১
কুরআন ও হাদীসের আলোকে মহাসাফল্য ও বড় ব্যর্থতা
লেখকঃ ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহাফ আল-ক্বাহত্বানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪০
দ্বিতীয়ত: জাহান্নামের বৃক্ষ ও এর ছায়া:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿ إِنَّ شَجَرَتَ ٱلزَّقُّومِ ٤٣ طَعَامُ ٱلۡأَثِيمِ ٤٤ كَٱلۡمُهۡلِ يَغۡلِي فِي ٱلۡبُطُونِ ٤٥ كَغَلۡيِ ٱلۡحَمِيمِ ٤٦ ﴾ [ الدخان : ٤٣، ٤٦ ]
“নিশ্চয় যাক্কূম বৃক্ষ, পাপীর খাদ্য ; গলিত তামার মত, উদরসমূহে ফুটতে থাকবে। ফুটন্ত পানির মত। [সূরা আদ-দুখান: ৪৩-৪৬]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,
﴿ ثُمَّ إِنَّكُمۡ أَيُّهَا ٱلضَّآلُّونَ ٱلۡمُكَذِّبُونَ ٥١ لَأٓكِلُونَ مِن شَجَرٖ مِّن زَقُّومٖ ٥٢ فَمَالُِٔونَ مِنۡهَا ٱلۡبُطُونَ ٥٣ فَشَٰرِبُونَ عَلَيۡهِ مِنَ ٱلۡحَمِيمِ ٥٤ فَشَٰرِبُونَ شُرۡبَ ٱلۡهِيمِ ٥٥ ﴾ [ الواقعة : ٥١، ٥٥ ]
“তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা, তোমরা অবশ্যই যাক্কূম গাছ থেকে খাবে, অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। তদুপরি পান করবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি। অতঃপর তোমরা তা পান করবে তৃষ্ণাতুর উটের ন্যায়।” [সূরা : আল্-ওয়াকিয়া: ৫১-৫৫]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,
﴿ إِنَّهَا شَجَرَةٞ تَخۡرُجُ فِيٓ أَصۡلِ ٱلۡجَحِيمِ ٦٤ طَلۡعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ ٦٥ فَإِنَّهُمۡ لَأٓكِلُونَ مِنۡهَا فَمَالُِٔونَ مِنۡهَا ٱلۡبُطُونَ ٦٦ ثُمَّ إِنَّ لَهُمۡ عَلَيۡهَا لَشَوۡبٗا مِّنۡ حَمِيمٖ ٦٧ ﴾ [ الصافات : ٦٤، ٦٧ ]
“নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়। এর ফল যেন শয়তানের মাথা; নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।” [সূরা : আস্-সাফ্ফাত: ৬৪-৬৭]
আল্লাহর বাণী:
﴿ وَأَصۡحَٰبُ ٱلشِّمَالِ مَآ أَصۡحَٰبُ ٱلشِّمَالِ ٤١ فِي سَمُومٖ وَحَمِيمٖ ٤٢ وَظِلّٖ مِّن يَحۡمُومٖ ٤٣ لَّا بَارِدٖ وَلَا كَرِيمٍ ٤٤ إِنَّهُمۡ كَانُواْ قَبۡلَ ذَٰلِكَ مُتۡرَفِينَ ٤٥ وَكَانُواْ يُصِرُّونَ عَلَى ٱلۡحِنثِ ٱلۡعَظِيمِ ٤٦ ﴾ [ الواقعة : ٤١، ٤٦ ]
“আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল! তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচন্ড উত্তপ্ত পানিতে, আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়। নিশ্চয় তারা ইতঃপূর্বে বিলাসিতায় মগ্ন ছিল, আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত।” [সূরা : আল্-ওয়াকিয়া: ৪১-৪৬]
আল্লাহর বাণী:
﴿ وَظِلّٖ مِّن يَحۡمُومٖ ٤٣ ﴾ [ الواقعة : ٤٣ ]
“আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়” [সূরা : আল্-ওয়াকিয়া: ৪২]
কালো ধোঁয়া। যেমন আল্লাহ বলেছেন,
﴿ ٱنطَلِقُوٓاْ إِلَىٰ ظِلّٖ ذِي ثَلَٰثِ شُعَبٖ ٣٠ لَّا ظَلِيلٖ وَلَا يُغۡنِي مِنَ ٱللَّهَبِ ٣١ إِنَّهَا تَرۡمِي بِشَرَرٖ كَٱلۡقَصۡرِ ٣٢ كَأَنَّهُۥ جِمَٰلَتٞ صُفۡرٞ ٣٣ وَيۡلٞ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُكَذِّبِينَ ٣٤ ﴾ [ المرسلات : ٣٠، ٣٤ ]
“যাও তিন শাখা বিশিষ্ট আগুনের ছায়ায়, যা ছায়াদানকারী নয় এবং তা জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মোকাবেলায় কোন কাজেও আসবে না। নিশ্চয় তা (জাহান্নাম) ছড়াবে প্রাসাদসম স্ফুলিঙ্গ। তা যেন হলুদ উষ্ট্রী। মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!” [সূরা আল্-মুরসালাত: ৩০-৩৪]
উপরিউক্ত আয়াতে ছায়া দ্বারা আগুনের দুর্ন্ধময় কালো ধোঁয়াকে বুঝানো হয়েছে। যা আসলে ছায়া নয়, জ্বলন্ত আগুনের মোকাবিলায় কোন কাজে ও আসবে না। অর্থাৎ জ্বলন্ত আগুনের উষ্ণতা কমাতে পারবে না। [তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/৪৬১, ৪৯৫।] ‘সামূল’ দ্বারা উষ্ণ হাওয়াকে ও হামীম দ্বারা ফুটন্ত পানিকে বুঝানো হয়েছে। [তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/২৯৫।]
