hadith book logo

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য

লেখকঃ শাইখ সালেহ ইবন আবদিল্লাহ আদ-দারওয়ীশ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

খন্দকের যুদ্ধ

সূরা আল-আহযাবে এ যুদ্ধ সম্পর্কে আয়াত নাযিল হয়। সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা হলেও এতে সাহাবীদের মাঝে গভীর সম্পর্কের কথা, তাদের মানসিক অবস্থা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সর্বাবস্থায় থাকার কারণে যে কষ্ট ক্লেশ, ক্ষুধা যন্ত্রনা ও ভয়ভীতির সম্মুখীন হয়েছেন তা আলোকপাত করা হয়েছে।

সূরা আহযাবের ৯ নং আয়াত সম্পর্কে ভাবুন, এতে আল্লাহ মু’মিনদেরকে সম্বোধন করেছেন এবং সে ঘটনার সময় আল্লাহর নি‘আমতের কথা উল্লেখ করেছেন।

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ إِذۡ جَآءَتۡكُمۡ جُنُودٞ فَأَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمۡ رِيحٗا وَجُنُودٗا لَّمۡ تَرَوۡهَاۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرًا ٩ ﴾ [ الاحزاب : ٩ ]

হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতকে স্মরণ কর, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। [সূরা : আল্-আহযাব: ৯]

এর পর আল্লাহ শত্রুদের আক্রমণ থেকে তাদেরকে রক্ষা করে তাঁর নিয়ামতের কথা স্মরণ করে দেন এবং তাদের ঈমানের সাক্ষ্য দিয়ে বলেন,

﴿ وَكَفَى ٱللَّهُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱلۡقِتَالَۚ ٢٥ ﴾ [ الاحزاب : ٢٥ ]

যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। [সূরা : আল্-আহযাব: ২৫]

এর পরের দু’আয়াতে প্রসিদ্ধ ইয়াহুদী সম্প্রদায় বনী কুরাইযার ঘটনা উল্লেখ করেন।

পরবর্তী আয়াতগুলো খুব মনোযোগ সহকারে চিন্তা করুন। আল্লাহ বলেছেন,

﴿ وَلَمَّا رَءَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلۡأَحۡزَابَ قَالُواْ هَٰذَا مَا وَعَدَنَا ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَصَدَقَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥۚ وَمَا زَادَهُمۡ إِلَّآ إِيمَٰنٗا وَتَسۡلِيمٗا ٢٢ ﴾ [ الاحزاب : ٢٢ ]

আর মুমিনগণ যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল তখন তারা বলল, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছেন এটি তো তাই। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন’। এতে তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি পেল। [সূরা : আল্-আহযাব: ২২]

আল্লাহর রহমত তাদের উপর ব্যপ্ত ছিল। তাঁর রহমত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকা কারো জন্য খাস ছিল না, বরং সকলের জন্যই প্রশস্ত ছিল।

কারা বলেছিলেন, ‘‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছেন এটি তো তাই?”

কারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খন্দক খনন করেছিলেন?

তাদের ঈমান ও ঈমানের বৃদ্ধি সম্পর্কে আল্লাহর সাক্ষ্য সম্পর্কে চিন্তা করুন। এমনিভাবে দুনিয়াতে তাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহের কথা ভাবুন।

কারা বনী কুরাইযার উত্তরাধিকারী হলেন? কারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন?

আল্লাহ বলেছেন,

﴿ وَأَوۡرَثَكُمۡ أَرۡضَهُمۡ وَدِيَٰرَهُمۡ وَأَمۡوَٰلَهُمۡ وَأَرۡضٗا لَّمۡ تَطَ‍ُٔوهَاۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٗا ٢٧ ﴾ [ الاحزاب : ٢٧ ]

“আর তিনি তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করলেন তাদের ভূমি, তাদের ঘর-বাড়ী ও তাদের ধন-সম্পদের এবং এমন ভূমির যাতে তোমরা পদার্পণও করনি। আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান”। [সূরা : আল্-আহযাব: ২৭]

ইয়াহুদীদের দূর্গ বিজয়ের মাধ্যমে সাহাবীদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ, ইয়াহুদীদের অন্তরে ভয় ভীতির সঞ্চয়, তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করা ইত্যাদি নিয়ামতের কথা এ সূরাতে উল্লেখ করা হয়েছ। আপনি কি এ ঘটনার শুরুর আয়াতগুলো মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াত করেছেন?

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ إِذۡ جَآءَتۡكُمۡ جُنُودٞ فَأَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمۡ رِيحٗا وَجُنُودٗا لَّمۡ تَرَوۡهَاۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرًا ٩ ﴾ [ الاحزاب : ٩ ]

“হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতকে স্মরণ কর, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা”। [সূরা : আল্-আহযাব: ৯]

উপরিউক্ত আয়াত থেকে এ পর্যন্ত তিলাওয়াত করুন:

﴿ وَأَوۡرَثَكُمۡ أَرۡضَهُمۡ وَدِيَٰرَهُمۡ وَأَمۡوَٰلَهُمۡ وَأَرۡضٗا لَّمۡ تَطَ‍ُٔوهَاۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٗا ٢٧ ﴾ [ الاحزاب : ٢٧ ]

“আর তিনি তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করলেন তাদের ভূমি, তাদের ঘর-বাড়ী ও তাদের ধন-সম্পদের এবং এমন ভূমির যাতে তোমরা পদার্পণও করনি। আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান”। [সূরা : আল্-আহযাব: ২৭]

সূরা আহযাবের আয়াতগুলো খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহাবীদের সম্পর্ক, ভালবাসা ও তাদের সম্পর্কে আল্লাহর সম্বোধন সম্পর্কে লক্ষ্য করুন।