১
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য
লেখকঃ শাইখ সালেহ ইবন আবদিল্লাহ আদ-দারওয়ীশ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
বাস্তবতা
ফয়সালা দেয়ার আগে চিন্তা-গবেষণা করুন!
আহলে সুন্নত ওয়াল জামা‘আত সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা ও সততার বিষয়টি কেন এত গুরুত্বের সাথে দেখে?
এব্যাপারে নিজেকে প্রশ্ন করুন এবং উত্তর তালাশ করুন। এ প্রশ্নের জবাব পেতে আপনার সামনে কতিপয় ধাপ রয়েছে। সেগুলো হলো:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ব্যাপারে অপবাদ দেয়া মানে ইসলামের শত্রুদের ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমনের পথ খুলে দেয়া। সেটা কিভাবে? আমি বলছি:
প্রথমত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে যখন অপবাদ দেয়া হবে তখন সাহাবী ছাড়া অন্যানদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া আরো অধিক সহজ ও উপযোগী হবে। হ্যাঁ, নিম্নের কারণে অন্যান্যদের ব্যাপারে সমালোচনা অধিক উপযোগী:
ক- সাহাবীগণের সম্মানে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে আয়াত নাযিল করেছেন যা কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হয়।
খ- মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অসংখ্য হাদীসে প্রশংসা করেছেন।
গ- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীদের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য ও ভালবাসার সম্পর্ক বিদ্যমান যা কখনও বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের অভিভাবক, শিক্ষক, সেনাপতি......... ইত্যাদি ছিলেন, যা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি।
ঘ- ইসলামী সব দলের ঐক্যমতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদম আলাইহিস সালামের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি নবীদের সর্দার ও মুসলিহীনদের ইমাম। অতঃএব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার দ্বারা যদি চারিত্রিক, ব্যক্তিগত কর্মকান্ড ও আকাঈদ ইত্যাদি ইসলাহ না হয় তবে যারা তাঁর চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদার তাদের দ্বারা এসব কাজ না হওয়াই অধিক যুক্তিসঙ্গত।
ঙ- ইতিহাস নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়। কেননা তারা অধিকাংশ ইসলামী বিজয়ের সেনাপতি ছিলেন। তারাই ইসলামের পতাকা বহন ও প্রচার প্রসার করেছেন। উত্তম চরিত্র ও ঈমানী শক্তি ইত্যাদি কারণে নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদা অন্যান্য নবীদের সাহাবীদের মর্যাদার উর্ধ্বে ছিল।
দ্বিতীয়ত: সাহাবীদের ব্যাপারে অপবাদ ইসলামের শত্রুদেরকে কুরআনের বিরুদ্ধে অপবাদ দিতে সাহায্য করে। যেমন তারা অপবাদ দেয়: কুরআনের প্রচার কাজে তাওয়াতুর তথা অসংখ্য মানুষের বর্ণনা কোথায়? কুরআন বহনকারীর মাঝে আমানত ও ন্যায়পরায়নতা কোথায়?
তৃতীয়ত: সাহাবীদেরকে অপবাদ দেয়া মানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাদীস ও সিরাতের ব্যাপারে অপবাদ দেয়া। কেননা সাহাবীগণই হাদীস ও সিরাত বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থত: এতে ইসলামের শত্রুরা সমালোচনার উর্বর ভূমি পাবে। তারা বলবে যে, ‘‘ইসলামের মৌলিক বিষয় ও উত্তম আখলাকের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কেননা যারা কুরআন নাযিলের সময় উপস্থিত ছিলেন এবং তাদেরকে সৃষ্টিকুলের সর্দার নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে শিক্ষা দিয়েছেন অথচ তারা অধিকাংশই এর বিপরীত ছিলেন’’।
পঞ্চমত: ইসলামের মর্যাদা ও এর সভ্যতা বিঘ্নিত হবে। এ ছাড়াও অনেক কারণ রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। এগুলো আপনাকে জবাব পেতে সাহায্য করবে।
رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لَنَا وَلِإِخۡوَٰنِنَا ٱلَّذِينَ سَبَقُونَا بِٱلۡإِيمَٰنِ وَلَا تَجۡعَلۡ فِي قُلُوبِنَا غِلّٗا لِّلَّذِينَ ءَامَنُواْ ١٠ ﴾ [ الحشر : ١٠ ]
হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না।
হে আল্লাহ, আমাদেরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অন্তর ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ভালবাসা দান করুন। ইয়া আরহামার রাহিমীন।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামা‘আত সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা ও সততার বিষয়টি কেন এত গুরুত্বের সাথে দেখে?
