hadith book logo

অন্তরের আমল ইখলাস

লেখকঃ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

রিয়া হতে দূরে থাকার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়া:

কোন কোন মুসলিম রিয়া হতে দূরে থাকার জন্য মিথ্যা কথা বলা বৈধ বলে দাবি করেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল ও অন্যায় কাজ। কারণ, মিথ্যা বলা মুসলিমের চরিত্র হতে পারে না।

যেমন, এক লোক আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদ বানাল, তারপর যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, সে সরাসরি মিথ্যা কথা বলল; অর্থাৎ, “আমি মসজিদটি নির্মাণ করিনি, অমুক বানিয়েছে” এ ধরনের কথা বলে। এ ক্ষেত্রে সরাসরি মিথ্যা না বলে অস্পষ্ট কোন কথা বলা যেতে পারে। যেমন, বলবে- একজন মুসলিম ভাইয়ের টাকা দিয়ে মসজিদটি বানানো হয়েছে।

কিছু বিষয় আছে মানুষ রিয়া মনে করে কিন্তু বাস্তবে তা রিয়া নয়:

- তোমার ইচ্ছার বাইরে তোমার কোন ভাল কাজের উপর প্রশংসা করা। [এটি রিয়া নয়] বরং এটি মুমিনদের জন্য নগদ সু-সংবাদ।

- ইচ্ছার বাইরে, সুনাম অর্জন করা। যেমন, একজন আলেম বা তালেবে ইলম, যে মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দেয়, তাদের দ্বীন বিষয়ে তাদের তালীম দেয়, তাদের বিভিন্ন সমস্যার শরয়ী সমাধান বা ফতওয়া দেয়, তারা কিছুটা হলেও প্রসিদ্ধি পায়। তারা যেন রিয়া থেকে দূরে থাকা দাবি করে এ ধরনের জন কল্যাণমুলক কর্ম হতে বিরত না থাকে। বরং তার উপর কর্তব্য হল, তার মধ্যে যাতে রিয়া বা অহংকার না আসে সে জন্য সংগ্রাম করবে এবং এ ধরনের কর্মগুলো চালিয়ে যাবে।

- কোন ব্যক্তিকে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে তৎপর দেখে, লোকটির মত আল্লাহর ইবাদতে তৎপর হওয়া রিয়া নয়। যদি ইবাদত দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়, তবে সে সাওয়াব পাবে।

- কাপড় সুন্দর রাখা, সুন্দর কাপড় পরিধান করা, সুন্দর জুতা পরিধান করা, সু-গন্ধি ব্যবহার করা ইত্যাদি রিয়া নয়।

- গুনাহকে গোপন করা, গুনাহের আলোচনা না করা, রিয়া নয়। বরং আমরা আমাদের নিজেদের অপরাধ বা অন্য কোন ভাইয়ের অপরাধকে গোপন করা বিষয়ে আমরা শরিয়ত কর্তৃক নির্দেশিত। অনেকে ধারণা করে, গুনাহ করে জানিয়ে দেয়া ভাল, তাতে লোকটি মুখলিস বলে প্রমাণিত হয়। এ ধরণের ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক এবং ইবলিসের ধোঁকা বৈই আর কিছুই নয়। কারণ, গুনাহ সম্পর্কে জানানো, মুমিনদের মাঝে অন্যায়কে ছড়ানো বা প্রচার করার নামান্তর।