১
ওমর ইবনে আবদুল আজীজ
লেখকঃ রশীদ আখতার নদভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৭
বনু হাশিম
বনু উমাইয়াগণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভ করার পর প্রাক ইসলাম যুগের আরবের সেই পারস্পরিক সংঘর্ষ সৃষ্টিকারী গোত্রীয় বিদ্বেষকে ঘৃতাহুতি দিয়ে আসছিল যা একজনকে অপর জনের বিরুদ্ধে লড়তে এবং একের রক্তে অন্যের হাত রঙ্গীন করতে তাদেরকে উৎসাহিত করত।
যদিও মহানবী (ﷺ) বংশবিদ্বেষ ও আভিজা্য গৌরবকে নেহায়েত নীচ স্বভাব হিসেবে অবহিত করেছিলেন। যদিও তিনি বনু উমাইয়াগণকে তাঁর নৈকট্য আকর্ষণ করতেই আবু সুফিয়ানের এক কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। হযরত মুয়াবিয়া (রা)কে তাঁর ওহী লেখক নিযুক্ত করেছিলেন, উমাইয়া বংশীয় কোন কোন লোকে উপর বিশেষ অনুগ্রহ করেছিলেন।
হযরত ওসমান (রা)-এ শাহাদাতকে কেন্দ্র করে হাশেমী ও উমুবী গোত্রদ্বযের মধ্যে বংশবিদ্বেষের যে দুষ্ট ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল, এতেই এ দুটি শিবির একে অপর হতে দূরে চলে গিয়েছিল। উমুবী খলিফাগণ মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে হযরত আলী (রা)কে গালিগালাজ করত। তাদের মজলিসে বনু হাশিমদের কোন স্থান ছিল না। বনু হাশিমগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বংশ, আত্মীয় আহলে বাইত হওয়ার পরও তারা তাদেরকে নীচি ও অস্পৃশ্য বলে মনে করত। বায়তুল মাল হতে তাদেরকে কোন প্রকার সাহায্য কর হত না। বিশেষতঃ খলীফা আবদুল মালেক, ওয়ালীদ ও সুলায়মানের যুগে অসহায় বনু হাশিমগণ খুবই দুঃখ-কষ্টে জীন অতিবাহিত করেছিল।
পূর্বেই আলোকপাত করা হয়েছে যে, এ মিল্লাতের উপর ওমর ইবনে আবদুল আজিজ সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ এটাই যে, তিনি বনু হাশিম এবং উমাইয়াদের মধ্যকার বংশগত ঘৃণা-বিদ্বেষকে দূর করে পারস্পরিক সদ্ভাব সৃষ্টি করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে হযরত আলী (রা)-কে যে অশ্লীল কথা বলা হত, হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ ওকে আইনতঃ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তিতিন স্বয়ং মিম্বরে আরোহন করে গালির পরিবর্তে কুরআনের এ আয়াতটি পাঠ করতেন-
(আরবী)
“প্রতিপালক আমাদেরকে এবঙ আমাদের ভাইগণকে যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছেন ক্ষমা কর এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোন প্রকার বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না।”
তিনি প্রত্যেক শুক্রবারদিন মুসলমানগণকে একথাই বুঝিয়েছিলেন যে, পূর্ববর্তী মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা জায়য নেই এবং তার পূর্বে তার বাপ-দাদাগণ যে কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছিল উহা সম্পূরণরূপেই ভুল ছিল।
এ ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর নীত অবলম্বন করেছিলেন। তিনি তাঁর সাম্রাজের্যর সমস্ত শাসনকর্তাগণকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তারা হযরত আলী (রা)-এর প্রতি গালি-গালাজের স্থলে উপরিক্ত আয়াত পাঠ করে যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে যে, এরূপ গালিগালাজ করা মোটেই জায়েয নেই।
হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ এতটুকু করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি বনু হাশিমগণতে তার পার্শ্বে ডেকে এনে বিশেষ অনুগ্রহও প্রকাশ করতেন।
