hadith book logo

কুরআন ও হাদীসের আলোকে মহাসাফল্য ও বড় ব্যর্থতা

লেখকঃ ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহাফ আল-ক্বাহত্বানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

নবম পরিচ্ছেদ: প্রথম যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে ও প্রথম যে জাহান্নামে প্রবেশ করবে প্রথমত: যারা প্রথমে জান্নাতে প্রবেশকারী:

১- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتفْتِحُ، فَيَقُولُ الْخَازِنُ : مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ : مُحَمَّدٌ، فَيَقُولُ : بِكَ أُمِرْتُ لَا أَفْتَحُ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ »

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় দিয়ে দরজা খোলার অনুমতি চাইলে জান্নাতের রক্ষক বলবে, কে আপনি? আমি বলব, মুহাম্মদ, তিনি বলবেন, আপনার জন্যই দরজা খোলার অনুমতি আছে, আপনার পূর্বে কারও জন্য দরজা খোলার অনুমতি নাই।” [মুসলিম, হাদীস নং ১৯৮।]

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «أَنَا أَكْثَرُ الْأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ»

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী উম্মতের অধিকারী, আমিই সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজার কড়া নাড়া দিব (খুলতে যাব)। [মুসলিম, হাদীস নং ১৯৬।]

২- উম্মতে মুহাম্মদী:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «نَحْنُ الْآخِرُونَ الْأَوَّلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَنَحْنُ أَوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ، بَيْدَ أَنَّهُمْ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا، وَأُوتِينَاهُ مِنْ بَعْدِهِمْ، فَاخْتَلَفُوا، فَهَدَانَا اللهُ لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ، فَهَذَا يَوْمُهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ، هَدَانَا اللهُ لَهُ - قَالَ : يَوْمُ الْجُمُعَةِ - فَالْيَوْمَ لَنَا، وَغَدًا لِلْيَهُودِ، وَبَعْدَ غَدٍ لِلنَّصَارَى»

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমরা সর্বশেষ উম্মাত, কিন্তু কিয়ামতের দিন থাকবো সবার অগ্রবর্তী। তবে তাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের আগে এবং আমাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের পরে। এটি তাদের সেই দিন যা তাদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছিল, কিন্তু তারা এই দিনটি সম্পর্কে মতভেদে লিপ্ত হলো। আল্লাহ্ আমাদেরকে দিনটির ব্যাপারে হেদায়েত দান করেছেন। - তিনি বলেন, এটি জুম‘আর দিন আজকের দিন আমাদের, (অতএব, তারা আমাদের পশ্চাদগামী), ইহুদীরা পরের দিন (শনিবার) এবং খৃস্টানরা তার পরের দিন (বরিবার)।” [মুসলিম, হাদীস নং ৮৫৫।]

৩- গরিব মিসকিন:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «يَدْخُلُ الْفُقَرَاءُ الْجَنَّةَ قَبْلَ الْأَغْنِيَاءِ بِخَمْسِمِائَةِ عَامٍ نِصْفِ يَوْمٍ»

وفي لفظ : «يَدْخُلُ فُقَرَاءُ المُسْلِمِينَ الجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَائِهِمْ بِنِصْفِ يَوْمٍ وَهُوَ خَمْسُمِائَةِ عَامٍ»

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দরিদ্রগণ ধনীদের পাঁচশ বছর পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। এই পাঁচশ বছর হল আখিরাতের এক দিনের অর্ধেক।”

তিরমিযীর অন্য রেওয়ায়েতে আছে, “দরিদ্র মুসলমানগন ধনীদের অর্ধেক দিন পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর এই অর্ধেকদিন হল পাঁচশ বছরের সমান।” [তিরিমিযী, হাদীস নং ২৩৫৩-২৩৫৪।]

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : «يَدْخُلُ فُقَرَاءُ المُسْلِمِينَ الجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَائِهِمْ بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا»

জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দরিদ্র মুসলমানগন ধনীদের চল্লিশ খারিফ তথা চল্লিশ বছর পূর্বেই জান্নাতে দাখেল হবে।” [তিরিমিযী, হাদীস নং ২৩৫৫।]

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال : سمعت رسول الله يقول : «إِنَّ فُقَرَاءَ الْمُهَاجِرِينَ يَسْبِقُونَ الْأَغْنِيَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى الْجَنَّةِ، بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا»

আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দরিদ্র মুহাজিরগণ ধনীদের চল্লিশ খারিফ তথা চল্লিশ বছর পূর্বেই জান্নাতে দাখেল হবে।” [মুসলিম, হাদীস নং ২৯৮০।]

উপরিউক্ত হাদীসদ্বয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনে বলা যায় যে, -আল্লাহ ই ভাল জানেন- দরিদ্রগণ কেউ ধনীদের পাঁচশত বছর পূর্বে, কেউ চল্লিশ বছর পূর্বে তাদের আমলের অবস্থা অনুযায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেমন মুমিন গুনাহগার বান্দাহ তাদের পাপের পরিমাণ অনুযায়ী জাহান্নামে থাকবে। দরিদ্রগণ যারা আগে জান্নাতে যাবে তাদের মর্যাদা পরে জান্নাতে প্রবেশকারীদের চেয়ে বেশী হওয়া অত্যাবশ্যকীয় নয়। বরং কখনও কখনও যারা পরে জান্নাতে যাবে তাদের মর্যাদা আগে প্রবেশকারীদের চেয়ে বেশী হতে পারে। ধনীদের সম্পদের হিসেব দেয়ার পরে যখন দেখা যাবে যে, তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছে, বিভিন্ন সৎকর্ম, কল্যানকর, দান সদকা ও ভাল কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছে তারা আগে জান্নাতে প্রবেশকারী দরিদ্র লোক যাদের এ আমল নাই তাদের চেয়ে বেশী মর্যাদা লাভ করবে। বিশেষ করে ধনী যখন দরিদ্র লোকের ন্যায় অন্যান্য আমলও করেছে ও সম্পদের দ্বারা আরো বেশী আমল করেছে তাদের মর্যাদা অনেক বেশী হবে। আল্লাহ কারো আমল নষ্ট করেন না।

অতঃএব, এখানে দুটি বৈশিষ্ট্য, একটা হলো অগ্রে জান্নাতে প্রবেশ, অন্যটি হলো উঁচু মর্যাদা লাভ। কখনও কখনও এ দুটি গুণ এক সাথে পাওয়া যেতে পারে আবার কখনও কখনও আলাদাভাবেও পাওয়া যেতে পারে। ফলে কেউ অগ্রভাগেই উচ্চ মর্যাদা নিয়ে জান্নাতে যেতে পারে। আবার কারও অগ্রভাগে জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য হতে পারে তবে উচ্চ মর্যাদা নাও হতে পারে। আবার কেউ উপরোক্ত দুটি গুণের কারণে পরে জান্নাতে গিয়েও উঁচু মর্যাদাবান হতে পারে। আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। [হাদিউল আরোআহ: পৃষ্ঠা ১৩৪।]