hadith book logo

ওমর ইবনে আবদুল আজীজ

লেখকঃ রশীদ আখতার নদভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

পরিসমাপ্তি

নেতৃত্ব, শাসনব্যবস্থা এবং ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় যদিও বিপ্লব জনগণের জন্য অত্যন্ত উপকারী ছিল যদিও এভাবে ইসলামী শাসন ব্যবস্থার মান উন্নত হয়েছিল বিশ্বের সকল মানুষই মনে করত যে মানুষের নিরাপত্তা মানবতার কল্যাণ এবং মুক্তির জন্যই ইসলামের আবির্ভাব ঘটেছে এবং এ জীবন ব্যবস্থা কোন বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর আরাম আয়েশ ও জীবনে মান উন্নয়নের জন্য ছিল না, বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনাই ছিল এর একমাত্র উদ্দেশ্য।

কিন্তু উমাইয়া বংশের লোকেরা ইসলাম সম্পর্কে বিশ্বের এ শুভ ধারণার কামনা করত না। কারণ হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের দ্বারা তারা খুব বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল, তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ তিনি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তাদের লুণ্ঠিত সম্পদ জনগনেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল। যদি হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ আরো কিছু দিন জীবিত থাকতেন তবে বনু উমাইয়ার লোকেরা বিপদ আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পেত। বিশেষতঃ ইয়াযিদ ইবনে আবদুল মালেকের এ আশংকা ছিল যে, হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ তাকে পদচ্যূত করে তার পরিবর্তে অন্য কাকেও তার স্থালাভিষিক্ত করে না যান। যদিও সুলায়মানের ওছিয়ত ক্রমেই ইয়াযিদ ইবনে আবদুল মালেক যুবরাজ নিযুক্ত হয়েছিণে এবঙ পূর্ববর্তী খলিফার ‍ কৃত আহাদনামা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা যদিও খুব কঠিন কাজ ছিল কিন্তু তবুও হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এটা খুব অসম্ভব ছিল না যে, তিনি ইয়অযিদকে পদচ্যুত করে কোন সৎ ও নিষ্ঠাবন লোককে খলিফা নিযুক্ত করে যাবেন।

এ আশংকাই শেষ পর্যন্ত ইয়াযিদকে খলিফার বিরুদ্ধে এক হীন ষড়যন্ত্র করতে উদ্ধুদ্ধ করেছিল। সে তাকে খাদ্য বা পানীয়ে বিষ মিশিয়েছিল।