১
কুরআন ও সুন্নাহ’য় বর্ণিত শাফা‘আত এবং শাফা‘আতকারী
লেখকঃ শাইখ ইবরাহীম ইবন আবদিল্লাহ আল-হাযেমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
যে সকল আয়াতে শাফা‘আত ও শাফা‘আতকারী সাব্যস্ত করা হয়েছে
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ ﴾ [ البقرة : ٢٥٥ ]
“কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿مَا مِن شَفِيعٍ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ إِذۡنِهِۦۚ ﴾ [ يونس : ٣ ]
“তাঁর অনুমতি লাভ না করে সুপারিশ করার কেউ নেই।” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৩] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَقَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَلَدٗاۗ سُبۡحَٰنَهُۥۚ بَلۡ عِبَادٞ مُّكۡرَمُونَ ٢٦ لَا يَسۡبِقُونَهُۥ بِٱلۡقَوۡلِ وَهُم بِأَمۡرِهِۦ يَعۡمَلُونَ ٢٧ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يَشۡفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ٱرۡتَضَىٰ وَهُم مِّنۡ خَشۡيَتِهِۦ مُشۡفِقُونَ ٢٨﴾ [ الانبياء : ٢٦، ٢٨ ]
“আর তারা বলে, ‘দয়াময় (আল্লাহ) সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র মহান! তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা। তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না; তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে থাকে। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা সবই তিনি জানেন। আর তারা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্যই, যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৬-২৮]
এসব আয়াতে শর্তসাপেক্ষে শাফা‘আতকারীর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে; অচিরেই সে শর্তগুলোর বিবরণ আসবে ইনশাআল্লাহ।
তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
﴿وَيَسَۡٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡجِبَالِ فَقُلۡ يَنسِفُهَا رَبِّي نَسۡفٗا ١٠٥ فَيَذَرُهَا قَاعٗا صَفۡصَفٗا ١٠٦ لَّا تَرَىٰ فِيهَا عِوَجٗا وَلَآ أَمۡتٗا ١٠٧ يَوۡمَئِذٖ يَتَّبِعُونَ ٱلدَّاعِيَ لَا عِوَجَ لَهُۥۖ وَخَشَعَتِ ٱلۡأَصۡوَاتُ لِلرَّحۡمَٰنِ فَلَا تَسۡمَعُ إِلَّا هَمۡسٗا ١٠٨ يَوۡمَئِذٖ لَّا تَنفَعُ ٱلشَّفَٰعَةُ إِلَّا مَنۡ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَرَضِيَ لَهُۥ قَوۡلٗا ١٠٩ ﴾ [ طه : ١٠٥، ١٠٩ ]
“আর তারা আপনাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, ‘আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন। ‘তারপর তিনি তাকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল ময়দানে, যাতে আপনি বাঁকা ও উঁচু দেখবেন না।’ সেদিন তারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, এ ব্যাপারে এদিক ওদিক করতে পারবে না। আর দয়াময়ের সামনে সমস্ত শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে; কাজেই মৃদু ধ্বনি ছাড়া আপনি কিছুই শুনবেন না। দয়াময় যাকে অনুমতি দিবেন ও যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন, সে ছাড়া কারো সুপারিশ সেদিন কোনো কাজে আসবে না।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ১০৫-১০৯] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَلَا يَمۡلِكُ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ مِن دُونِهِ ٱلشَّفَٰعَةَ إِلَّا مَن شَهِدَ بِٱلۡحَقِّ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ ٨٦﴾ [ الزخرف : ٨٦ ]
“আর তিনি ছাড়া তারা যাদেরকে ডাকে, তারা সুপারিশের মালিক হবে না, তবে তারা ছাড়া, যারা জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয়।” [সূরা যুখরুফ, আয়াত: ৮৬]
হাফেয ইবন কাসীর রহ. বলেন: তারপর আল্লাহ্ বলেন: ‘আর তিনি ব্যতীত তারা দেব-দেবী ও মূর্তিসমূহের মধ্য থেকে যাদেরকে ডাকে, তারা সুপারিশের মালিক হবে না; অর্থাৎ তারা তাদের জন্য সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে না। আর আয়াতে আল্লাহর বাণী,
