hadith book logo

সঠিক ইসলামী মতবাদ [আর-রিসালাতুশ শামিয়্যাহ]

লেখকঃ আব্দুল আযীয ইবন মারযূক আত-ত্বারীফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

দ্বিতীয় অধ্যায় ইসলামের ব্যাখ্যা ও তাতে যা এসেছে তা দ্বারা আল্লাহর কী উদ্দেশ্য…

ইসলামের ব্যাখ্যা ও তাতে যা এসেছে তা দ্বারা আল্লাহর কী উদ্দেশ্য, তা শুধুমাত্র আল্লাহ-ই বর্ণনা করেছেন তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতে। মানুষের মধ্যে আল্লাহর নাবীর মত সম্মানিত কেউ নেই, তারপরও তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে প্রচারক মাত্র। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ بَلِّغۡ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ مِن رَّبِّكَ﴾ [ المائ‍دة : ٦٧ ]

“হে রাসূল! আপনার রবের কাছ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা প্রচার করুন।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৬৭] নাবীর ওপর প্রচারের পাশাপাশি অন্য দায়িত্ব হচ্ছে, সেটাকে বর্ণনা করা। আল্লাহ বলেন,

﴿وَمَا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلۡبَلَٰغُ ٱلۡمُبِينُ ٥٤﴾ [ النور : ٥٤ ]

“মূলতঃ রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।” [সূরা আন-নূর: ৫৪] তারপর এটা জানাও আবশ্যক যে, সে বর্ণনাটিও মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে।

﴿فَإِذَا قَرَأۡنَٰهُ فَٱتَّبِعۡ قُرۡءَانَهُۥ ١٨ ثُمَّ إِنَّ عَلَيۡنَا بَيَانَهُۥ ١٩ ﴾ [ القيامة : ١٨، ١٩ ]

“কাজেই যখন আমরা তা পাঠ করি আপনি সে পাঠের অনুসরণ করুন, তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব নিশ্চিতভাবে আমাদেরই।” [সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ১৮-১৯]

সুতরাং সুন্নাহ হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নাবীর কাছে প্রেরিত অহী:

﴿وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰٓ ٣ إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡيٞ يُوحَىٰ ٤﴾ [ النجم : ٣، ٤ ]

“আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তা তো কেবল অহী, যা তার প্রতি অহীরূপে প্রেরিত হয়।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩-৪] সুতরাং যখনই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো প্রশ্ন করা হতো, আর তার কাছে তাঁর রবের পক্ষ থেকে পূর্ব হতেই কোনো জওয়াব থাকত, তবে তিনি সেটার উত্তর দিতেন, নতুবা তিনি অহীর অপেক্ষা করতেন।

আর নাবীর অনুধাবনের সবচেয়ে নিকটতম মানুষগুলো হচ্ছেন, নাবীর সাহাবীগণ। আর তাই কুরআনের ব্যাপারে তাদের বুঝ-অনুধাবন দলীল হিসেবে গণ্য। আর যে ব্যক্তি বলবে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও জন্য দীনের মধ্যে হালাল-হারাম জনিত বিধান দেওয়ার অধিকার রয়েছে, সে এতে করে আল্লাহর সাথে শরীক হয়ে গেল তাঁর বিধান প্রদানে; আর এটি এমন কুফুরী ও শির্ক যাতে কোনো দ্বিমত করার অবকাশ নেই।

আল্লাহ তা‘আলা তার কিতাব নাযিল করার সাথে সাথে সেটার বাক্যাবলীকে অর্থবহ করেই নাযিল করেছেন। তাঁর কিতাবের বাণীর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার অধিকার তিনি স্বয়ং অথবা তিনি যাকে অনুমতি দিয়েছেন সে ব্যতীত অন্য কারও নেই। আর কুরআনুল কারীমে দৃষ্টি প্রদান করে তা থেকে বিধি-বিধান বের করা দু’টি শর্তেই কেবল সম্ভব:

এক. কোনো ক্রমেই যেন এর একক অর্থ বা সামষ্টিক অর্থ আরবী ভাষা ও আরবদের চিরাচরিত নিয়মের বাইরে না যায়।

দুই. কুরআনুল কারীমে সরাসরি স্পষ্টভাবে সাব্যস্ত কোনো অর্থের বিপরীত যেনো সেটি না হয়।

সুতরাং যা কিছু আল্লাহর দিকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়, তা সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আহলে কিতাব তথা ইয়াহূদী ও নাসারারা তখনই পথভ্রষ্ট হয়েছে, যখন তারা আল্লাহর বাণীসমূহের অযাচিত অর্থ বের করেছে; স্পষ্টবাণীর অর্থ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করেছে, যাতে অস্পষ্ট বাণীর অর্থকে বিনষ্ট করে দিতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা আহলে কিতাবদের সম্পর্কে বলেন,

﴿وَإِنَّ مِنۡهُمۡ لَفَرِيقٗا يَلۡوُۥنَ أَلۡسِنَتَهُم بِٱلۡكِتَٰبِ لِتَحۡسَبُوهُ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَمَا هُوَ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنۡ عِندِ ٱللَّهِ وَمَا هُوَ مِنۡ عِندِ ٱللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ ٧٨﴾ [ ال عمران : ٧٨ ]

“আর নিশ্চয় তাদের মধ্যে একদল আছে যারা কিতাবকে জিহ্বা দ্বারা বিকৃত করে যাতে তোমরা সেটাকে আল্লাহর কিতাবের অংশ মনে কর, অথচ সেটা কিতাবের অংশ নয়। আর তারা বলে, ‘তা আল্লাহর পক্ষ থেকে’ অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আর তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর ওপর মিথ্যা বলে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৭৮] এখানে আল্লাহ বলেছেন, তারা তাদের জিহ্বা দ্বারা বিকৃত করেছে কিতাবকেই, অন্য কিছুকে নয়, যাতে করে কিতাবের খুব নিকটবর্তী হওয়ার কারণে ঐ বিকৃত অংশকে তোমরা কিতাব হিসেবেই মনে কর এবং তারা এভাবে মানুষকে ভালোমত ভ্রষ্ট করতে পারে।