hadith book logo

কুরআন ও হাদীসের আলোকে মহাসাফল্য ও বড় ব্যর্থতা

লেখকঃ ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহাফ আল-ক্বাহত্বানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

দ্বিতীয়ত: জাহান্নামীদের পানীয়:

১- হামীম: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ وَسُقُواْ مَآءً حَمِيمٗا فَقَطَّعَ أَمۡعَآءَهُمۡ ١٥ ﴾ [ محمد : ١٥ ]

“এবং তাদেরকে ফুটন্ত পানি পান করানো হবে ফলে তা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে?” [সূরা মুহাম্মাদ: ১৫]

অর্থাৎ প্রচন্ড ফুটন্ত পানি যা সহ্য করা যায় না। ফলে তাদের পেটের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। [তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/১৭৬।]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿ يُصَبُّ مِن فَوۡقِ رُءُوسِهِمُ ٱلۡحَمِيمُ ١٩ يُصۡهَرُ بِهِۦ مَا فِي بُطُونِهِمۡ وَٱلۡجُلُودُ ٢٠ ﴾ [ الحج : ١٩، ٢٠ ]

“তাদের মাথার উপর থেকে ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি। যার দ্বারা তাদের পেটের অভ্যন্তরে যা কিছু রয়েছে তা ও তাদের চামড়াসমূহ বিগলিত করা হবে।” [সূরা আল-হাজ্জ: ১৯-২০]

২- সদীদ:

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ وَٱسۡتَفۡتَحُواْ وَخَابَ كُلُّ جَبَّارٍ عَنِيدٖ ١٥ مِّن وَرَآئِهِۦ جَهَنَّمُ وَيُسۡقَىٰ مِن مَّآءٖ صَدِيدٖ ١٦ يَتَجَرَّعُهُۥ وَلَا يَكَادُ يُسِيغُهُۥ وَيَأۡتِيهِ ٱلۡمَوۡتُ مِن كُلِّ مَكَانٖ وَمَا هُوَ بِمَيِّتٖۖ وَمِن وَرَآئِهِۦ عَذَابٌ غَلِيظٞ ١٧ ﴾ [ ابراهيم : ١٥، ١٧ ]

“আর তারা বিজয় কামনা করল, আর ব্যর্থ হল সকল স্বেচ্ছাচারী, হঠকারী। এর সামনে রয়েছে জাহান্নাম, আর তাদের পান করানো হবে গলিত পুঁজ থেকে। সে তা গিলতে চাইবে এবং প্রায় সহজে সে তা গিলতে পারবে না। আর তার কাছে সকল স্থান থেকে মৃত্যু ধেঁয়ে আসবে, অথচ সে মরবে না। আর এর পরেও রয়েছে কঠিন আযাব।” [সূরা: ইবরাহীম: ১৫-১৭]

সদীদ হলো: কাফিরদের শরীর থেকে নির্গত বমি ও রক্ত। [তাফসীরে ইবন কাসীর: ২/৫৩৭, তাফসীরে বাগভী: ৩/২৯।]

عن جابر ، عن النبي قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ، وَإِنَّ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ عَهْدًا لِمَنْ يَشْرَبُ الْمُسْكِرَ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ " فَقَالَوا : يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ : «عَرَقُ أَهْلِ النَّارِ» أَوْ «عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ»

জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বললেন, “যা নেশা সৃষ্টি করে, তাই হারাম। নিশ্চয়ই, আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদা, যে ব্যক্তি নেশা জাতীয় বস্তু পান করবে, তাকে তিনি “তীনাতূল খাবাল” পান করিয়ে ছাড়বেন। লোকেরা বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম “তীনাতুল খাবাল” কি? তিনি বললেন, দোযখবাসীদের ঘাম বা দোযখবাসীদের প্রস্রাব-পায়খানা।” [মুসলিম, হাদীস নং ২০০২।]

৩- গলিত ধাতুর মত পানি:

আল-মুহলি শব্দের অর্থ তেলের গাদ [মুফরাদাত গরীবুল কুরআন, আসফেহানী: পৃষ্ঠা ৪৭৬।], ইহা মারাত্মক ফুটন্ত পানি, এর রঙ কালো ও গন্ধযুক্ত। কাফিররা যখন তা পান করতে চাবে তখন তাদের চেহারা বিকৃত হয়ে যাবে এবং মুখের চামড়া ঝলসে যাবে। [তাফসীরে ইবন কাসীর: ৩/৮২, ৪/৪২১।]

