১
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য
লেখকঃ শাইখ সালেহ ইবন আবদিল্লাহ আদ-দারওয়ীশ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
বদরের যুদ্ধ
এ যুদ্ধের ঘটনা সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা সূরা আল-আনফাল নাযিল করেছন। আমরা ইতিপূর্বে যেসব সূক্ষ্ম বিষয় আলোচনা করেছি তা এ সূরার তিনটি আয়াতে শামিল করে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿ إِذۡ يُغَشِّيكُمُ ٱلنُّعَاسَ أَمَنَةٗ مِّنۡهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيۡكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ لِّيُطَهِّرَكُم بِهِۦ وَيُذۡهِبَ عَنكُمۡ رِجۡزَ ٱلشَّيۡطَٰنِ وَلِيَرۡبِطَ عَلَىٰ قُلُوبِكُمۡ وَيُثَبِّتَ بِهِ ٱلۡأَقۡدَامَ ١١ ﴾ [ الانفال : ١١ ]
“স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদেরকে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেন তাঁর পক্ষ থেকে নিরাপত্তাস্বরূপ এবং আকাশ থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, আর যাতে এর মাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করেন, আর তোমাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করেন, তোমাদের অন্তরসমূহ দৃঢ় রাখেন এবং এর মাধ্যমে তোমাদের পা-সমূহ স্থির রাখেন”। [সূরা : আল-আনফাল: ১১]
এ আয়াত সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করুন, এর অর্থ অনুধাবন করুন। আয়াতে পবিত্রকরণ ও শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর হওয়া সম্পর্কে ভাবুন। এর পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
﴿ فَثَبِّتُواْ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۚ ١٢ ﴾ [ الانفال : ١٢ ]
“সুতরাং যারা ঈমান এনেছে তোমরা তাদেরকে অনড় রাখ”।
এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَعَلَّ اللهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ : اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ، فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ "
“সম্ভবত আল্লাহ তা’আলা বদরী সাহাবাদের প্রতি নজর দিবেন এবং বলে দিবেন তোমরা যা ইচ্ছা করতে পার; তোমাদের আমি মাফ করে দিলাম”। [মুসলিম, হাদীস নং ২৯৯৪।]
গুরুত্বপূর্ণ ফায়েদা: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনায়নকারী সব সিরাতসংকলক ও অন্যান্যদের মতে, মানুষের মাঝে বদরের যুদ্ধের পরে নিফাক অনুপ্রবেশ করেছে, এর আগে কোন নিফাক বিদ্যমান ছিল না। এ সম্পর্কে সতর্ক থাকো।
সম্মানিত পাঠক ভাই ও বোনেরা:
এ সূরার শেষ আয়াতের দিকে লক্ষ্য করুন, একটু চিন্তা ভাবনা করুন। আল্লাহ তা‘আলা মুহাজির ও আনসারদেরকে পরস্পর পরস্পরের সহযোগী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আল্লাহর এ আয়াতের নির্দেশনা সম্পর্কে ভাবুন:
﴿ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَهَاجَرُواْ وَجَٰهَدُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلَّذِينَ ءَاوَواْ وَّنَصَرُوٓاْ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ حَقّٗاۚ لَّهُم مَّغۡفِرَةٞ وَرِزۡقٞ كَرِيمٞ ٧٤ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنۢ بَعۡدُ وَهَاجَرُواْ وَجَٰهَدُواْ مَعَكُمۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ مِنكُمۡۚ وَأُوْلُواْ ٱلۡأَرۡحَامِ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلَىٰ بِبَعۡضٖ فِي كِتَٰبِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمُۢ ٧٥ ﴾ [ الانفال : ٧٤، ٧٥ ]
“আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক। আর যারা পরে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে জিহাদ করেছে, তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত, আর আত্মীয়-স্বজনরা একে অপরের তুলনায় অগ্রগণ্য, আল্লাহর কিতাবে। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে মহাজ্ঞানী”। [সূরা : আল-আনফাল: ৭৪-৭৫]
আল্লাহু আকবর। তাদের জন্য সুখবর। এটা আগে ঈমান আনায়নকারী মুহাজির ও আনসারদের ঈমান সম্পর্কে স্বয়ং মহান আল্লাহ তা‘আলার সাক্ষ্য। আল্লাহর বাণী حَقّٗاۚ “প্রকৃত মুমিন” এ সম্পর্কে একটু ভাবুন। এটা দ্বারা তাগিদ দেয়া হয়েছে। এর পরে আল্লাহ বলেছেন, لَّهُم مَّغۡفِرَةٞ وَرِزۡقٞ كَرِيمٞ তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক। এ সব সাক্ষ্য ও তাগিদের পরেও কোন মু’মিনের পক্ষ্যে তাদেরকে অপবাদ দেয়া সম্ভব?
