hadith book logo

দীনের ওপর অবিচল থাকার উপায়

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

নবম: আল্লাহর দীনের প্রতি দাওয়াত দেওয়ার সাথে সম্পৃক্ত থাকা

মনে রাখবে আত্মা যখন কর্মব্যস্ত না থাকে তখন তাতে পঁচন ধরে যায়। আর যখন তা চলাচল না করে এবং কর্মব্যস্ত না থাকে তখন তা অলস হয়ে যায় আর আত্মাকে সচল রাখার ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হল, আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া। এটি নবীদের মিশন এবং মানবাত্মার আযাব ও শাস্তি থেকে নাজাত লাভের উপায়। দাওয়াতের দ্বারা ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং বড় বড় কর্মগুলো বাস্তবায়িত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَلِذَٰلِكَ فَٱدۡعُۖ وَٱسۡتَقِمۡ كَمَآ أُمِرۡتَۖ ١٥﴾ [ الشورى : ١٥ ]

“সুতরাং এজন্যই আপনি দাওয়াত দিন এবং আপনাকে যেমনটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেভাবে দৃঢ়পদ থাকুন”। কোনো বস্তু সম্পর্কে এ কথা বলা কখনোই শুদ্ধ নয় যে, অমুক উন্নতিও লাভ করে না আবার অবনতিও না। কারণ, আত্মা যখন ইবাদতে ব্যস্ত না হবে, তখন অবশ্যই সে গুনাহে লিপ্ত হবে। আর ঈমান অবশ্যই বাড়ে আবার কমে।

বিশুদ্ধ মানহাজের প্রতি দাওয়াত, সময় ব্যয় করার মাধ্যমে, চিন্তা-ফিকির করার মাধ্যমে, দৈহিক পরিশ্রম করার মাধ্যমে এবং মুখ চালু রাখার মাধ্যমে দেওয়া শয়তানের গোমরাহ করা ও ফিতনায় ফেলার যাবতীয় পথকে রুদ্ধ করে দেয়। সুতরাং এমনভাবে দাওয়াত দেওয়া যাতে প্রমাণিত হয় যে, দাওয়াত দেওয়াই একজন মুসলিমে প্রধান লক্ষ্য ও একমাত্র ব্যস্ততা।

আরো বাড়িয়ে বলা যায়, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা দ্বারা যে কোনো প্রকারের বাধা বিপত্তি মুকাবেলা করা, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা ও বাতিলপন্থীদের যে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মত শক্তি লাভের অনুভূতি ও বিশ্বাস একজন দা‘ঈর অন্তরে সৃষ্টি হয়। এর ফলে সে তার দাওয়াতী ময়দানে নির্ভীকভাবে চলতে পারে। ফলে তা ঈমানী শক্তিতে উন্নতি হয় এবং এ দ্বারা ঈমানের রুকনসমূহ শক্তিশালী হয়।

তখন আল্লাহর দিকে আহ্বান করা মহা সাওয়াবের লাভের কারণ হওয়ার সাথে সাথে তা সুদৃঢ়, অটল ও অবিচল থাকার মাধ্যমসমূহের একটি অন্যতম মাধ্যম এবং সিদ্ধান্তহীন ও পশ্চাতপদতা থেকে রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ বলে বিবেচিত হয়। কারণ, যিনি দাওয়াতের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার আত্মরক্ষার প্রয়োজন হয় না। আল্লাহ তা‘আলা দা‘ঈদের সাথেই রয়েছেন। তিনি তাদের অবিচলতা ও দৃঢ়তা প্রদান করেন এবং তাদের ভুলগুলোকে সংশোধন করে দেন। একজন দা‘ঈ সে একজন ডাক্তারের মতো। সে তার অভিজ্ঞতা, বিচক্ষণতা ও জ্ঞান দ্বারা রোগের সাথে সংগ্রাম করে। অন্যদের বিষয়ে সংগ্রাম করার কারণে সে নিজে তাতে লিপ্ত হওয়া বা আক্রান্ত হওয়া থেকে অনেক দূরে থাকে এবং অনেকটাই নিরাপদে অবস্থান করে।