hadith book logo

আল্লামা নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান ভুপালী জীবন ও কর্ম

লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

জীবন যুদ্ধে সিদ্দীক হাসান খান

তিনি ২১ বছর বয়সে দিল্লী থেকে তার জন্মস্থান কান্নুজে ফিরে আসেন এবং কয়েক মাস অবস্থান করার পর তিনি জীবিকার সন্ধানে ভুপাল গমন করেন। কারণ পারিবারিকভাবে তারা তেমন সচ্ছল ছিলেন না।

ভুপালে তিনি বিশিষ্ট সালাফী আলেম মন্ত্রী জামালুদ্দীন খান সিদ্দিকী দেহলেবীর সাথে দেখা করেন। তার সাথে সিদ্দীক হাসান খানের পারিবারিক সম্পর্ক থাকার সুবাদে তিনি তাঁকে সেখানে সসম্মানে থাকার ব্যবস্থা করেন এবং তার নাতীদের পড়া-শোনা করার দায়িত্ব দেন।

এছাড়াও মন্ত্রী জামালুদ্দীন খান এর মধ্যস্থতায় ভুপালের রাণী সিকান্দার জাহান বেগম এর সাথে তার পরিচয় হয়। রাণী তাকে তার বিশেষ দেওয়ানীতে লেখক হিসেবে নিয়োগ দানের পাশাপাশি তার উপর মসজিদে ইবরাহীম খান এ প্রতি শুক্রবারে ওয়ায-নসীহত করার দায়িত্ব অর্পন করেন।

কিন্তু ১২৭৩ হিজরী মোতাবেক ১৮৫৬ খৃষ্টাব্দের প্রথম দিকে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের এক আলেমের সাথে ইলমী বিষয়ে তার মতানৈক্য সৃষ্টি হওয়ায় তাকে সরকারী দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। ফলে তিনি ভুপাল থেকে পিতৃভূমি কান্নুজে ফিরে এসে মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। কান্নুজ ফিরার পথে তার ব্যাগ-ব্যাগজে চুরি হয়ে গিয়েছিল।

যাহোক, তিনি অল্প কিছু দিন সেখানে অবস্থান করার পর কাজের সন্ধানে কানপুর গমণ করেন।

কিন্তু সে সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হলে তিনি সপরিবারে বিলগ্রাম চলে যান এবং সেখানে তারা অতি কষ্টে জীবন যাপন করতে থাকেন। কিন্তু তিনি সেখানে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে ১২৭৬ হিজরী মোতাবেক ১৮৫৯ খৃষ্টাব্দে পুরো কুরআনুল কারীম মুখস্থ করেন।

সে বছরের শেষ দিকে তিনি কান্নুজে ফিরে আসেন। অত:পর অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি কান্নুজ থেকে মির্যাপুরে স্থানান্তিত হন। সেখান থেকে ২য় বারের মত ভুপাল গমন করেন। অত:পর সেখান থেকে চলে যান টংক। টংকয় অবস্থানকালীন সময়ে তাকে ভুপালের ইতিহাস লেখার উদ্দেশ্যে ভুপালে ডেকে পাঠানো হয়। সেই আহ্বানে তিনি সেখানে এসে নতুন করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।