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ إِنَّآ أَعۡتَدۡنَا لِلظَّٰلِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمۡ سُرَادِقُهَاۚ وَإِن يَسۡتَغِيثُواْ يُغَاثُواْ بِمَآءٖ كَٱلۡمُهۡلِ يَشۡوِي ٱلۡوُجُوهَۚ بِئۡسَ ٱلشَّرَابُ وَسَآءَتۡ مُرۡتَفَقًا ٢٩ ﴾ [ الكهف : ٢٩ ]

“আর বল, ‘সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে যেন ঈমান আনে এবং যে ইচ্ছা করে সে যেন কুফরী করে। নিশ্চয় আমি যালিমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করেছি, যার প্রাচীরগুলো তাদেরকে বেষ্টন করে রেখেছে। যদি তারা পানি চায়, তবে তাদেরকে দেয়া হবে এমন পানি যা গলিত ধাতুর মত, যা চেহারাগুলো ঝলসে দেবে। কী নিকৃষ্ট পানীয়! আর কী মন্দ বিশ্রামস্থল!” [সূরা : আল-কাহফ: ২৯]

৪- গাসসাক: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ لَّا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرۡدٗا وَلَا شَرَابًا ٢٤ إِلَّا حَمِيمٗا وَغَسَّاقٗا ٢٥ جَزَآءٗ وِفَاقًا ٢٦ إِنَّهُمۡ كَانُواْ لَا يَرۡجُونَ حِسَابٗا ٢٧ وَكَذَّبُواْ بِ‍َٔايَٰتِنَا كِذَّابٗا ٢٨ وَكُلَّ شَيۡءٍ أَحۡصَيۡنَٰهُ كِتَٰبٗا ٢٩ فَذُوقُواْ فَلَن نَّزِيدَكُمۡ إِلَّا عَذَابًا ٣٠ ﴾ [ النبا : ٢٤، ٣٠ ]

“সেখানে তারা কোন শীতলতা আস্বাদন করবে না এবং না কোন পানীয়। ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া। উপযুক্ত প্রতিফলস্বরূপ। নিশ্চয় তারা হিসাবের আশা করত না। আর তারা আমার আয়াতসমূহকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছিল। আর সব কিছুই আমি লিখিতভাবে সংরক্ষণ করেছি। সুতরাং তোমরা স্বাদ গ্রহণ কর। আর আমি তো কেবল তোমাদের আযাবই বৃদ্ধি করব।” [সূরা আন্-নাবা: ২৪-৩০]

গাসসাক: হলো প্রচন্ড ঠান্ডা পানি যা সহ্য করা যায় না। ঠান্ডার কারণে চামড়া জ্বলে যাবে, যেমন আগুনের দ্বারা চামড়া ঝলসে যায়। এটা হলো অতিরিক্ত ঠাণ্ডা। জাহান্নামীদের রক্ত, পুঁজ, ঘাম ও ক্ষতের ঘা যা খুবই শীতল ও দুর্গন্ধ। [তাফসীর ইবন কাসীর: ৪/৪২, ৪৬৫, তাফসীরে বাগভী: ৪/৬৭, ৪৩৮।]

৫- ফুটন্ত ঝর্ণার পানি: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ وُجُوهٞ يَوۡمَئِذٍ خَٰشِعَةٌ ٢ عَامِلَةٞ نَّاصِبَةٞ ٣ تَصۡلَىٰ نَارًا حَامِيَةٗ ٤ تُسۡقَىٰ مِنۡ عَيۡنٍ ءَانِيَةٖ ٥ ﴾ [ الغاشية : ٢، ٥ ]

“সেদিন অনেক চেহারা হবে অবনত। কর্মক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে। তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে।” [সূরা : আল্-গাশিয়া: ২-৫]

আনিয়াহ হলো অত্যন্ত ফুটন্ত টগবগ পানি। [তাফসীর ইবন কাসীর: ৪/৫০৩, তাফসীরে বাগভী: ৪/৪৭৮।]

﴿ يَطُوفُونَ بَيۡنَهَا وَبَيۡنَ حَمِيمٍ ءَانٖ ٤٤ ﴾ [ الرحمن : ٤٤ ]

“তারা ঘুরতে থাকবে জাহান্নাম ও ফুটন্ত পানির মধ্যে।” [সূরা : আর্-রাহমান: ৪৪]

আরবেরা যখন কোন কিছু অত্যন্ত গরম হয় এবং তা আর গরম হওয়ার বাকী থাকে না তখন তাকে আনিয়াহ বলে। [তাখভীফ মিনান নার, ইবন রজব হাম্মালী: পৃষ্ঠা ১৫০।]