﴿إِلَّا مَن شَهِدَ بِٱلۡحَقِّ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ﴾
“তবে তারা ছাড়া, যারা জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয়” –এটা استثناء منقطع তথা ভিন্ন শ্রেণি থেকে ব্যতিক্রম বর্ণনা [আরবী استثناء এর অর্থ, কোনো কিছুকে ব্যতিক্রম বলা। এই ব্যতিক্রম দুই প্রকার; কখনো কখনো পূর্বোল্লোখিত কথা বা বিধান থেকে ব্যতিক্রম বলা উদ্দেশ্য হয়। তখন এটাকে বলা হয়, استثناء متصل , যা এখানে উদ্দেশ্য নয়। আবার কখনও কখনও নতুন একটি ভিন্নধর্মী ব্যতিক্রম উল্লেখ করা উদ্দেশ্য হয়, যার সাথে পূর্বোক্ত বিধান বা কথার সম্পৃক্ততা থাকে না। এটাকেই বলা হয়, استثناء منقطع হাফেয ইবনে কাসীরের মতে এটাই এখানে উদ্দেশ্য। কারণ, যদি পূর্বোক্ত কথা বা বিধান থেকে এখানে ব্যতিক্রম বলা উদ্দেশ্য ধরা হয়, তবে সেখানে আল্লাহ ছাড়া আরও অন্যান্যদের জন্য শাফা‘আতের মালিকানা সাব্যস্ত করতে হয়, যা অন্যান্য আয়াতের পরিপন্থি।] অর্থাৎ কিন্তু যে বুদ্ধিমত্তার সাথে জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয়, তাঁর নিকট তাঁর অনুমতি সাপেক্ষ তার সুপারিশ তাকে উপকৃত করবে।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَكَم مِّن مَّلَكٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغۡنِي شَفَٰعَتُهُمۡ شَيًۡٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن يَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرۡضَىٰٓ ٢٦ ﴾ [ النجم : ٢٦ ]
আর আসমানসমূহে বহু ফিরিশতা রয়েছে, তাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হবে না, তবে আল্লাহর অনুমতির পর; যার জন্য তিনি ইচ্ছে করেন ও যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ২৬]
এই আয়াতসমূহ শর্তসাপেক্ষে শাফা‘আত সাব্যস্ত করার ওপর প্রমাণবহ। অচিরেই সে শর্তসমূহের বর্ণনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
﴿مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ ﴾ [ البقرة : ٢٥٥ ]
“কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿مَا مِن شَفِيعٍ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ إِذۡنِهِۦۚ ﴾ [ يونس : ٣ ]
“তাঁর অনুমতি লাভ না করে সুপারিশ করার কেউ নেই।” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৩] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَقَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَلَدٗاۗ سُبۡحَٰنَهُۥۚ بَلۡ عِبَادٞ مُّكۡرَمُونَ ٢٦ لَا يَسۡبِقُونَهُۥ بِٱلۡقَوۡلِ وَهُم بِأَمۡرِهِۦ يَعۡمَلُونَ ٢٧ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يَشۡفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ٱرۡتَضَىٰ وَهُم مِّنۡ خَشۡيَتِهِۦ مُشۡفِقُونَ ٢٨﴾ [ الانبياء : ٢٦، ٢٨ ]
“আর তারা বলে, ‘দয়াময় (আল্লাহ) সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র মহান! তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা। তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না; তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে থাকে। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা সবই তিনি জানেন। আর তারা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্যই, যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৬-২৮]
এসব আয়াতে শর্তসাপেক্ষে শাফা‘আতকারীর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে; অচিরেই সে শর্তগুলোর বিবরণ আসবে ইনশাআল্লাহ।
তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
