১
দীনের ওপর অবিচল থাকার উপায়
লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
ষষ্ট: একজন মুসলিম সহীহ পথে চলার প্রতি আগ্রহী হওয়া
একমাত্র বিশুদ্ধ ও সঠিক পথ যার ওপর একজন মুসলিমের চলা ওয়াজিব, তা হলো, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পথ, সাহায্য প্রাপ্ত দলের পথ এবং নাজাতপ্রাপ্ত দলের পথ। তারাই পরিস্কার ও নীরেট আকীদার অধিকারী, নির্ভুল মানহাজের ধারক-বাহক, সুন্নাহ ও দলীলের অনুসারী, আল্লাহর শত্রুদের থেকে পৃথক এবং আহলে বাতিলদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অটল ও অবিচল থাকার ক্ষেত্রে এর মূল্য কত তা যদি জানতে চাও, তুমি চিন্তা কর, তুমি তোমাকে জিজ্ঞাসা কর, পূর্বসূরি ও তাদের পরবর্তীদের অধিকাংশ লোক কেন গোমরাহ হলো? তারা কেন দিশেহারা হয়েছিল? এবং তারা কেন সঠিক পথ -সীরাতে মুস্তাকীমের ওপর অটল ও অবিচল থাকতে পারলো না এবং সঠিক পথের ওপর মারা যেতে পারলো না? অথবা জীবনের বড় একটি অংশ অতিবাহিত করার পর অথবা তাদের জীবন থেকে মহা মূল্যবান সময় নষ্ট করার পর তারা কেন সঠিক পথের সন্ধান পেল এবং তার ওপর চলা আরম্ভ করল?
তুমি দেখতে পাবে তাদের কেউ কেউ বিদ‘আত ও ভ্রষ্টতার বিবিধ সোপান যেমন দর্শনশাস্ত্র থেকে শুরু করে কালামশাস্ত্র, মু‘তাযিলা মতবাদ পেরিয়ে বিকৃতকারী, অপব্যাখ্যাকারী, অর্থহীন গণ্যকারী, মুরজিয়া মতবাদে বিশ্বাসীতে পরিণত হয়েছে। আবার তাদের কেউ কেউ সূফীবাদীদের এক তরীকা থেকে আরেক তরীকায় উপনীত হয়েছে।
অনুরূপভাবে বিদ‘আতপন্থীরাও আজ বিভ্রান্ত ও দিশেহারা। দেখ, কালামপন্থীরা কীভাবে মৃত্যুর সময় অবিচল থাকা থেকে বঞ্চিত হয়। পূর্বসূরি সালাফগণ বলেন, মৃত্যুর সময় সবচেয়ে বেশি সন্দেহে থাকেন কালামশাস্ত্রবিদরা। অপর দিকে তুমি দেখ এবং গভীরভাবে চিন্তা কর, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পথকে বুঝা, জানা ও তার ওপর চলার পর কেউ অসন্তুষ্ট হয়ে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে কিনা? প্রবৃত্তি পূজা, জ্ঞানের দুর্বলতা ও কু-প্রবৃত্তির প্রভাবে কেউ হয়ত তা ছাড়তে পারে অন্যথায় এ কারণে কেউ এ পথ ছাড়ে না যে, সে এ থেকে অধিক সহীহ বিশুদ্ধ ও সঠিক পথ পেয়েছে বা তার নিকট এ পথ বাতিল হওয়া স্পষ্ট হয়েছে।
আর এ কথা যে সঠিক তার প্রমাণ পাবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারীদের বিষয়ে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের জিজ্ঞেস করার পর আবু সুফিয়ানের উত্তর থেকে। হিরাক্লিয়াস আবূ সুফিয়ানকে বলল,
سَأَلْتُكَ هَلْ يَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ فَزَعَمْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ حَتَّى يَتِمَّ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ؟ فَزَعَمْتَ أَنْ لاَ، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ، حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ القُلُوبَ لاَ يَسْخَطُهُ أَحَدٌ "
“আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের সংখ্যা কি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে নাকি কমছে? তুমি বললে, তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈমান পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত এমনই হয়ে থাকে। আর আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের কেউ দীনের মধ্যে প্রবেশ করার পর দীনের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে আসে কিনা? উত্তরে আবূ সুফিয়ান বলল, না। তারপর হিরাক্লিয়াস বলল, ঈমান এমনই হয়ে থাকে, যখন ঈমানের সৌন্দর্য অন্তরসমূহকে স্পর্শ করে কেউ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় না”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১; ফাতহুল বারী ১/২৩]
আমরা বড় বড় অনেকের সম্পর্কে শুনেছি তারা বিদ‘আতের শাখা-প্রশাখা ও বিভিন্ন অবস্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে তারপর তাদের কতককে আল্লাহ তা‘আলা সঠিক পথ দেখান, ফলে তাদের পূর্বের মাযহাবের প্রতি বিরক্ত হয়ে বাতিল ও গোমরাহী ছেড়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মাযহাবের অনুসারী হয়ে যায়; কিন্তু তার উল্টোটি কি তোমরা কখনো শুনেছ?
