১- বদর যুদ্ধে আনাস বিন নাদার অনুপস্থিত থাকার কারণে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। কেউ যদি কোনো ভাল কাজ করতে না পারে তাহলে তার জন্য অনুশোচনা করা সঙ্গত। এ ধরনের অনুশোচনা এর চেয়ে ভাল কাজ করার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে।
২- ইসলামের গৌরবজনক ইতিহাস আলোচনা করার প্রতি গুরুত্ব।
সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ অন্যান্য সাহাবীগণ মুসলিম মুজাহিদদের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস, ত্যাগ-তিতিক্ষা,
ধৈর্য, সংকট, দু:খ, কষ্ট, নির্যাতন, কোরবানী ও শাহাদাতের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। কাজেই এ সকল ঘটনা বর্ণনা করা সুন্নাত।
৩- উহুদ যুদ্ধে মুশরিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পরও মুসলিম বাহিনীর ভুলের কারণে আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে। এটাকে বলা হয়েছে, ‘উহুদ যুদ্ধের দিন মুসলিমরা কাফেরদের আক্রমণের পথ খুলে দিল।’
৪- নিজেদের সাথী-সহকর্মীদের ভুলের কারণে আফসোস করা, তাদের জন্য সহমর্মিতা প্রকাশ করা একটি ভাল কাজ।
৫- ইসলামের শত্রুদের মোকাবেলায় সাহাবী আনাস বিন নাদারের বীরত্ব ও সাহস কত দৃঢ় ছিল তার প্রমাণ এ হাদীস।
৬- যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের লাশ বিকৃত করা অন্যায়। ইসলামে এটা চরমভাবে নিষিদ্ধ।
৭- এ সকল আত্মত্যাগী বীর মুজাহিদ ও শহীদদের জন্যই এ আয়াত নাযিল হয়েছে :
(আরবি)
‘মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে তাদের কৃত প্রতিশ্রুতি সত্যে বাস্তবায়ন করেছে। তাদের কেউ কেউ [যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করে] তার দায়িত্বপূর্ণ করেছে, আবার কেউ কেউ [শাহাদাত বরণের] প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা (প্রতিশ্রুতিতে) কোনো পরিবর্তনই করেনি। যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদেরকে তাদের
সত্যবাদিতার জন্য পুরস্কৃত করতে পারেন এবং তিনি চাইলে মুনাফিকদের আজাব দিতে পারেন অথবা তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (
সূরা আহযাব: ২৩-২৪)
৮- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার যোগ্য সাহাবায়ে কেরাম দীনে ইসলামের জন্য কত মুজাহাদা করেছেন। কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কত দু:খ-কষ্ট, জুলুম নির্যাতন বরদাশত করেছেন এ হাদীসে তার একটি ছোট চিত্র আমরা প্রত্যক্ষ করলাম।