১
অন্তরের আমল ইখলাস
লেখকঃ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৮
রিয়া করা ও আমলে কাউকে শরিক করার মধ্যে পার্থক্য:
শরয়ী আমল করা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত না করে গাইরুল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন কামনা করাকে রিয়া বলা হয়। আর আমল করা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করার সাথে অন্য কিছুর সন্তুষ্টির নিয়ত করাকে আমলে অংশীদার করা বলে।
উল্লেখিত দুটি বিষয়ের দিক তাকিয়ে আমরা বলি, শরয়ী আমল বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত প্রকার:
প্রথম প্রকার: আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য করা আর কোন কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা।
আর এ প্রকার আমল হল, সবোর্চ্চ ও সর্বোত্তম আমল।
দ্বিতীয় প্রকার: আমল আল্লাহর জন্য করবে এবং অন্য কোন বৈধ বিষয়ের প্রতিও ভ্রুক্ষেপ করবে। যেমন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখা এবং সাথে সাথে দৈহিক সুস্থতার প্রতিও লক্ষ্য রাখা। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি আল্লাহ সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজ করতে বের হল এবং সাথে সাথে ব্যবসারও নিয়ত করল।
অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে পায়ে হেটে মসজিদে গমন করে আবার সাথে সাথে শরীর চর্চার নিয়তও করে।
উপরে উল্লেখিত দৃষ্টান্ত গুলোতে যে ধরনের নিয়তের কথা বলা হয়েছে, সে ধরনের নিয়তের কারণে আমল নষ্ট হয় না, তবে সাওয়াব কম হয়। উত্তম হল আল্লাহর নৈকট্য লাভ ছাড়া আর কোন কিছুর নিয়ত না করা।
তৃতীয় প্রকার:
আমল আল্লাহর জন্যই, কিন্তু আমল দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য থাকে বা নিয়ত করে যেগুলোর উদ্দেশ্য থাকা বা নিয়ত করা বৈধ নয়। যেমন, আমল দ্বারা উদ্দেশ্য হয়, মানুষের প্রশংসা কুড়ানো এবং আমলের বিনিময়ে টাকা-পয়সা উপার্জন করা। এ ধরনের আমলের কয়েকটি অবস্থা হয়ে থাকে:
- যদি আমল শুরু করার আগেই তার অন্তরে এ ধরনের উদ্দেশ্যের উদ্রেক হয় এবং আমল এ উদ্দেশ্যেই করে থাকে, তাহলে এ আমল ফাসেদ তার কোন মূল্য নাই। যেমন কোন ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নফল সালাত আদায় করে।
- আর যদি আমলের মাঝে এ ধরনের চিন্তার উদ্রেক হয়, তখন তাকে প্রতিহত করবে এবং প্রতিরোধ করবে। যেমন, কোন ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমল করা শুরু করল, তারপর কাউকে দেখল, একজন লোক তার দিকে তাকাচ্ছে, এ দেখে সে খুশি হল এবং তাদের প্রশংসা ও সুনামের আশা বা আগ্রহ করল, তারপর সে এ আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহকে প্রতিহত ও প্রতিরোধ করতে করতে সালাত শেষ করল, তাহলে তার আমল বিশুদ্ধ হবে এবং এ ধরনের সংগ্রাম করার কারণে সে বিনিময় পাবে।
- আমল করার মাঝখানে পার্থিব কোন উদ্দেশ্য বা রিয়া দেখা দিল কিন্তু তা প্রতিহত বা প্রতিরোধ কোনটাই করেনি। এ ধরনের অবস্থা আমলকে বাতিল করে দেবে।
চতুর্থ প্রকার:
আমল দ্বারা শরিয়ত ঘোষিত ছাওয়াব ও বিনিময় কোন কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে, এমন কিছু ইচ্ছা করা যার তলব করা বৈধ। যেমন, কোন ব্যক্তি আত্ম-রক্ষার জন্য রোজা রাখল অথবা গণিমতের মালামাল হাসিল করার জন্য জিহাদ করল এবং শুধু মাল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মালের যাকাত দিল। এ ধরনের আমল বাতিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
পঞ্চম প্রকার:
