hadith book logo

শিয়া ও মসজিদে আকসা

লেখকঃ তারেক আহমদ হিজাযী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

ভূমিকা:

সকল প্রশংসা দু’জাহানের রব আল্লাহ তা‘আলার জন্য। সালাত ও সালাম সর্বোত্তম রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তার পরিবার ও সকল সাহাবিদের ওপর। অতঃপর,

ইসলাম ও মুসলিমের দৃষ্টিতে মসজিদে আকসার মর্যাদার বিষয়ে আমার লেখার উদ্যোগকে অনেকে অযথা শ্রম ব্যয় ও অপ্রয়োজনীয় মনে করবেন। কারণ সবার নিকট মসজিদে আকসার সম্মান স্বীকৃত ও প্রমাণিত, এ নিয়ে ইসলাম ও মুসলিমের মাঝে কোন বিরোধ নেই, বরং এতো স্পষ্ট যে, বেশী বুঝিয়ে বলারও প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তা‘আলার স্পষ্ট বাণী, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশুদ্ধ হাদিস ও উম্মতের ইজমা সবখানে রয়েছে মসজিদে আকসার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।

তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস বক্ষ্যমাণ নিবন্ধ পাঠ করে, পাঠকবর্গ যখন প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত হবেন, অবশ্যই এ বিষয়ে আমার লেখার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানাবেন। নিশ্চিত তিনি একটি সম্প্রদায়ের প্রতারণা সম্পর্কে অবহিত হবেন, যাদের মুখে মসজিদে আকসা ও মেরাজের পবিত্র ভূমি রক্ষার শ্লোগান, যারা ফিলিস্তিনি দুর্বল জনগণ ও তাদের পবিত্র নিদর্শনসমূহ রক্ষার দাবিদার!

তাই জরুরী হয়েছে মসজিদে আকসার মর্যাদা রক্ষা করা, এবং শিয়াদের প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ থেকে মসজিদে আকসার প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করে তাদের ভণ্ডামীর মুখোশ উন্মোচন করা। তাদের কিতাবে তারা লিখেছে মসজিদে আকসার বর্তমান অবস্থানের কোন মূল্য নেই, বরং প্রকৃত মসজিদে আকসার অবস্থান আসমানে! ফিলিস্তিনে অবস্থিত মসজিদে আকসাকে মসজিদে কুদস বলে সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে!!

আমরা এসব বাতিল ধারণার অসারতা প্রমাণ করে শিয়াদের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যার মুখোশ উন্মোচন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, যেন আমাদের কথা ও লেখার দ্বারা সত্য প্রকাশ পায়, মিথ্যার আবরণ দূরীভূত হয়। সবাই জেনে নেয় শিয়াদের ষড়যন্ত্র ও ধোঁকার দীর্ঘ ফাঁদ, যা দিয়ে তাদের লেখা পরিপূর্ণ!

আমাদের গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি যে, যারা মসজিদে আকসার মর্যাদার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছে,- বিশেষ করে ইহুদি ও পাশ্চাত্যের শিক্ষায় শিক্ষিত কতক লেখক- তারা শিয়াদের প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহের বানোয়াট ও উদ্ভট তথ্যের ওপর নির্ভর করেছে। তাদের উদ্দেশ্য এসব ভ্রান্ত তথ্য দ্বারা আমাদের দৃঢ়তা ও অকাট্য বিশ্বাসকে নড়বড়ে করা ও আমাদের অন্তর থেকে মসজিদে আকসার মর্যাদা মুছে ফেলা।

এখানে আমি বলতে চাই, আমার এ লেখার উদ্দেশ্য উম্মতের একতা, ইসলামের পবিত্র নিদর্শনসমূহের ওপর মুসলিমের ঐক্য ও মুসলিমে মুসলিমে ইত্তেহাদ প্রতিষ্ঠা করা। এবং মুসলিম উম্মার অন্তরে সেসব মনীষীদের মহব্বত দৃঢ় করা, যাদের হাতে আল্লাহ এসব পবিত্র ভূমির বিজয় দান করেছেন। শিয়াদের গ্রন্থে বর্ণিত মিথ্যা ও উদ্ভট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যখন বক্র পথের অনুসারী ইহুদি ও প্রাচ্যবিদ পাশ্চাত্যের প্রফেসরগণ বায়তুল মাকদিসকে অসম্মান করার অসৎ উদ্দেশ্যে মেতেছিল, তখন এ মনীষীগণ তাদের যাত্রা রোধ করেছিলেন। তাই মসজিদে আকসা সম্পর্কে সন্দেহ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী এসব বর্ণনার অসারতা প্রকাশ করে দলিল ও প্রমাণ দ্বারা মসজিদে আকসার মর্যাদা প্রমাণ করা অপরিহার্য হয়। সকল প্রশংসা দু’জাহানের রব আল্লাহ তা‘আলার জন্য।

তারেক আহমদ হিজাযী।