১
অন্তরের আমল ইখলাস
লেখকঃ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
সালফে সালেহীনদের নিকট ইখলাসের গুরুত্ব:
আল্লাহ তা‘আলার বাণীসমূহের তিলাওয়াত ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিসসমূহ অধ্যয়ন করার পর সালফে সালেহীনরা ইখলাসের গুরুত্ব সম্পর্কে উম্মতদের অধিক সতর্ক করেন। তারা ইখলাসের গুরুত্ব ও ইখলাস না থাকার ক্ষতি উপলব্ধি করত: ইখলাসের মহা মর্যাদা দিয়ে থাকেন। ফলে দেখা যায়, তারা তাদের লিখনীতে প্রথমে নিয়ত বিষয়ে আলোচনা দিয়ে আরম্ভ করেন। যেমন- ইমাম বুখারি «إنِّمَا الأعَمَالُ باِلنيِّاتِ» “সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল”। [বুখারি: ১, মুসলিম: ১৯০৭।] হাদিসটি দিয়ে তার কিতাব আরম্ভ করেন। আব্দুর রহমান বিন মাহদী রহ. বলেন,
“বিভিন্ন অধ্যায়ের উপর যদি আমি কোন কিতাব লিখতাম, তাহলে প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে আমি ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনুহু এর হাদিস-যাবতীয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল-কে উল্লেখ করতাম”। [জামেয়ুল উলুম ওয়াল হিকাম:৮/১।]
অনুরূপভাবে তারা বলেন, নিয়ত আমল হতেও গুরুত্বপূর্ণ। ইয়াহয়া বিন আবি কাছির রহ. বলেন, তোমরা নিয়ত শেখ, কারণ, তা আমল হতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। [হুলিয়াতুল আওলিয়া ৭০/৩, জামেয়ুল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৩।] মানুষকে ইখলাস শেখানোর বিষয়ে ওলামাগণ সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। আল্লামা ইবনু আবি জামরাহ রহ. বলেন, আমি পছন্দ করি যে, যদি কতক ফকীহ এমন হত, তারা মানুষকে তাদের আমলের উদ্দেশ্য শেখানো নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এবং তাদের আমলের নিয়ত শেখানোর উদ্দেশ্যে এক জায়গায় বসে থাকবে; তারা আর কোন কাজ করবে না। [আল-মাদখাল, ১/১।] কারণ, অধিকাংশ মানুষকে দেখা যাচ্ছে তারা নিয়তের কারণে তাদের আমলকে নষ্ট করছে।
অপর দিকে আমরা দেখতে পাই, আল্লাহ তা‘আলা রিয়াকারী যারা তাদের আমল দ্বারা পার্থিব স্বার্থ লাভের ইচ্ছা পোষণ করে, তাদের ভৎসনা ও তিরস্কার করছেন এবং রিয়ার পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ مَن كَانَ يُرِيدُ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيۡهِمۡ أَعۡمَٰلَهُمۡ فِيهَا وَهُمۡ فِيهَا لَا يُبۡخَسُونَ ١٥ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَيۡسَ لَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ إِلَّا ٱلنَّارُۖ وَحَبِطَ مَا صَنَعُواْ فِيهَا وَبَٰطِلٞ مَّا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ١٦ ﴾ [ هود : ١٥، ١٦ ]
“যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন ও তার জৌলুস কামনা করে, আমি সেখানে তাদেরকে তাদের আমলের ফল পুরোপুরি দিয়ে দেই এবং সেখানে তাদেরকে কম দেয়া হবে না। এরাই তারা, আখিরাতে যাদের জন্য আগুণ ছাড়া আর কিছুই নেই এবং তারা সেখানে যা করে তা বরবাদ হয়ে যাবে আর তারা যা করত, তা সম্পূর্ণ বাতিল”। [সূরা হুদ, আয়াত: ১৫, ১৬] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿مَّن كَانَ يُرِيدُ ٱلۡعَاجِلَةَ عَجَّلۡنَا لَهُۥ فِيهَا مَا نَشَآءُ لِمَن نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلۡنَا لَهُۥ جَهَنَّمَ يَصۡلَىٰهَا مَذۡمُومٗا مَّدۡحُورٗا ١٨ ﴾ [ الاسراء : ١٨ ]