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রতি কোন প্রকার ভ্রূক্ষেপ না করে, আমল দ্বারা এমন কিছুর ইচ্ছা করা যার তলব শরয়ীভাবে যায়েয নাই। যেমন, শুধু মানুষকে দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা। এ ধরনের আমলকারীর আমল বাতিল এবং সে অপরাধী।
উল্লেখিত দুটি বিষয়ের দিক তাকিয়ে আমরা বলি, শরয়ী আমল বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত প্রকার:
প্রথম প্রকার: আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য করা আর কোন কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা।
আর এ প্রকার আমল হল, সবোর্চ্চ ও সর্বোত্তম আমল।
দ্বিতীয় প্রকার: আমল আল্লাহর জন্য করবে এবং অন্য কোন বৈধ বিষয়ের প্রতিও ভ্রুক্ষেপ করবে। যেমন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখা এবং সাথে সাথে দৈহিক সুস্থতার প্রতিও লক্ষ্য রাখা। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি আল্লাহ সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজ করতে বের হল এবং সাথে সাথে ব্যবসারও নিয়ত করল।
অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে পায়ে হেটে মসজিদে গমন করে আবার সাথে সাথে শরীর চর্চার নিয়তও করে।
উপরে উল্লেখিত দৃষ্টান্ত গুলোতে যে ধরনের নিয়তের কথা বলা হয়েছে, সে ধরনের নিয়তের কারণে আমল নষ্ট হয় না, তবে সাওয়াব কম হয়। উত্তম হল আল্লাহর নৈকট্য লাভ ছাড়া আর কোন কিছুর নিয়ত না করা।
তৃতীয় প্রকার:
আমল আল্লাহর জন্যই, কিন্তু আমল দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য থাকে বা নিয়ত করে যেগুলোর উদ্দেশ্য থাকা বা নিয়ত করা বৈধ নয়। যেমন, আমল দ্বারা উদ্দেশ্য হয়, মানুষের প্রশংসা কুড়ানো এবং আমলের বিনিময়ে টাকা-পয়সা উপার্জন করা। এ ধরনের আমলের কয়েকটি অবস্থা হয়ে থাকে:
- যদি আমল শুরু করার আগেই তার অন্তরে এ ধরনের উদ্দেশ্যের উদ্রেক হয় এবং আমল এ উদ্দেশ্যেই করে থাকে, তাহলে এ আমল ফাসেদ তার কোন মূল্য নাই। যেমন কোন ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নফল সালাত আদায় করে।
- আর যদি আমলের মাঝে এ ধরনের চিন্তার উদ্রেক হয়, তখন তাকে প্রতিহত করবে এবং প্রতিরোধ করবে। যেমন, কোন ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমল করা শুরু করল, তারপর কাউকে দেখল, একজন লোক তার দিকে তাকাচ্ছে, এ দেখে সে খুশি হল এবং তাদের প্রশংসা ও সুনামের আশা বা আগ্রহ করল, তারপর সে এ আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহকে প্রতিহত ও প্রতিরোধ করতে করতে সালাত শেষ করল, তাহলে তার আমল বিশুদ্ধ হবে এবং এ ধরনের সংগ্রাম করার কারণে সে বিনিময় পাবে।
- আমল করার মাঝখানে পার্থিব কোন উদ্দেশ্য বা রিয়া দেখা দিল কিন্তু তা প্রতিহত বা প্রতিরোধ কোনটাই করেনি। এ ধরনের অবস্থা আমলকে বাতিল করে দেবে।
চতুর্থ প্রকার:
আমল দ্বারা শরিয়ত ঘোষিত ছাওয়াব ও বিনিময় কোন কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে, এমন কিছু ইচ্ছা করা যার তলব করা বৈধ। যেমন, কোন ব্যক্তি আত্ম-রক্ষার জন্য রোজা রাখল অথবা গণিমতের মালামাল হাসিল করার জন্য জিহাদ করল এবং শুধু মাল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মালের যাকাত দিল। এ ধরনের আমল বাতিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
পঞ্চম প্রকার:
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রতি কোন প্রকার ভ্রূক্ষেপ না করে, আমল দ্বারা এমন কিছুর ইচ্ছা করা যার তলব শরয়ীভাবে যায়েয নাই। যেমন, শুধু মানুষকে দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা। এ ধরনের আমলকারীর আমল বাতিল এবং সে অপরাধী।