hadith book logo

আল্লামা নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান ভুপালী জীবন ও কর্ম

লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

সিদ্দীক হাসানের পিতা ও দাদা সম্পর্কে দুটি কথা:

কাল পরিক্রমায় সিদ্দীক হাসান খান এর পিতার জন্মস্থান কান্নুজ এলাকা শিয়াদের অধীনে চলে যায়। যার কারণে শিয়া প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে তার দাদা আলী আসগর শিয়া মতাবলম্বন করেন! সেই সাথে তার দু ছেলে লুতফুল্লাহ এবং আযীযুল্লাহও একই পথের পথিক হয়! কিন্তু তার তৃতীয় ছেলে সিদ্দীক খান এর পিতা হাসান (যে ছিল আলী আসগারের প্রথম স্ত্রীর সন্তান) কে আল্লাহ তাআলা শিয়াদের প্রভাব থেকে হেফাজত করেন।

পরববর্তীতে আলী আসগর এবং তার অন্যান্য ছেলেরা কান্নুজ থেকে হায়দ্রাবাদে চলে আসেন এবং শিয়াদের আনকুল্যে ইমারতের বিভিন্ন উচ্চপদে আসীন হয় আমীর খেতাবে ভূষিত হন। ফলে তারা ক্ষমতা, অর্থ-প্রতিপত্তি, রাজ প্রাসাদ সবই অর্জন করেন। অবশেষে সিদ্দীক হাসানের দাদা আলী আসগর অঢেল সম্পদ রেখে ১২১৮ হিজরী মোতাবেক ১৮০৩ খৃষ্টাব্দে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি শিয়া মতের অনুসারী হওয়ার কারণে হাসান তার পিতার পরিত্যক্ত সম্পদ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন।

যাহোক, সিদ্দীক এর পিতা হাসান কান্নুজে ১২০০ হিজরী মোতাবেক ১৭৮৫ খৃষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তার নিজ শহর কান্নুজ এবং লক্ষ্ণৌতে জ্ঞানার্জন করেন। অত:পর দিল্লী চলে যান। সেখানে শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী রহ. এর ছেলে শাহ আব্দুল আযীয, শাহ আব্দুল কাদির ও শাহ রফীউদ্দীন এর নিকট ইলম অর্জন করেন।

সেই সাথে তিনি দুই মুজাহিদ ইমাম আহমদ ইরফান ও ইসমাঈল শহীদ এর সাহচর্য লাভ করে তাদের সাথে জিহাদ করেন। তিনি তাওহীদের প্রচার-প্রসার, বিদআতের মূলোৎপাটন এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে উক্ত ইমামদ্বয়ের সহযোদ্ধা ছিলেন।

অত:পর তিনি দিল্লী থেকে ফিরে এসে নিজ শহর কান্নুজের মুফতী শায়খ মুহাম্মদ আউয আল উসমানী এর কন্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেযগার ও দুনিয়া বিমুখ বড় আলেম। তার রচিত বেশ কতিপয় মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে।

আল্লামা সিদ্দীক হাসান খান তার পিতার জীবনী তার আবজাদুল উলূম সহ বেশ কতিপয় গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি তিন মেয়ে ও দুই ছলে রেখে দুনিয়া থেকে চির বিদায় গ্রহণ করেন। একজন হলেন, সিদ্দীক হাসান (যার জীবনী নিয়ে আমাদের আলোচনা) অপরজন আহমদ হাসান। তিনিও সু সাহিত্যিক ও সালাফী আদর্শের বড় আলেম ছিলেন।