hadith book logo

অন্তর বিধ্বংসী বিষয়সমূহ অহংকার

লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

দুই. অহংকারের পরিণতির মুখোমুখি হওয়া:

লোকমান হাকিম তার ছেলেকে যে নসীহত করে, তা থেকে তুমি অহংকারের পরিণতি কি তা জানতে পারবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَا تُصَعِّرۡ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمۡشِ فِي ٱلۡأَرۡضِ مَرَحًاۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخۡتَالٖ فَخُورٖ﴾ ] لقمان : 18[

‘“আর তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। আর যমীনে দম্ভভরে চলাফেরা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ কোনো দাম্ভিক, অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না’। [সূরা লোকমান, আয়াত: ১৮]

وتصعير الخد للناس এ কথাটির অর্থ হলো, অহংকার করে মানুষের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। আর في الأرض والمشي অর্থ হলো যমীনে অহংকার করে হাঁটা, বুক ফুলিয়ে হাটা।

إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخۡتَالٖ فَخُورٖ “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করে না।” অর্থাৎ যারা মানুষের ওপর বড়াই করে তাদের সাথে অহংকার ও গরিমা দেখায়, তাদের আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করে না।

فَخُورٖ অর্থাৎ শক্তির বড়াই, জ্ঞানের বড়াই, ধন-সম্পদের বড়াই ইত্যাদি। আল্লাহ তা‘আলা যমিনে বুক ফুলিয়ে হাঁটা ও অহংকার করে চলাচল করা হতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেন। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে করীমে এরশাদ করে বলেন,

﴿وَلَا تَمۡشِ فِي ٱلۡأَرۡضِ مَرَحًاۖ إِنَّكَ لَن تَخۡرِقَ ٱلۡأَرۡضَ وَلَن تَبۡلُغَ ٱلۡجِبَالَ طُولٗا﴾ ] الإسراء : 37[

“আর যমীনে বড়াই করে চলো না; তুমি তো কখনো যমিনকে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনো পাহাড় সমান পৌঁছতে পারবে না।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৭]

অহংকারীদের অভ্যাস হলো, যমিনে অহংকার ও বুক ফুলিয়ে হাটা। পক্ষান্তরে মুমিনদের গুণ হলো, তারা যমিনে বিনয়ের সাথে হাটে। তারা লোক দেখানোর জন্য রাস্তায় বের হয় না। তারা তাদের জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় বের হয়, মানুষকে ছোট মনে করে না এবং ঘৃণার চোখে দেখে না। আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের গুণের বর্ণনা দিয়ে বলেন,

﴿وَعِبَادُ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلَّذِينَ يَمۡشُونَ عَلَى ٱلۡأَرۡضِ هَوۡنٗا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ ٱلۡجَٰهِلُونَ قَالُواْ سَلَٰمٗا ٦٣ وَٱلَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمۡ سُجَّدٗا وَقِيَٰمٗا ٦٤ وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا ٱصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا ٦٥﴾ ] الفرقان : 63-65[

‍“আর রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’। আর যারা তাদের রবের জন্য সিজদারত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত্রি যাপন করে। আর যারা বলে, হে আমাদের রব, তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় এর আযাব হলো অবিচ্ছিন্ন”। [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৩-৬৫]

আমাদের সলফগণ যখন ঘর থেকে বের হতেন, তারা তাদের হাঁটার পথে নিজেদের খুব হেফাযতে ও সংকোচিত করতেন এবং বিনয়ের সাথে হাঁটতেন। খালেদ ইবন মেদান রহ. বর্ণনা করেন, আমর ইবন আসওয়াদ আল-আনাসি যখন মসজিদ থেকে বের হতেন, তখন তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাতকে চেপে ধরতেন। তাকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন, আমি আশংকা করি, আমার হাত আমার সাথে বেঈমানি করবে!। [সীয়ারু আলামীন নুবালা ৮০/৪।]

আল্লামা হাফেয যাহবী রহ. বলেন, তিনি হাঁটার সময় হাত নড়াচড়া করা ও দোলানোর আশংকায় হাত-দ্বয় জোড়া করে রাখতেন। কারণ, হাত দোলানো অহংকারের অন্তর্ভুক্ত।

আলী ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন হাঁটতেন, তার হাত-দ্বয় তার উরু অতিক্রম করত না এবং সে হাত নড়াচড়া করত না। [সীয়ারু আলামীন নুবালা ৩৯৬/৪ তারিখে দেমেশক ৪১৭/৪৫।]