ঐতিহাসিক ইবনে সাদ বলেন, তিনি যখন মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন, যখন তিনি খলিফা হননি,তখন হতেই এ হিংসা দ্বেষ দূর করার জন্য চেষ্টা শুরু করেছিলেন। তিনি তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু বান্ধব সকলের নিকটিই হযরত আলী (রা) এবং অপরাপর আহলে বাইতের প্রশংসা করতেন।
যদিও মহানবী (ﷺ) বংশবিদ্বেষ ও আভিজা্য গৌরবকে নেহায়েত নীচ স্বভাব হিসেবে অবহিত করেছিলেন। যদিও তিনি বনু উমাইয়াগণকে তাঁর নৈকট্য আকর্ষণ করতেই আবু সুফিয়ানের এক কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। হযরত মুয়াবিয়া (রা)কে তাঁর ওহী লেখক নিযুক্ত করেছিলেন, উমাইয়া বংশীয় কোন কোন লোকে উপর বিশেষ অনুগ্রহ করেছিলেন।
হযরত ওসমান (রা)-এ শাহাদাতকে কেন্দ্র করে হাশেমী ও উমুবী গোত্রদ্বযের মধ্যে বংশবিদ্বেষের যে দুষ্ট ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল, এতেই এ দুটি শিবির একে অপর হতে দূরে চলে গিয়েছিল। উমুবী খলিফাগণ মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে হযরত আলী (রা)কে গালিগালাজ করত। তাদের মজলিসে বনু হাশিমদের কোন স্থান ছিল না। বনু হাশিমগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বংশ, আত্মীয় আহলে বাইত হওয়ার পরও তারা তাদেরকে নীচি ও অস্পৃশ্য বলে মনে করত। বায়তুল মাল হতে তাদেরকে কোন প্রকার সাহায্য কর হত না। বিশেষতঃ খলীফা আবদুল মালেক, ওয়ালীদ ও সুলায়মানের যুগে অসহায় বনু হাশিমগণ খুবই দুঃখ-কষ্টে জীন অতিবাহিত করেছিল।
পূর্বেই আলোকপাত করা হয়েছে যে, এ মিল্লাতের উপর ওমর ইবনে আবদুল আজিজ সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ এটাই যে, তিনি বনু হাশিম এবং উমাইয়াদের মধ্যকার বংশগত ঘৃণা-বিদ্বেষকে দূর করে পারস্পরিক সদ্ভাব সৃষ্টি করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে হযরত আলী (রা)-কে যে অশ্লীল কথা বলা হত, হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ ওকে আইনতঃ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তিতিন স্বয়ং মিম্বরে আরোহন করে গালির পরিবর্তে কুরআনের এ আয়াতটি পাঠ করতেন-
(আরবী)
“প্রতিপালক আমাদেরকে এবঙ আমাদের ভাইগণকে যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছেন ক্ষমা কর এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোন প্রকার বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না।”
তিনি প্রত্যেক শুক্রবারদিন মুসলমানগণকে একথাই বুঝিয়েছিলেন যে, পূর্ববর্তী মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা জায়য নেই এবং তার পূর্বে তার বাপ-দাদাগণ যে কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছিল উহা সম্পূরণরূপেই ভুল ছিল।
এ ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর নীত অবলম্বন করেছিলেন। তিনি তাঁর সাম্রাজের্যর সমস্ত শাসনকর্তাগণকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তারা হযরত আলী (রা)-এর প্রতি গালি-গালাজের স্থলে উপরিক্ত আয়াত পাঠ করে যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে যে, এরূপ গালিগালাজ করা মোটেই জায়েয নেই।
হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ এতটুকু করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি বনু হাশিমগণতে তার পার্শ্বে ডেকে এনে বিশেষ অনুগ্রহও প্রকাশ করতেন।
ঐতিহাসিক ইবনে সাদ বলেন, তিনি যখন মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন, যখন তিনি খলিফা হননি,তখন হতেই এ হিংসা দ্বেষ দূর করার জন্য চেষ্টা শুরু করেছিলেন। তিনি তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু বান্ধব সকলের নিকটিই হযরত আলী (রা) এবং অপরাপর আহলে বাইতের প্রশংসা করতেন।