবং তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]