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿ إِذۡ يُغَشِّيكُمُ ٱلنُّعَاسَ أَمَنَةٗ مِّنۡهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيۡكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ لِّيُطَهِّرَكُم بِهِۦ وَيُذۡهِبَ عَنكُمۡ رِجۡزَ ٱلشَّيۡطَٰنِ وَلِيَرۡبِطَ عَلَىٰ قُلُوبِكُمۡ وَيُثَبِّتَ بِهِ ٱلۡأَقۡدَامَ ١١ ﴾ [ الانفال : ١١ ]
“স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদেরকে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেন তাঁর পক্ষ থেকে নিরাপত্তাস্বরূপ এবং আকাশ থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, আর যাতে এর মাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করেন, আর তোমাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করেন, তোমাদের অন্তরসমূহ দৃঢ় রাখেন এবং এর মাধ্যমে তোমাদের পা-সমূহ স্থির রাখেন”। [সূরা : আল-আনফাল: ১১]
এ আয়াত সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করুন, এর অর্থ অনুধাবন করুন। আয়াতে পবিত্রকরণ ও শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর হওয়া সম্পর্কে ভাবুন। এর পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
﴿ فَثَبِّتُواْ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۚ ١٢ ﴾ [ الانفال : ١٢ ]
“সুতরাং যারা ঈমান এনেছে তোমরা তাদেরকে অনড় রাখ”।
এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَعَلَّ اللهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ : اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ، فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ "
“সম্ভবত আল্লাহ তা’আলা বদরী সাহাবাদের প্রতি নজর দিবেন এবং বলে দিবেন তোমরা যা ইচ্ছা করতে পার; তোমাদের আমি মাফ করে দিলাম”। [মুসলিম, হাদীস নং ২৯৯৪।]
গুরুত্বপূর্ণ ফায়েদা: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনায়নকারী সব সিরাতসংকলক ও অন্যান্যদের মতে, মানুষের মাঝে বদরের যুদ্ধের পরে নিফাক অনুপ্রবেশ করেছে, এর আগে কোন নিফাক বিদ্যমান ছিল না। এ সম্পর্কে সতর্ক থাকো।
সম্মানিত পাঠক ভাই ও বোনেরা:
এ সূরার শেষ আয়াতের দিকে লক্ষ্য করুন, একটু চিন্তা ভাবনা করুন। আল্লাহ তা‘আলা মুহাজির ও আনসারদেরকে পরস্পর পরস্পরের সহযোগী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আল্লাহর এ আয়াতের নির্দেশনা সম্পর্কে ভাবুন:
﴿ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَهَاجَرُواْ وَجَٰهَدُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلَّذِينَ ءَاوَواْ وَّنَصَرُوٓاْ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ حَقّٗاۚ لَّهُم مَّغۡفِرَةٞ وَرِزۡقٞ كَرِيمٞ ٧٤ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنۢ بَعۡدُ وَهَاجَرُواْ وَجَٰهَدُواْ مَعَكُمۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ مِنكُمۡۚ وَأُوْلُواْ ٱلۡأَرۡحَامِ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلَىٰ بِبَعۡضٖ فِي كِتَٰبِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمُۢ ٧٥ ﴾ [ الانفال : ٧٤، ٧٥ ]
“আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক। আর যারা পরে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে জিহাদ করেছে, তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত, আর আত্মীয়-স্বজনরা একে অপরের তুলনায় অগ্রগণ্য, আল্লাহর কিতাবে। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে মহাজ্ঞানী”। [সূরা : আল-আনফাল: ৭৪-৭৫]
আল্লাহু আকবর। তাদের জন্য সুখবর। এটা আগে ঈমান আনায়নকারী মুহাজির ও আনসারদের ঈমান সম্পর্কে স্বয়ং মহান আল্লাহ তা‘আলার সাক্ষ্য। আল্লাহর বাণী حَقّٗاۚ “প্রকৃত মুমিন” এ সম্পর্কে একটু ভাবুন। এটা দ্বারা তাগিদ দেয়া হয়েছে। এর পরে আল্লাহ বলেছেন, لَّهُم مَّغۡفِرَةٞ وَرِزۡقٞ كَرِيمٞ তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক। এ সব সাক্ষ্য ও তাগিদের পরেও কোন মু’মিনের পক্ষ্যে তাদেরকে অপবাদ দেয়া সম্ভব?