hadith book logo

সঠিক ইসলামী মতবাদ [আর-রিসালাতুশ শামিয়্যাহ]

লেখকঃ আব্দুল আযীয ইবন মারযূক আত-ত্বারীফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

ত্রয়োদশ অধ্যায়: জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত চালু থাকবে

জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত চালু থাকবে। যতদিন পর্যন্ত কুরআন থাকবে, ততদিন এর বিধান যমীন থেকে রহিত হবে না। সহীহ হাদীসে জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»

“আমার উম্মতের মধ্যে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত সর্বদা একটি বিজয়ী দল থাকবে, যারা হকের ওপর যুদ্ধ করবে।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৬।]

আর প্রতিরোধজনিত জিহাদের জন্য প্রয়োজন নেই ইমামের অনুমতির, কিংবা কষ্ট দূরীভূত করা ও প্রতিহত করা ব্যতীত অন্য কোনো নিয়্যতের। এ জিহাদ ওয়াজিব, যদিও তা কেবল কোনো মুসলিমের সম্মান অথবা জান বা মালের নিরাপত্তা বিধানের জন্যও হয়। এ জন্যই সুনান গ্রন্থসমূহে এসেছে,

«مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ أَهْلِهِ، أَوْ دُونَ دَمِهِ، أَوْ دُونَ دِينِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ»

“যে কেউ তার নিজের সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হবে সে শহীদ হবে, যে কেউ তার পরিবার-পরিজন অথবা জান অথবা দীন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হবে সেও শহীদ।” [হাদীসটি সাঈদ ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আবু দাঊদ, হাদীস নং ৪৭৭২; তিরমিযী, হাদীস নং ১৪২১; নাসাঈ, হদিীস নং ৪০৯৫; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৫৮০; সংক্ষিপ্ত আকারে। তিরমিযী বলেন, এটি একটি হাসান হাদীস।] তাছাড়া হাদীসটি সহীহ হাদীসের গ্রন্থেও সংক্ষিপ্তাকারে এসেছে [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩৪৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪১, আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস।]।

আর সম্মান, জান ও মালের ওপর আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা ওয়াজিব, সে আক্রমণকারী মুশরিক হোক বা মুসলিম। কারণ, সুনান নাসাঈতে কাবূস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “এক লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, কোন লোক এসে আমার সম্পদ নিয়ে যেতে চায়?” রাসূল বললেন, “তাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে উপদেশ দাও।” সে বলল, যদি সে আমার নসীহত গ্রহণ না করে? তিনি বললেন, “তাহলে তার বিরুদ্ধে তোমার চারপাশে যে মুসলিমরা রয়েছে তাদের সাহায্য নাও।” সে বলল, যদি আমার চারপাশে কোনো মুসলিম না থাকে? রাসূল বললেন, “তাহলে তুমি প্রশাসনের সাহায্য নাও।” লোকটি বলল, যদি সরকার আমার থেকে দূরে থাকে? রাসূল বললেন, “তাহলে তুমি তোমার সম্পদ রক্ষার্থে যুদ্ধ কর, আর এতে করে তুমি আখিরাতের শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হবে অথবা তোমার সম্পদ রক্ষা করতে পারবে।” [সুনান নাসাঈ, হাদীস নং ৪০৮১; ইবন আবি শাইবাহ, হাদীস নং ২৮০৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৫১৪; ত্বাবরানী ফিল কাবীর, ২০/৩১৩।]

আর জিহাদের ডাক পড়লে সেখানে সাড়া দিতে হলে, আল্লাহর বিধানকে বুলন্দ করা বা উপরে উঠানোর নিয়্যত থাকতে হবে। সহীহ হাদীসে এসেছে, আবূ মূসা আল-আশ‘আরী থেকে বর্ণিত, এক বেদুঈন লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল, কোনো কোনো লোক যুদ্ধ করে গনীমতের মালের জন্য, কোনো কোনো লোক যুদ্ধ করে যাতে তার কথা বলা হয়, আর কেউ কেউ যুদ্ধ করে যাতে তার অবস্থান দেখাতে পারে। এদের মধ্যে কে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করল?’ তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

«مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللهِ أَعْلَى، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ»

“যে ব্যক্তি আল্লাহর কালেমা বা বাণীকে উপরে উঠানোর জন্য যুদ্ধ করল, সে আল্লাহ রাস্তায় যুদ্ধ করল।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৩, ২৬৫৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯০৪।]

এ জিহাদে ইমামের আনুগত্য করা ওয়াজিব, আল্লাহর নাফরমানী ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে অবশ্যই তার কথা শোনা ও মানা হবে। সহীহ হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ، وَمَنْ أَطَاعَ أَمِيرِي فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ عَصَى أَمِيرِي فَقَدْ عَصَانِي»

“যে কেউ আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল, আর যে কেউ আমার অবাধ্য হলো সে আমার আল্লাহর অবাধ্য হলো। আর যে কেউ আমার আমীর বা প্রশাসকের নির্দেশের আনুগত্য করল সে আমার আনুগত্য করল, আর যে কেউ আমার আমীরের অবাধ্য হলো সে আমার অবাধ্য হল।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৭১৮; সহীহ সলিম, হাদীস নং ১৮৩৫। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু বর্ণিত হাদীস।]