সুতরাং যদি তুমি হকের ওপর অটল ও অবিচল থাকতে চাও, তবে তোমাকে অবশ্যই মুমিনদের পথ আঁকড়ে ধরতে হবে।
অটল ও অবিচল থাকার ক্ষেত্রে এর মূল্য কত তা যদি জানতে চাও, তুমি চিন্তা কর, তুমি তোমাকে জিজ্ঞাসা কর, পূর্বসূরি ও তাদের পরবর্তীদের অধিকাংশ লোক কেন গোমরাহ হলো? তারা কেন দিশেহারা হয়েছিল? এবং তারা কেন সঠিক পথ -সীরাতে মুস্তাকীমের ওপর অটল ও অবিচল থাকতে পারলো না এবং সঠিক পথের ওপর মারা যেতে পারলো না? অথবা জীবনের বড় একটি অংশ অতিবাহিত করার পর অথবা তাদের জীবন থেকে মহা মূল্যবান সময় নষ্ট করার পর তারা কেন সঠিক পথের সন্ধান পেল এবং তার ওপর চলা আরম্ভ করল?
তুমি দেখতে পাবে তাদের কেউ কেউ বিদ‘আত ও ভ্রষ্টতার বিবিধ সোপান যেমন দর্শনশাস্ত্র থেকে শুরু করে কালামশাস্ত্র, মু‘তাযিলা মতবাদ পেরিয়ে বিকৃতকারী, অপব্যাখ্যাকারী, অর্থহীন গণ্যকারী, মুরজিয়া মতবাদে বিশ্বাসীতে পরিণত হয়েছে। আবার তাদের কেউ কেউ সূফীবাদীদের এক তরীকা থেকে আরেক তরীকায় উপনীত হয়েছে।
অনুরূপভাবে বিদ‘আতপন্থীরাও আজ বিভ্রান্ত ও দিশেহারা। দেখ, কালামপন্থীরা কীভাবে মৃত্যুর সময় অবিচল থাকা থেকে বঞ্চিত হয়। পূর্বসূরি সালাফগণ বলেন, মৃত্যুর সময় সবচেয়ে বেশি সন্দেহে থাকেন কালামশাস্ত্রবিদরা। অপর দিকে তুমি দেখ এবং গভীরভাবে চিন্তা কর, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পথকে বুঝা, জানা ও তার ওপর চলার পর কেউ অসন্তুষ্ট হয়ে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে কিনা? প্রবৃত্তি পূজা, জ্ঞানের দুর্বলতা ও কু-প্রবৃত্তির প্রভাবে কেউ হয়ত তা ছাড়তে পারে অন্যথায় এ কারণে কেউ এ পথ ছাড়ে না যে, সে এ থেকে অধিক সহীহ বিশুদ্ধ ও সঠিক পথ পেয়েছে বা তার নিকট এ পথ বাতিল হওয়া স্পষ্ট হয়েছে।
আর এ কথা যে সঠিক তার প্রমাণ পাবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারীদের বিষয়ে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের জিজ্ঞেস করার পর আবু সুফিয়ানের উত্তর থেকে। হিরাক্লিয়াস আবূ সুফিয়ানকে বলল,
سَأَلْتُكَ هَلْ يَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ فَزَعَمْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ حَتَّى يَتِمَّ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ؟ فَزَعَمْتَ أَنْ لاَ، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ، حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ القُلُوبَ لاَ يَسْخَطُهُ أَحَدٌ "
“আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের সংখ্যা কি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে নাকি কমছে? তুমি বললে, তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈমান পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত এমনই হয়ে থাকে। আর আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের কেউ দীনের মধ্যে প্রবেশ করার পর দীনের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে আসে কিনা? উত্তরে আবূ সুফিয়ান বলল, না। তারপর হিরাক্লিয়াস বলল, ঈমান এমনই হয়ে থাকে, যখন ঈমানের সৌন্দর্য অন্তরসমূহকে স্পর্শ করে কেউ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় না”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১; ফাতহুল বারী ১/২৩]
আমরা বড় বড় অনেকের সম্পর্কে শুনেছি তারা বিদ‘আতের শাখা-প্রশাখা ও বিভিন্ন অবস্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে তারপর তাদের কতককে আল্লাহ তা‘আলা সঠিক পথ দেখান, ফলে তাদের পূর্বের মাযহাবের প্রতি বিরক্ত হয়ে বাতিল ও গোমরাহী ছেড়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মাযহাবের অনুসারী হয়ে যায়; কিন্তু তার উল্টোটি কি তোমরা কখনো শুনেছ?
সুতরাং যদি তুমি হকের ওপর অটল ও অবিচল থাকতে চাও, তবে তোমাকে অবশ্যই মুমিনদের পথ আঁকড়ে ধরতে হবে।