১
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য
লেখকঃ শাইখ সালেহ ইবন আবদিল্লাহ আদ-দারওয়ীশ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
সূরা তাওবা অনুসারে সমাজের শ্রেণীবিভাগ
১- মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী। আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন,
﴿ وَٱلسَّٰبِقُونَ ٱلۡأَوَّلُونَ مِنَ ٱلۡمُهَٰجِرِينَ وَٱلۡأَنصَارِ وَٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُم بِإِحۡسَٰنٖ رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُ ١٠٠ ﴾ [ التوبة : ١٠٠ ]
“আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে”। [আত্-তাওবা: ১০০]
২- আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও যারা তাঁর সাথে আছেন তাদের সকলকে সর্বসাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ সাবেকীন ও গাইরে সাবেকীন সব মু’মিনগণ। আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন,
﴿ لَٰكِنِ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَهُۥ جَٰهَدُواْ بِأَمۡوَٰلِهِمۡ وَأَنفُسِهِمۡۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلۡخَيۡرَٰتُۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٨٨ ﴾ [ التوبة : ٨٨ ]
“কিন্তু রাসূল ও তার সাথে মুমিনরা তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে, আর সে সব লোকের জন্যই রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম”। [আত্-তাওবা: ৮৮]
৩- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা মুহাজির ও আনসারদেরকে অগ্রগামী বা অনগ্রগামী কোনরূপ পার্থক্য না করে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্য আয়াতে এদের সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿ لَا يَسۡتَوِي مِنكُم مَّنۡ أَنفَقَ مِن قَبۡلِ ٱلۡفَتۡحِ وَقَٰتَلَۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعۡظَمُ دَرَجَةٗ مِّنَ ٱلَّذِينَ أَنفَقُواْ مِنۢ بَعۡدُ وَقَٰتَلُواْۚ وَكُلّٗا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلۡحُسۡنَىٰۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ ١٠ ﴾ [ الحديد : ١٠ ]
“তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আর তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবগত”। [সূরা : আল্-হাদীদ: ১০]
এখানে তাদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। তবে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। তিনি হলেন কল্যাণদাতা। আল্লাহ সে সমাজের তিনজনের ঘটনা উল্লেখ করেছেন যারা জিহাদ থেকে পশ্চাতে ছিলেন, এমনিভাবে যারা সহায় সম্বলের অভাবে জিহাদে শরিক হতে পারেন নি তাদের ঘটনাও উল্লেখ করেছেন।
৪- আল্লাহ তাদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যারা ভালো ও খারাপ কাজ মিশ্রিত করে ফেলেছিলেন। যারা তাকওয়ার উপর ভিত্তি করে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন তাদেরকে প্রশংসা করেছেন। তাই এ এখানে যাদের সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে তাদের নিয়ে চিন্তা গবেষণা করুন। তারা সকলেই মু’মিন ছিল।
৫- এরপরে আল্লাহ মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তাদের দোষত্রুটি ও অবস্থা আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন। কিছু দোষ তাদের সকলের মাঝেই ছিল আবার কিছু তাদের ব্যক্তিগত দোষত্রুটি ছিল। এ সম্পর্কে চিন্তা করুন। মু’মিনদের সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে যা আলোচনা হয়েছে তা ভাবভাবে পর্বেক্ষণ করুন ও গবেষণা করুন। এছাড়াও বেদুইনদের সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সত্যিকারের মু’মিন ছিল, আবার কেউ মিথ্যাবাদী মুনাফিক ছিল। তাই মু’মিন, বেদুঈন ও মুনাফিকদের সম্পর্কে ভাবুন। এরপরেও কি কেউ দ্বিধা সন্দেহে পড়তে পারে? কারা সবচেয়ে বিপজ্জনক তা বুঝতে কি কোন অসুবিধে থাকতে পারে?
﴿ وَٱلسَّٰبِقُونَ ٱلۡأَوَّلُونَ مِنَ ٱلۡمُهَٰجِرِينَ وَٱلۡأَنصَارِ وَٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُم بِإِحۡسَٰنٖ رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُ ١٠٠ ﴾ [ التوبة : ١٠٠ ]
“আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে”। [আত্-তাওবা: ১০০]
২- আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও যারা তাঁর সাথে আছেন তাদের সকলকে সর্বসাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ সাবেকীন ও গাইরে সাবেকীন সব মু’মিনগণ। আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন,
﴿ لَٰكِنِ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَهُۥ جَٰهَدُواْ بِأَمۡوَٰلِهِمۡ وَأَنفُسِهِمۡۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلۡخَيۡرَٰتُۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٨٨ ﴾ [ التوبة : ٨٨ ]
“কিন্তু রাসূল ও তার সাথে মুমিনরা তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে, আর সে সব লোকের জন্যই রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম”। [আত্-তাওবা: ৮৮]
৩- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা মুহাজির ও আনসারদেরকে অগ্রগামী বা অনগ্রগামী কোনরূপ পার্থক্য না করে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্য আয়াতে এদের সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿ لَا يَسۡتَوِي مِنكُم مَّنۡ أَنفَقَ مِن قَبۡلِ ٱلۡفَتۡحِ وَقَٰتَلَۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعۡظَمُ دَرَجَةٗ مِّنَ ٱلَّذِينَ أَنفَقُواْ مِنۢ بَعۡدُ وَقَٰتَلُواْۚ وَكُلّٗا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلۡحُسۡنَىٰۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ ١٠ ﴾ [ الحديد : ١٠ ]
“তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আর তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবগত”। [সূরা : আল্-হাদীদ: ১০]
এখানে তাদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। তবে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। তিনি হলেন কল্যাণদাতা। আল্লাহ সে সমাজের তিনজনের ঘটনা উল্লেখ করেছেন যারা জিহাদ থেকে পশ্চাতে ছিলেন, এমনিভাবে যারা সহায় সম্বলের অভাবে জিহাদে শরিক হতে পারেন নি তাদের ঘটনাও উল্লেখ করেছেন।
৪- আল্লাহ তাদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যারা ভালো ও খারাপ কাজ মিশ্রিত করে ফেলেছিলেন। যারা তাকওয়ার উপর ভিত্তি করে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন তাদেরকে প্রশংসা করেছেন। তাই এ এখানে যাদের সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে তাদের নিয়ে চিন্তা গবেষণা করুন। তারা সকলেই মু’মিন ছিল।
৫- এরপরে আল্লাহ মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তাদের দোষত্রুটি ও অবস্থা আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন। কিছু দোষ তাদের সকলের মাঝেই ছিল আবার কিছু তাদের ব্যক্তিগত দোষত্রুটি ছিল। এ সম্পর্কে চিন্তা করুন। মু’মিনদের সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে যা আলোচনা হয়েছে তা ভাবভাবে পর্বেক্ষণ করুন ও গবেষণা করুন। এছাড়াও বেদুইনদের সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সত্যিকারের মু’মিন ছিল, আবার কেউ মিথ্যাবাদী মুনাফিক ছিল। তাই মু’মিন, বেদুঈন ও মুনাফিকদের সম্পর্কে ভাবুন। এরপরেও কি কেউ দ্বিধা সন্দেহে পড়তে পারে? কারা সবচেয়ে বিপজ্জনক তা বুঝতে কি কোন অসুবিধে থাকতে পারে?