“যে দুনিয়া চায় আমি সেখানে তাকে দ্রুত দিয়ে দেই, যা আমি চাই, যার জন্য চাই। তারপর তার জন্য নির্ধারণ করি জাহান্নাম, সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত, বিতাড়িত অবস্থায়”। [সূরা ইসরা, আয়াত: ১৮] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿مَن كَانَ يُرِيدُ حَرۡثَ ٱلۡأٓخِرَةِ نَزِدۡ لَهُۥ فِي حَرۡثِهِۦۖ وَمَن كَانَ يُرِيدُ حَرۡثَ ٱلدُّنۡيَا نُؤۡتِهِۦ مِنۡهَا وَمَا لَهُۥ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِن نَّصِيبٍ ٢٠﴾ [ الشورى : ٢٠ ]
“যে আখিরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি, আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকে কিছু দেই এবং আখিরাতে তার জন্য কোন অংশই থাকবে না”। [ সূরা শুরা, আয়াত: ২০]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« إنِ أَخْوَف مَا أَخَافُ عَلَيْكُم الشِّرْكُ الأَصْغَرُ قَالُوا : وَمَا الشِّركُ الأصْغَرُ يَا رَسُولَ الله؟ قَالَ الرِّيَاءُ، يَقُولُ الله لهْم يْوَم القَياَمِة إذَِا جزي الناَّسُ بِأَعْمَالهِمْ : اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتم تُراءُونَ فِي الدُّْنيَا، فَانْظُرُوا هَلْ تَجدُونَ عِنْدَهْم جَزَاءً»
“আমি তোমাদের উপর যে জিনিষটিকে বেশি ভয় করি, তা হল, ছোট শিরক। সাহাবীরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কি? তিনি উত্তর দিলেন, রিয়া। আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন যখন মানুষকে তাদের আমলের বিনিময় দেবেন, তখন রিয়াকারীকে বলবেন, যাও দুনিয়াতে যাদেরকে তোমরা তোমাদের আমল দেখাতে, দেখ তাদের নিকট কোন সাওয়াব পাও কিনা”? [আহমদ: ২৩৬৮১।]
হে মুসলিম ভাইয়েরা! তোমরা উল্লেখিত দুটি পথের যে কোন একটি পথ ধর। হয় ইখলাসের পথ- আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ইচ্ছা- অথবা রিয়ার পথ-দুনিয়া হাসিলের ইচ্ছা-। আর মনে রাখবে, মানুষকে কিয়ামতের দিন তাদের নিয়ত অনুযায়ী দাড় করানো হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إَِّنَما يُبْعَثُ النَّاسُ عَلَى نياتِهمِْ “অবশ্যই মানুষকে তাদের নিয়তের উপর ভিত্তি করে প্রেরণ করা হবে”। [বর্ণনায় ইবনে মাযা: ৪২২৯। আল্লামা আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন।] যখন তুমি রিয়াকারী ধ্বংস প্রাপ্তদের সাথে ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন তুমি তোমার নিজেকে ছাড়া কাউকে দোষারোপ করবে না।
“বিভিন্ন অধ্যায়ের উপর যদি আমি কোন কিতাব লিখতাম, তাহলে প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে আমি ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনুহু এর হাদিস-যাবতীয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল-কে উল্লেখ করতাম”। [জামেয়ুল উলুম ওয়াল হিকাম:৮/১।]
অনুরূপভাবে তারা বলেন, নিয়ত আমল হতেও গুরুত্বপূর্ণ। ইয়াহয়া বিন আবি কাছির রহ. বলেন, তোমরা নিয়ত শেখ, কারণ, তা আমল হতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। [হুলিয়াতুল আওলিয়া ৭০/৩, জামেয়ুল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৩।] মানুষকে ইখলাস শেখানোর বিষয়ে ওলামাগণ সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। আল্লামা ইবনু আবি জামরাহ রহ. বলেন, আমি পছন্দ করি যে, যদি কতক ফকীহ এমন হত, তারা মানুষকে তাদের আমলের উদ্দেশ্য শেখানো নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এবং তাদের আমলের নিয়ত শেখানোর উদ্দেশ্যে এক জায়গায় বসে থাকবে; তারা আর কোন কাজ করবে না। [আল-মাদখাল, ১/১।] কারণ, অধিকাংশ মানুষকে দেখা যাচ্ছে তারা নিয়তের কারণে তাদের আমলকে নষ্ট করছে।
