hadith book logo

মুজাহাদা মুমিন জীবনের দিশারী

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৮

হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েলঃ

১- হাদীসটি একটি প্রসিদ্ধ হাদীসে কুদসী। অর্থাৎ বক্তব্য আল্লাহ রাববুল আলামীনের, আর ভাষা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের।

২- জুলুম করা হারাম করা হয়েছে। এখানে যে জুলুম উল্লেখ করা হয়েছে সেটা হল মানুষের প্রতি জুলুম।

৩- আল্লাহ নিজে কখনো মানুষের উপর জুলুম করেন না। এ কথা তিনি আল কোরআনে বহু স্থানে বলেছেন।

৪- আল্লাহর কাছে নিজের হিদায়াতের জন্য প্রার্থনা করা কর্তব্য।

৫- আল্লাহর কাছে খাদ্য চাওয়া বান্দার কর্তব্য।

৬- আল্লাহর কাছে পোশাক চাওয়া বান্দার কর্তব্য।

৭- নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা বান্দার কর্তব্য।

৮- আল্লাহর কাছে হিদায়াত চাইলে, ক্ষমা প্রার্থনা করলে, নিজের যা কিছু প্রয়োজ তা তাঁর কাছে চাইলে তিনি সন্তুষ্ট হন।

৯- সকল সৃষ্টি একত্র হয়েও আল্লাহ তাআলার কোনো ক্ষতি করার সামর্থ্য অর্জন করতে পারে না।

১০- সকল সৃষ্টি একত্র হয়েও আল্লাহ তাআলার কোনো উপকার করতে সক্ষম হয় না।

১১- সকল মানুষ মুত্তাকী পরহেজগার হয়ে গেলে আল্লাহর রাজত্বে কোনো কিছু বৃদ্ধি করে না।

১২- সকল মানুষ অবাধ্য হয়ে গেলেও তাঁর রাজত্বে কোনো কিছু কমে না।

১৩- আল্লাহ রাববুল আলামীন যদি সকল মানুষ ও সৃষ্টিজীবের সকল চাহিদা মিটিয়ে দেন তাহলে তাঁর ভান্ডার থেকে কিছু কমে না। যেমন সমুদ্রে একটা সুই ফেলে দিয়ে তা উঠালে পানি কমে না।

১৪- মানুষ ও জিন যা কিছু ভাল কাজ করবে তা কখনো বৃথা যাবে না। আল্লাহ এটাকে সংরক্ষণ করবেন ও বহুগুণে বাড়িয়ে প্রতিদান দেবেন।

১৫- যদি কেউ ভাল কিছু অর্জন করে তাহলে আল্লাহর প্রশংসা করবে। আর খারাপ কিছু অর্জন করলে এটা তার নিজের দোষ বলে স্বীকার করে নেবে।

১৬- আল্লাহ তাআলার কাছে সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করা, তাঁর কাছে পাপের জন্য ক্ষমা চাওয়া, তার কাছে খাদ্য-খাবার চাওয়া, পোশাক চাওয়া ইত্যাদি সব কিছুই মুজাহাদা বলে গণ্য। অধ্যায় শিরোনামের সাথে হাদীসটির সম্পর্ক এখানেই।

বি: দ্র: হাদীসগুলো ইমাম নববী রহ. এর রিয়াদুস সালেহীন গ্রন্থ থেকে সংগৃহিত।

সমাপ্ত