﴿ إِنَّ شَجَرَتَ ٱلزَّقُّومِ ٤٣ طَعَامُ ٱلۡأَثِيمِ ٤٤ كَٱلۡمُهۡلِ يَغۡلِي فِي ٱلۡبُطُونِ ٤٥ كَغَلۡيِ ٱلۡحَمِيمِ ٤٦ ﴾ [ الدخان : ٤٣، ٤٦ ]
“নিশ্চয় যাক্কূম বৃক্ষ, পাপীর খাদ্য ; গলিত তামার মত, উদরসমূহে ফুটতে থাকবে। ফুটন্ত পানির মত। [সূরা আদ-দুখান: ৪৩-৪৬]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,
﴿ ثُمَّ إِنَّكُمۡ أَيُّهَا ٱلضَّآلُّونَ ٱلۡمُكَذِّبُونَ ٥١ لَأٓكِلُونَ مِن شَجَرٖ مِّن زَقُّومٖ ٥٢ فَمَالُِٔونَ مِنۡهَا ٱلۡبُطُونَ ٥٣ فَشَٰرِبُونَ عَلَيۡهِ مِنَ ٱلۡحَمِيمِ ٥٤ فَشَٰرِبُونَ شُرۡبَ ٱلۡهِيمِ ٥٥ ﴾ [ الواقعة : ٥١، ٥٥ ]
“তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা, তোমরা অবশ্যই যাক্কূম গাছ থেকে খাবে, অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। তদুপরি পান করবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি। অতঃপর তোমরা তা পান করবে তৃষ্ণাতুর উটের ন্যায়।” [সূরা : আল্-ওয়াকিয়া: ৫১-৫৫]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,
﴿ إِنَّهَا شَجَرَةٞ تَخۡرُجُ فِيٓ أَصۡلِ ٱلۡجَحِيمِ ٦٤ طَلۡعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ ٦٥ فَإِنَّهُمۡ لَأٓكِلُونَ مِنۡهَا فَمَالُِٔونَ مِنۡهَا ٱلۡبُطُونَ ٦٦ ثُمَّ إِنَّ لَهُمۡ عَلَيۡهَا لَشَوۡبٗا مِّنۡ حَمِيمٖ ٦٧ ﴾ [ الصافات : ٦٤، ٦٧ ]
“নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়। এর ফল যেন শয়তানের মাথা; নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।” [সূরা : আস্-সাফ্ফাত: ৬৪-৬৭]
আল্লাহর বাণী:
﴿ وَأَصۡحَٰبُ ٱلشِّمَالِ مَآ أَصۡحَٰبُ ٱلشِّمَالِ ٤١ فِي سَمُومٖ وَحَمِيمٖ ٤٢ وَظِلّٖ مِّن يَحۡمُومٖ ٤٣ لَّا بَارِدٖ وَلَا كَرِيمٍ ٤٤ إِنَّهُمۡ كَانُواْ قَبۡلَ ذَٰلِكَ مُتۡرَفِينَ ٤٥ وَكَانُواْ يُصِرُّونَ عَلَى ٱلۡحِنثِ ٱلۡعَظِيمِ ٤٦ ﴾ [ الواقعة : ٤١، ٤٦ ]
“আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল! তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচন্ড উত্তপ্ত পানিতে, আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়। নিশ্চয় তারা ইতঃপূর্বে বিলাসিতায় মগ্ন ছিল, আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত।” [সূরা : আল্-ওয়াকিয়া: ৪১-৪৬]
আল্লাহর বাণী:
﴿ وَظِلّٖ مِّن يَحۡمُومٖ ٤٣ ﴾ [ الواقعة : ٤٣ ]
“আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়” [সূরা : আল্-ওয়াকিয়া: ৪২]
কালো ধোঁয়া। যেমন আল্লাহ বলেছেন,
﴿ ٱنطَلِقُوٓاْ إِلَىٰ ظِلّٖ ذِي ثَلَٰثِ شُعَبٖ ٣٠ لَّا ظَلِيلٖ وَلَا يُغۡنِي مِنَ ٱللَّهَبِ ٣١ إِنَّهَا تَرۡمِي بِشَرَرٖ كَٱلۡقَصۡرِ ٣٢ كَأَنَّهُۥ جِمَٰلَتٞ صُفۡرٞ ٣٣ وَيۡلٞ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُكَذِّبِينَ ٣٤ ﴾ [ المرسلات : ٣٠، ٣٤ ]
“যাও তিন শাখা বিশিষ্ট আগুনের ছায়ায়, যা ছায়াদানকারী নয় এবং তা জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মোকাবেলায় কোন কাজেও আসবে না। নিশ্চয় তা (জাহান্নাম) ছড়াবে প্রাসাদসম স্ফুলিঙ্গ। তা যেন হলুদ উষ্ট্রী। মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!” [সূরা আল্-মুরসালাত: ৩০-৩৪]
উপরিউক্ত আয়াতে ছায়া দ্বারা আগুনের দুর্ন্ধময় কালো ধোঁয়াকে বুঝানো হয়েছে। যা আসলে ছায়া নয়, জ্বলন্ত আগুনের মোকাবিলায় কোন কাজে ও আসবে না। অর্থাৎ জ্বলন্ত আগুনের উষ্ণতা কমাতে পারবে না। [তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/৪৬১, ৪৯৫।] ‘সামূল’ দ্বারা উষ্ণ হাওয়াকে ও হামীম দ্বারা ফুটন্ত পানিকে বুঝানো হয়েছে। [তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/২৯৫।]