অপর দিকে আমরা দেখতে পাই, আল্লাহ তা‘আলা রিয়াকারী যারা তাদের আমল দ্বারা পার্থিব স্বার্থ লাভের ইচ্ছা পোষণ করে, তাদের ভৎসনা ও তিরস্কার করছেন এবং রিয়ার পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ مَن كَانَ يُرِيدُ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيۡهِمۡ أَعۡمَٰلَهُمۡ فِيهَا وَهُمۡ فِيهَا لَا يُبۡخَسُونَ ١٥ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَيۡسَ لَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ إِلَّا ٱلنَّارُۖ وَحَبِطَ مَا صَنَعُواْ فِيهَا وَبَٰطِلٞ مَّا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ١٦ ﴾ [ هود : ١٥، ١٦ ]
“যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন ও তার জৌলুস কামনা করে, আমি সেখানে তাদেরকে তাদের আমলের ফল পুরোপুরি দিয়ে দেই এবং সেখানে তাদেরকে কম দেয়া হবে না। এরাই তারা, আখিরাতে যাদের জন্য আগুণ ছাড়া আর কিছুই নেই এবং তারা সেখানে যা করে তা বরবাদ হয়ে যাবে আর তারা যা করত, তা সম্পূর্ণ বাতিল”। [সূরা হুদ, আয়াত: ১৫, ১৬] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿مَّن كَانَ يُرِيدُ ٱلۡعَاجِلَةَ عَجَّلۡنَا لَهُۥ فِيهَا مَا نَشَآءُ لِمَن نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلۡنَا لَهُۥ جَهَنَّمَ يَصۡلَىٰهَا مَذۡمُومٗا مَّدۡحُورٗا ١٨ ﴾ [ الاسراء : ١٨ ]
“যে দুনিয়া চায় আমি সেখানে তাকে দ্রুত দিয়ে দেই, যা আমি চাই, যার জন্য চাই। তারপর তার জন্য নির্ধারণ করি জাহান্নাম, সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত, বিতাড়িত অবস্থায়”। [সূরা ইসরা, আয়াত: ১৮] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿مَن كَانَ يُرِيدُ حَرۡثَ ٱلۡأٓخِرَةِ نَزِدۡ لَهُۥ فِي حَرۡثِهِۦۖ وَمَن كَانَ يُرِيدُ حَرۡثَ ٱلدُّنۡيَا نُؤۡتِهِۦ مِنۡهَا وَمَا لَهُۥ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِن نَّصِيبٍ ٢٠﴾ [ الشورى : ٢٠ ]
“যে আখিরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি, আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকে কিছু দেই এবং আখিরাতে তার জন্য কোন অংশই থাকবে না”। [ সূরা শুরা, আয়াত: ২০]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« إنِ أَخْوَف مَا أَخَافُ عَلَيْكُم الشِّرْكُ الأَصْغَرُ قَالُوا : وَمَا الشِّركُ الأصْغَرُ يَا رَسُولَ الله؟ قَالَ الرِّيَاءُ، يَقُولُ الله لهْم يْوَم القَياَمِة إذَِا جزي الناَّسُ بِأَعْمَالهِمْ : اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتم تُراءُونَ فِي الدُّْنيَا، فَانْظُرُوا هَلْ تَجدُونَ عِنْدَهْم جَزَاءً»
“আমি তোমাদের উপর যে জিনিষটিকে বেশি ভয় করি, তা হল, ছোট শিরক। সাহাবীরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কি? তিনি উত্তর দিলেন, রিয়া। আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন যখন মানুষকে তাদের আমলের বিনিময় দেবেন, তখন রিয়াকারীকে বলবেন, যাও দুনিয়াতে যাদেরকে তোমরা তোমাদের আমল দেখাতে, দেখ তাদের নিকট কোন সাওয়াব পাও কিনা”? [আহমদ: ২৩৬৮১।]
হে মুসলিম ভাইয়েরা! তোমরা উল্লেখিত দুটি পথের যে কোন একটি পথ ধর। হয় ইখলাসের পথ- আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ইচ্ছা- অথবা রিয়ার পথ-দুনিয়া হাসিলের ইচ্ছা-। আর মনে রাখবে, মানুষকে কিয়ামতের দিন তাদের নিয়ত অনুযায়ী দাড় করানো হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إَِّنَما يُبْعَثُ النَّاسُ عَلَى نياتِهمِْ “অবশ্যই মানুষকে তাদের নিয়তের উপর ভিত্তি করে প্রেরণ করা হবে”। [বর্ণনায় ইবনে মাযা: ৪২২৯। আল্লামা আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন।] যখন তুমি রিয়াকারী ধ্বংস প্রাপ্তদের সাথে ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন তুমি তোমার নিজেকে ছাড়া কাউকে দোষারোপ করবে না।