﴿وَيَسَۡٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡجِبَالِ فَقُلۡ يَنسِفُهَا رَبِّي نَسۡفٗا ١٠٥ فَيَذَرُهَا قَاعٗا صَفۡصَفٗا ١٠٦ لَّا تَرَىٰ فِيهَا عِوَجٗا وَلَآ أَمۡتٗا ١٠٧ يَوۡمَئِذٖ يَتَّبِعُونَ ٱلدَّاعِيَ لَا عِوَجَ لَهُۥۖ وَخَشَعَتِ ٱلۡأَصۡوَاتُ لِلرَّحۡمَٰنِ فَلَا تَسۡمَعُ إِلَّا هَمۡسٗا ١٠٨ يَوۡمَئِذٖ لَّا تَنفَعُ ٱلشَّفَٰعَةُ إِلَّا مَنۡ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَرَضِيَ لَهُۥ قَوۡلٗا ١٠٩ ﴾ [ طه : ١٠٥، ١٠٩ ]
“আর তারা আপনাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, ‘আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন। ‘তারপর তিনি তাকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল ময়দানে, যাতে আপনি বাঁকা ও উঁচু দেখবেন না।’ সেদিন তারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, এ ব্যাপারে এদিক ওদিক করতে পারবে না। আর দয়াময়ের সামনে সমস্ত শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে; কাজেই মৃদু ধ্বনি ছাড়া আপনি কিছুই শুনবেন না। দয়াময় যাকে অনুমতি দিবেন ও যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন, সে ছাড়া কারো সুপারিশ সেদিন কোনো কাজে আসবে না।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ১০৫-১০৯] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَلَا يَمۡلِكُ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ مِن دُونِهِ ٱلشَّفَٰعَةَ إِلَّا مَن شَهِدَ بِٱلۡحَقِّ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ ٨٦﴾ [ الزخرف : ٨٦ ]
“আর তিনি ছাড়া তারা যাদেরকে ডাকে, তারা সুপারিশের মালিক হবে না, তবে তারা ছাড়া, যারা জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয়।” [সূরা যুখরুফ, আয়াত: ৮৬]
হাফেয ইবন কাসীর রহ. বলেন: তারপর আল্লাহ্ বলেন: ‘আর তিনি ব্যতীত তারা দেব-দেবী ও মূর্তিসমূহের মধ্য থেকে যাদেরকে ডাকে, তারা সুপারিশের মালিক হবে না; অর্থাৎ তারা তাদের জন্য সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে না। আর আয়াতে আল্লাহর বাণী,
﴿إِلَّا مَن شَهِدَ بِٱلۡحَقِّ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ﴾
“তবে তারা ছাড়া, যারা জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয়” –এটা استثناء منقطع তথা ভিন্ন শ্রেণি থেকে ব্যতিক্রম বর্ণনা [আরবী استثناء এর অর্থ, কোনো কিছুকে ব্যতিক্রম বলা। এই ব্যতিক্রম দুই প্রকার; কখনো কখনো পূর্বোল্লোখিত কথা বা বিধান থেকে ব্যতিক্রম বলা উদ্দেশ্য হয়। তখন এটাকে বলা হয়, استثناء متصل , যা এখানে উদ্দেশ্য নয়। আবার কখনও কখনও নতুন একটি ভিন্নধর্মী ব্যতিক্রম উল্লেখ করা উদ্দেশ্য হয়, যার সাথে পূর্বোক্ত বিধান বা কথার সম্পৃক্ততা থাকে না। এটাকেই বলা হয়, استثناء منقطع হাফেয ইবনে কাসীরের মতে এটাই এখানে উদ্দেশ্য। কারণ, যদি পূর্বোক্ত কথা বা বিধান থেকে এখানে ব্যতিক্রম বলা উদ্দেশ্য ধরা হয়, তবে সেখানে আল্লাহ ছাড়া আরও অন্যান্যদের জন্য শাফা‘আতের মালিকানা সাব্যস্ত করতে হয়, যা অন্যান্য আয়াতের পরিপন্থি।] অর্থাৎ কিন্তু যে বুদ্ধিমত্তার সাথে জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয়, তাঁর নিকট তাঁর অনুমতি সাপেক্ষ তার সুপারিশ তাকে উপকৃত করবে।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿وَكَم مِّن مَّلَكٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغۡنِي شَفَٰعَتُهُمۡ شَيًۡٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن يَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرۡضَىٰٓ ٢٦ ﴾ [ النجم : ٢٦ ]
আর আসমানসমূহে বহু ফিরিশতা রয়েছে, তাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হবে না, তবে আল্লাহর অনুমতির পর; যার জন্য তিনি ইচ্ছে করেন ও যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ২৬]
এই আয়াতসমূহ শর্তসাপেক্ষে শাফা‘আত সাব্যস্ত করার ওপর প্রমাণবহ। অচিরেই সে শর্তসমূহের বর্ণনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।