hadith book logo

সঠিক ইসলামী মতবাদ [আর-রিসালাতুশ শামিয়্যাহ]

লেখকঃ আব্দুল আযীয ইবন মারযূক আত-ত্বারীফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

তৃতীয় অধ্যায়: আল্লাহর হক

আল্লাহর হক: যাবতীয় ইবাদাত কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট করা। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَإِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحۡمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ ١٦٣﴾ [ البقرة : ١٦٣ ]

“আর তোমাদের ইলাহ্ এক ইলাহ্, দয়াময়, অতি দয়ালু। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ্ নেই।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৬৩]

এ-ছাড়া অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল দ্বারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَلَا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡ‍ٔٗاۖ ﴾ [ النساء : ٣٦ ]

“আর তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর ও কোনো কিছুকে তাঁর শরীক করো না।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৬]

বস্তুতঃ শির্কে আকবার মানুষের কোনো সৎ আমলকে অবশিষ্ট রাখে না:

﴿وَلَقَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكَ لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٦٥ ﴾ [ الزمر : ٦٥ ]

“আর আপনার প্রতি ও আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই অহী করা হয়েছে যে, ‘যদি আপনি শির্ক করেন তবে আপনার সমস্ত আমল তো নিষ্ফল হবে এবং অবশ্যই আপনি হবেন ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৫] এ সম্বোধনটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, তাহলে যারা তার থেকে নিম্ন পর্যায়ের তাদের কী অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমেয়।

আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার পক্ষ থেকে কৃত শির্ক ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ না সে জন্য বান্দা তাওবা করে:

﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ﴾ [ النساء : ٤٨ ]

“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৮] তিনি আরও বলেন,

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَصَدُّواْ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ مَاتُواْ وَهُمۡ كُفَّارٞ فَلَن يَغۡفِرَ ٱللَّهُ لَهُمۡ ٣٤ ﴾ [ محمد : ٣٤ ]

“নিশ্চয় যারা কুফুরী করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করেছে, তারপর কাফির অবস্থায় মারা গেছে, আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না।” [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ৩৪]

আর যে কেউ কুফুরীর ওপর মারা যাবে, সে অবশ্যই আগুনে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَن يَرۡتَدِدۡ مِنكُمۡ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتۡ وَهُوَ كَافِرٞ فَأُوْلَٰٓئِكَ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٢١٧ ﴾ [ البقرة : ٢١٧ ]

“আর তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ নিজের দীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির হয়ে মারা যাবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের আমলসমূহ নিস্ফল হয়ে যাবে। আর এরাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৭]

তিনি আরও বলেন,

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَمَاتُواْ وَهُمۡ كُفَّارٌ أُوْلَٰٓئِكَ عَلَيۡهِمۡ لَعۡنَةُ ٱللَّهِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلنَّاسِ أَجۡمَعِينَ ١٦١ ﴾ [ البقرة : ١٦١ ]

“নিশ্চয় যারা কুফুরী করেছে এবং কাফির অবস্থায় মারা গেছে, তাদের ওপর আল্লাহ, ফিরিশতাগণ ও সকল মানুষের লা‘নত।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৬১]

কখনও কখনও কোনো কোনো কাফির তার জীবদ্দশায় মানুষের জন্য উপকারী বিবেচিত হয়ে থাকেন, কিন্তু সেটাও আল্লাহর পক্ষ থেকে জাগতিক কর্মকাণ্ডে তাদেরকে নিয়োগ করা, যেমনিভাবে তিনি অন্যান্য উপকারী বস্তুসমূহ মানুষের জন্য নিয়োজিত করেছেন। যেমন, সূর্য, চন্দ্র, বাতাস ও মেঘ। আর এগুলো মানুষের জন্য আরও বেশি উপকারী। কারণ তাদের কুফুরী তো কেবল আল্লাহকে অস্বীকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তারা প্রকৃতির অন্যান্য উপাদানকে অস্বীকার করে না। আর কারও ওপর শাস্তিও আপতিত হয় আল্লাহর হককে অস্বীকার করার কারণে, প্রাকৃতিক কোনো অধিকার অস্বীকারের কারণে নয়।