hadith book logo

কুরআন ও হাদীসের আলোকে মহাসাফল্য ও বড় ব্যর্থতা

লেখকঃ ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহাফ আল-ক্বাহত্বানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

দ্বিতীয়ত: বড় ব্যর্থতার মর্মার্থ:

خَسِرَ অর্থ ক্ষতি, ব্যর্থতা, লোকসান, পথহারা হওয়া ইত্যাদি। যেমন বলা হয়, خَسِرَ التاجر : غُبِنَ في تجارته، ونقص ماله فيها লোকটি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যর্থ হলো। আবার বলা হয়, خسر فلانٌ : هلك وضل সে ধ্বংস হলো ও পথহারা হলো। এগুলো প্রকাশ্য ও বস্তুগত অর্থের ব্যবহার, যেমন ধন সম্পদ। আর অন্তর্নিহিত অর্থের দিক থেকে এর ব্যবহার হতে পারে যেমন, স্বাস্থ্য, সুস্থতা, বিবেক, ঈমান, সাওয়াব ইত্যাদি। এ অর্থেই আল্লাহ তা ‘আলা স্পষ্ট ক্ষতি ও বড় ব্যর্থতা বুঝিয়েছেন। [আল-ক্বামূস আল-মুহীত, পৃষ্ঠা: ৪৯১, আল-‘মুজাম আল অসীত, পৃষ্ঠা: ১/২৩৩, মুফরাদাত গরীবিল কুরআন, লেখক আল-আসফিহানী, পৃষ্ঠা: ২৮২, মুখতারুস সিহাহ, পৃষ্ঠা: ৭৪।]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন,

﴿ قُلۡ إِنَّ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ وَأَهۡلِيهِمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ ٱلۡخُسۡرَانُ ٱلۡمُبِينُ ١٥ ﴾ [ الزمر : ١٥ ]

“বল, নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত যারা কিয়ামত দিবসে নিজদেরকে ও তাদের পরিবারবর্গকে ক্ষতিগ্রস্ত পাবে। জেনে রেখ, এটাই স্পষ্ট ক্ষতি।” [সূরা আয্-যুমার: ১৫]

আল্লাহ তা‘আলা যালিমদের সম্পর্কে বলেছেন,

﴿ وَمَن يُضۡلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن وَلِيّٖ مِّنۢ بَعۡدِهِۦۗ وَتَرَى ٱلظَّٰلِمِينَ لَمَّا رَأَوُاْ ٱلۡعَذَابَ يَقُولُونَ هَلۡ إِلَىٰ مَرَدّٖ مِّن سَبِيلٖ ٤٤ وَتَرَىٰهُمۡ يُعۡرَضُونَ عَلَيۡهَا خَٰشِعِينَ مِنَ ٱلذُّلِّ يَنظُرُونَ مِن طَرۡفٍ خَفِيّٖۗ وَقَالَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ وَأَهۡلِيهِمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ أَلَآ إِنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ فِي عَذَابٖ مُّقِيمٖ ٤٥ ﴾ [ الشورا : ٤٤، ٤٥ ]

“আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তারপর তার জন্য কোন অভিভাবক নেই। আর তুমি যালিমদেরকে দেখবে, যখন তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে তখন বলবে, ‘ফিরে যাওয়ার কোন পথ আছে কি’? তুমি তাদেরকে আরো দেখবে যে, তাদেরকে অপমানে অবনত অবস্থায় জাহান্নামে উপস্থিত করা হচ্ছে, তারা আড় চোখে তাকাচ্ছে। আর কিয়ামতের দিন মুমিনগণ বলবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত যারা নিজদের ও পরিবার-পরিজনের ক্ষতি সাধন করেছে। সাবধান! যালিমরাই থাকবে স্থায়ী আযাবে।” [সূরা : আশ্-শূরা: ৪৪-৪৫]

যে সব আমল স্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন করে সে সব আমল সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

﴿ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُۥ يُدۡخِلۡهُ نَارًا خَٰلِدٗا فِيهَا وَلَهُۥ عَذَابٞ مُّهِينٞ ١٤ ﴾ [ النساء : ١٤ ]

“আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক আযাব।” [সূরা আন-নিসা: ১৪]

﴿ أَلَمۡ يَعۡلَمُوٓاْ أَنَّهُۥ مَن يُحَادِدِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَأَنَّ لَهُۥ نَارَ جَهَنَّمَ خَٰلِدٗا فِيهَاۚ ذَٰلِكَ ٱلۡخِزۡيُ ٱلۡعَظِيمُ ٦٣ ﴾ [ التوبة : ٦٣ ]

“তারা কি জানে না, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তবে তার জন্য অবশ্যই জাহান্নাম, তাতে সে চিরকাল থাকবে। এটা মহালাঞ্ছনা।” [আত্-তাওবা: ৬৩]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿ وَمَن يَتَّخِذِ ٱلشَّيۡطَٰنَ وَلِيّٗا مِّن دُونِ ٱللَّهِ فَقَدۡ خَسِرَ خُسۡرَانٗا مُّبِينٗا ١١٩ ﴾ [ النساء : ١١٩ ]

“আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তারা তো স্পষ্টই ক্ষতিগ্রস্ত হল।” [সূরা আন-নিসা: ১১৯]

﴿ وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُهُۥ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٥ ﴾ [ المائ‍دة : ٥ ]

“আর যে ঈমানের সাথে কুফরী করবে, অবশ্যই তার আমল বরবাদ হবে এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [আল-মায়েদা: ৫]

আল্লাহ তা ‘আলা কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যে, দুনিয়া ও আখেরাতের মহা ক্ষতি ও ব্যর্থতার কারণ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানি করা। [আল-‘মুজামুল মুফাহরিস লি আল-ফাযিল কুরআনিল কারীম: পৃষ্ঠা ২৩১-২৩২।]