এব্যাপারে নিজেকে প্রশ্ন করুন এবং উত্তর তালাশ করুন। এ প্রশ্নের জবাব পেতে আপনার সামনে কতিপয় ধাপ রয়েছে। সেগুলো হলো:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ব্যাপারে অপবাদ দেয়া মানে ইসলামের শত্রুদের ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমনের পথ খুলে দেয়া। সেটা কিভাবে? আমি বলছি:
প্রথমত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে যখন অপবাদ দেয়া হবে তখন সাহাবী ছাড়া অন্যানদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া আরো অধিক সহজ ও উপযোগী হবে। হ্যাঁ, নিম্নের কারণে অন্যান্যদের ব্যাপারে সমালোচনা অধিক উপযোগী:
ক- সাহাবীগণের সম্মানে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে আয়াত নাযিল করেছেন যা কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হয়।
খ- মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অসংখ্য হাদীসে প্রশংসা করেছেন।
গ- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীদের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য ও ভালবাসার সম্পর্ক বিদ্যমান যা কখনও বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের অভিভাবক, শিক্ষক, সেনাপতি......... ইত্যাদি ছিলেন, যা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি।
ঘ- ইসলামী সব দলের ঐক্যমতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদম আলাইহিস সালামের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি নবীদের সর্দার ও মুসলিহীনদের ইমাম। অতঃএব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার দ্বারা যদি চারিত্রিক, ব্যক্তিগত কর্মকান্ড ও আকাঈদ ইত্যাদি ইসলাহ না হয় তবে যারা তাঁর চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদার তাদের দ্বারা এসব কাজ না হওয়াই অধিক যুক্তিসঙ্গত।
ঙ- ইতিহাস নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়। কেননা তারা অধিকাংশ ইসলামী বিজয়ের সেনাপতি ছিলেন। তারাই ইসলামের পতাকা বহন ও প্রচার প্রসার করেছেন। উত্তম চরিত্র ও ঈমানী শক্তি ইত্যাদি কারণে নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদা অন্যান্য নবীদের সাহাবীদের মর্যাদার উর্ধ্বে ছিল।
দ্বিতীয়ত: সাহাবীদের ব্যাপারে অপবাদ ইসলামের শত্রুদেরকে কুরআনের বিরুদ্ধে অপবাদ দিতে সাহায্য করে। যেমন তারা অপবাদ দেয়: কুরআনের প্রচার কাজে তাওয়াতুর তথা অসংখ্য মানুষের বর্ণনা কোথায়? কুরআন বহনকারীর মাঝে আমানত ও ন্যায়পরায়নতা কোথায়?
তৃতীয়ত: সাহাবীদেরকে অপবাদ দেয়া মানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাদীস ও সিরাতের ব্যাপারে অপবাদ দেয়া। কেননা সাহাবীগণই হাদীস ও সিরাত বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থত: এতে ইসলামের শত্রুরা সমালোচনার উর্বর ভূমি পাবে। তারা বলবে যে, ‘‘ইসলামের মৌলিক বিষয় ও উত্তম আখলাকের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কেননা যারা কুরআন নাযিলের সময় উপস্থিত ছিলেন এবং তাদেরকে সৃষ্টিকুলের সর্দার নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে শিক্ষা দিয়েছেন অথচ তারা অধিকাংশই এর বিপরীত ছিলেন’’।
পঞ্চমত: ইসলামের মর্যাদা ও এর সভ্যতা বিঘ্নিত হবে। এ ছাড়াও অনেক কারণ রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। এগুলো আপনাকে জবাব পেতে সাহায্য করবে।
رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لَنَا وَلِإِخۡوَٰنِنَا ٱلَّذِينَ سَبَقُونَا بِٱلۡإِيمَٰنِ وَلَا تَجۡعَلۡ فِي قُلُوبِنَا غِلّٗا لِّلَّذِينَ ءَامَنُواْ ١٠ ﴾ [ الحشر : ١٠ ]
হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না।
হে আল্লাহ, আমাদেরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অন্তর ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ভালবাসা দান করুন। ইয়া আরহামার রাহিমীন।