hadith book logo

শিয়া ও মসজিদে আকসা

লেখকঃ তারেক আহমদ হিজাযী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

“ইয়া হুসাইন” ওয়েব সাইটে মসজিদে আকসার স্থান সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ

“ইয়া হুসাইন” [www.yahosein.org/vb/showthread.php?t=79086&page=2] ওয়েব সাইটে অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে জনৈক শিয়া মসজিদে আকসার স্থান সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, যার শিরোনাম: মসজিদে আকসা কোথায়?! প্রশ্নের ব্যাখ্যায় সে বলেছে: ফিলিস্তিনে বিদ্যমান বায়তুল মাকদিসই কি মসজিদে আকসা, যার সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনের নিন্মের বাণীতে বলেছেন:

﴿ سُبۡحَٰنَ ٱلَّذِيٓ أَسۡرَىٰ بِعَبۡدِهِۦ لَيۡلٗا مِّنَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ إِلَى ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡأَقۡصَا ٱلَّذِي بَٰرَكۡنَا حَوۡلَهُۥ لِنُرِيَهُۥ مِنۡ ءَايَٰتِنَآۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ ١ ﴾ [ الاسراء : ١ ]

“পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ‎ নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে ‎ আল মাসজিদুল আকসা ‎ পর্যন্ত, যার আশপাশে ‎ আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার ‎ কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, ‎ সর্বদ্রষ্টা”। [সূরা ইসরা: (১)]‎

শিয়াদের পরস্পরে এ প্রশ্নের উত্তর, সমালোচনা ও পর্যালোচনা ছিল নিন্মরূপ:

এর উত্তরে তাদের কেউ [এসব প্রশ্ন, প্রশ্নের উত্তর ও তার সমালোচনা উল্লেখ করব না, বরং জানার জন্য উল্লেখ করব যে, তারা মসজিদে আকসার ব্যাপারে কি চিন্তা করে এবং তার সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস কি, তাদের স্বাধীন লেখায় যা প্রতিয়মান।] লিখেছে: “মসজিদে আকসা ফিলিস্তিনে বিদ্যমান আহলে বাইতের বর্ণনায় তার কোন প্রমাণ নেই, বরং মসজিদে আকসা আসমানে। ‘মুতাবে’র দৃষ্টিতে এ পাথর ইহুদিদের নিকট পবিত্র। আমিরুল মুমেনিন আলির মসজিদ তথা মসজিদে কুফার অনেক ফজিলত বিকৃত ও পরিবর্তন করে ইহুদিদের পূর্বপুরুষরা ইহুদিদের কিবলার জন্য নির্ধারণ করেছে”!

অপর একজন লিখেছে: “মসজিদে আকসার স্থান ইহুদিদের আবিষ্কৃত, আহলে সুন্নাহ তার সংরক্ষণ করে ও তার ওপর আমল করে”!

অপর একজন বলেছে: “শরীয়তের দৃষ্টিতে মসজিদে আকসা বায়তুল মামুর বা ফিলিস্তিনে অবস্থিত এ জন্য আমরা ফিরিস্তিন ও তার পবিত্র স্থানসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করি না, বরং তার প্রতি গুরুত্বারোপের কারণ আমাদের আলেমদের ফতোয়া, যার ইত্তেবা করা আমাদের ওপর ওয়াজিব। আমাদের নেতারা যদি ফিলিস্তিনের জন্য সাহায্য করা, তার দুর্বল জনগণের পক্ষ নেয়া, তাদের ওপর থেকে হামলা প্রতিহত করা এবং সাধ্য মোতাবেক তাদের সাহায্য করার ফতোয়া দেন, তাহলে আমাদের ওপর তা ওয়াজিব, যদিও মসজিদে আকসার অবস্থান বায়তুল মাকদিসে না হয়, বরং যদিও ফিলিস্তিনে ইসলামী কোন চিহ্ন না থাকে”!

অপর অংশ গ্রহণকারী বলেন: “ফিলিস্তিনে অবস্থিত বায়তুল মাকদিস যদি এতো ফজিলতপূর্ণ হয়, তাহলে আমরা কেন আহলে বায়েতের নিকট তার কোন বর্ণনা পাই না, বরং তার উল্টো দেখি, তারা মসজিদে কুফা সম্পর্কে বলেছেন আকসা থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ”।

অপর একজন [দেখুন: www.yahosein.com] লিখেছে: “শিয়া ও অপর বাতিল ফেরকার নিকট প্রমাণিত যে দ্বিতীয় [এর দ্বারা উদ্দেশ্য দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইব্‌নুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু।] আত্মসাৎকারী মসজিদে কুদস নির্মাণ করেছেন, তাতে কতক খুঁটি [সালাউদ্দিন আইউবির মিম্বার উদ্দেশ্য।] রয়েছে যেখানে খারাবুদ্দিন [সালাউদ্দিন আইয়ূবির পুরো উম্মত সার্টিফাই করেছে। এ রাফেজি তাকে খারাবুদ্দিন বলে অপবাদ দিচ্ছে, কারণ তিনি বাতেনি ফাতেমি রাজত্ব ধ্বংস করেছেন।] খুতবা দিতেন। খুব আফসোস লাগে যখন দেখি শিয়ারা তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে, একটি দিন তার জন্য ধার্য করে, ইহুদিরা যখন তার পাশে কূপ খনন করে তারা তখন ক্রন্দন করে”!

অপর কেউ লিখেছে: “আল্লাহই ভাল জানেন, স্পষ্ট বুঝে আসে যে, মসজিদে আকসা ফিলিস্তিনে নেই, যদি তার এতো ফজিলত হত, তাহলে অবশ্যই আহলে বায়েতগণ আমাদেরকে তা জানাতেন। তার যিয়ারতের নির্দেশ দিতেন, যেমন অন্যান্য পবিত্র স্থানের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। বুদ্ধিমানের উচিত এসব বিষয়গুলো সুক্ষ্নভাবে চিন্তা করা, যেন সন্দেহের সৃষ্টি না হয়”!

শিয়ারা তাদের লেখা, আলোচনা ও সমালোচনার স্থানে মসজিদে আকসা সম্পর্কে এমন ধারণাই পোষণ করে!