hadith book logo

সঠিক ইসলামী মতবাদ [আর-রিসালাতুশ শামিয়্যাহ]

লেখকঃ আব্দুল আযীয ইবন মারযূক আত-ত্বারীফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

একাদশ অধ্যায় মৃত্যু যথাযথ সত্য

মৃত্যু যথাযথ সত্য:

﴿كُلُّ مَنۡ عَلَيۡهَا فَانٖ ٢٦ وَيَبۡقَىٰ وَجۡهُ رَبِّكَ ذُو ٱلۡجَلَٰلِ وَٱلۡإِكۡرَامِ ٢٧﴾ [ الرحمن : ٢٦، ٢٧ ]

“ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবকিছুই নশ্বর, আর অবিনশ্বর শুধু আপনার রবের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব।” [সূরা আর রহমান, আয়াত: ২৬-২৭]

আর ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদির মধ্যে রয়েছে, মৃত্যুর পরে কবরের পরীক্ষা, শাস্তি ও শান্তি সম্পর্কে যা হবে তা যেভাবে অহীতে এসেছে সেভাবে ঈমান আনয়ন করা।

আর পুনরুত্থান ও পুনরায় দণ্ডায়মান হওয়ার ওপর ঈমান আনতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَنُفِخَ فِي ٱلصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ ٱلۡأَجۡدَاثِ إِلَىٰ رَبِّهِمۡ يَنسِلُونَ ٥١﴾ [ يس : ٥١ ]

“আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে তখনই তারা কবর থেকে ছুটে আসবে তাদের রবের দিকে।” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৫১]

আর এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণকারী আল্লাহর সাথে কুফরকারী:

﴿وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَفَلَمۡ تَكُنۡ ءَايَٰتِي تُتۡلَىٰ عَلَيۡكُمۡ فَٱسۡتَكۡبَرۡتُمۡ وَكُنتُمۡ قَوۡمٗا مُّجۡرِمِينَ ٣١ وَإِذَا قِيلَ إِنَّ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقّٞ وَٱلسَّاعَةُ لَا رَيۡبَ فِيهَا قُلۡتُم مَّا نَدۡرِي مَا ٱلسَّاعَةُ إِن نَّظُنُّ إِلَّا ظَنّٗا وَمَا نَحۡنُ بِمُسۡتَيۡقِنِينَ ٣٢﴾ [ الجاثية : ٣١، ٣٢ ]

“আর যারা কুফুরী করেছে (তাদেরকে বলা হবে), ‘তোমাদের কাছে কি আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় নি? অতঃপর তোমরা অহংকার করেছিলে এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়। আর যখন বলা হয়, ‘নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তখন তোমরা বলে থাক, আমরা জানি না কিয়ামত কী? আমরা কেবল অনুমান করি এবং আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী নই।” [সূরা আল-জাসিয়াহ, আয়াত: ৩১-৩২]

তাহলে যারা আখিরাতকে সরাসরি অস্বীকার-ই করে, তারা তো কাফিরই:

﴿بَلۡ كَذَّبُواْ بِٱلسَّاعَةِۖ وَأَعۡتَدۡنَا لِمَن كَذَّبَ بِٱلسَّاعَةِ سَعِيرًا ١١ ﴾ [ الفرقان : ١١ ]

“বরং তারা কিয়ামতের ওপর মিথ্যারোপ করেছে। আর যে কিয়ামতে মিথ্যারোপ করে তার জন্য আমরা প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত আগুন।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ১১]

ঈমানের আরও অন্তর্ভুক্ত বিষয় হচ্ছে, হিসাব-নিকাশের ওপর ঈমান আনয়ন করা। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَنَضَعُ ٱلۡمَوَٰزِينَ ٱلۡقِسۡطَ لِيَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٞ شَيۡ‍ٔٗاۖ وَإِن كَانَ مِثۡقَالَ حَبَّةٖ مِّنۡ خَرۡدَلٍ أَتَيۡنَا بِهَاۗ وَكَفَىٰ بِنَا حَٰسِبِينَ ٤٧ ﴾ [ الانبياء : ٤٧ ]

“আর কেয়ামতের দিনে আমরা ন্যায় বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব। সুতরাং কারো প্রতি কোনো যুলুম করা হবে না এবং কাজ যদি শষ্য দানা পরিমাণ ওজনেরও হয় তবুও তা আমরা উপস্থিত করব। আর হিসেব গ্রহণকারীরূপে আমরাই যথেষ্ট।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৪৭]

অনুরূপভাবে ঈমানের আরও বিষয় হচ্ছে, সাওয়াব ও শাস্তি, জান্নাত ও আগুনের ওপর ঈমান আনয়ন করা। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿فَأَمَّا ٱلَّذِينَ شَقُواْ فَفِي ٱلنَّارِ لَهُمۡ فِيهَا زَفِيرٞ وَشَهِيقٌ ١٠٦ ﴾ [ هود : ١٠٦ ]

“অতঃপর যারা হবে হতভাগ্য তারা থাকবে আগুনে এবং সেখানে তাদের থাকবে চিৎকার ও আর্তনাদ।” [সূরা হূদ, আয়াত: ১০৬]

তিনি আরও বলেন,

﴿وَأَمَّا ٱلَّذِينَ سُعِدُواْ فَفِي ٱلۡجَنَّةِ ﴾ [ هود : ١٠٨ ]

“আর যারা ভাগ্যবান হয়েছে তারা থাকবে জান্নাতে।” [সূরা হূদ: ১০৮]

আর কাফিররা আগুনে যাবে এবং ঈমানদারগণ জান্নাতে যাবে। যেমন, আল্লাহ বলেন,

﴿فَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فَأُعَذِّبُهُمۡ عَذَابٗا شَدِيدٗا فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّٰصِرِينَ ٥٦ وَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَيُوَفِّيهِمۡ أُجُورَهُمۡۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلظَّٰلِمِينَ ٥٧ ﴾ [ ال عمران : ٥٦، ٥٧ ]

“তারপর যারা কুফুরী করেছে আমি তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠোর শাস্তি প্রদান করব এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তিনি তাদের প্রতিফল পুরোপুরিভাবে প্রদান করবেন। আর আল্লাহ যালিমদেরকে পছন্দ করেন না।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫৬-৫৭]

আর আখিরাতের বিষয়াদির মধ্য থেকে যা-ই কুরআন ও হাদীসের নস বা ভাষ্য দ্বারা প্রমাণিত, তার ওপর ঈমান আনয়ন করা অপরিহার্য। যেমন, সিরাত, মীযান, হাউয, সৎকাজ ও মন্দকাজের আমলনামা।