hadith book logo

দীনের ওপর অবিচল থাকার উপায়

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

দশম: বাস্তব ও প্রমাণিত উপাদানগুলোর সাথে সম্পৃক্ত থাকা

ঐ সব উপাদান যার বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ সম্পর্কে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন,

«إِنَّ مِنَ النَّاسِ مَفَاتِيحَ لِلْخَيْرِ، مَغَالِيقَ لِلشَّرِّ، وَإِنَّ مِنَ النَّاسِ مَفَاتِيحَ لِلشَّرِّ مَغَالِيقَ لِلْخَيْرِ، فَطُوبَى لِمَنْ جَعَلَ اللَّهُ مَفَاتِيحَ الْخَيْرِ عَلَى يَدَيْهِ، وَوَيْلٌ لِمَنْ جَعَلَ اللَّهُ مَفَاتِيحَ الشَّرِّ عَلَى يَدَيْهِ» “মানুষের মধ্যে এমন মানুষ রয়েছে যে কল্যাণের চাবিকাঠি ও অকল্যাণের পথের বাধা বলে বিবেচিত, আবার এমন কিছু রয়েছে যে অকল্যাণের চাবি ও কল্যাণের তালা হিসেবে বিবেচিত। সু-সংবাদ সে সব লোকের জন্য যারা কল্যাণের চাবিস হয়, আর ধ্বংস তাদের জন্য যারা অকল্যাণের জন্য চাবি হয়” [হাদীসটি হাসান। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু সনদে হাদীসটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং ইবন আবি আছেমও কিতাবুস সূন্নাহতে হাদীসটি বর্ণনা করেন। দেখুন- সিলসিলাতুস সহীহা, হাদীস নং ১৩৩২]

আলেম, নেককার ও ইসলামী দা‘ঈদের অনুসন্ধান করে বের করা ও তাদের সংস্পর্শ লাভ ও তাদের পাশে থাকা, ঈমান ও দীনের ওপর অটল ও অবিচল থাকার জন্য বড় সহযোগী হিসেবে প্রমাণিত সত্য। ইসলামের ইতিহাস তালাশ করলে দেখা যাবে বিভিন্ন সময়ে যখন বিভিন্ন ধরনের ফিতনা দেখা দিয়েছে তখন মুসলিমদেরকে আল্লাহ কতক ব্যক্তির মাধ্যমে অবিচল ও অটল থাকার তাওফীক দিয়েছেন।

এ ধরনের ঘটনার একটি ঘটনা হল, আলী ইবন আল মাদীনী রহ. তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা দীনকে মুরতাদের ফিতনার সময় সিদ্দীকের দ্বারা বিজয়ী করেছেন। আর নির্যাতনের সময় আহমাদ বিন হাম্বল দ্বারা রক্ষা করেছেন।

অটল ও অবিচল থাকার ক্ষেত্রে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম রহ. তার উস্তাদ শাইখুল ইসলামের ভূমিকা সম্পর্কে কি বলেছেন তা একটু ভেবে দেখুন। তিনি বলেন, যখন আমরা কঠিন ভয় পেতাম এবং আমাদের নিজেদের প্রতি খারাপ ধারণা হতো এবং যমীন আমাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ত, তখন আমরা তার নিকট আসতাম। যখন আমরা শুধু তাকে দেখতাম আর তার কথা শুনতাম তখনই আমাদের সব ভয়ভীতি ও আতঙ্ক দূর হয়ে যেতো। আমাদের অন্তর প্রশস্ত হয়ে যেতো, আমাদের পেরেশানী ও দুশ্চিন্তা শক্তি, বিশ্বাস ও প্রশান্তিতে রূপান্তরিত হতো। আল্লাহ তা‘আলা কতই না মহান ও পবিত্র যিনি তার বান্দাদেরকে তার সাথে সাক্ষাতের পূর্বে কর্মক্ষেত্রে জান্নাত দেখিয়ে দিয়েছেন এবং তার দরজাসমূহ খুলে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জান্নাতের রূহ, শীতল বাতাস ও সুঘ্রাণ দেখিয়ে দিয়েছেন। যার ফলে তারা তাদের সব শক্তি ও প্রেরণা তা লাভের উদ্দেশ্যে ব্যয় করেন এবং তার দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার নিমিত্তে শেষ করেন।

অটল ও অবিচল থাকার মৌলিক উৎস ও উপাদান ‘ইসলামী ভ্রাতৃত্ব বোধ’ এখানে প্রকাশ পায়। তোমার নেককার ভাইয়েরা, আদর্শ পুরুষগণ এবং তোমার অভিভাবকগণ এ পথে তোমার সত্যিকারের সহযোগী, সহযোদ্ধা ও তোমার মজবুত খুঁটি; যাতে তুমি হেলান দেবে আর শক্তিশালী দুর্গ যেখানে তুমি আশ্রয় নেবে। আল্লাহর যে সব নিদর্শন ও প্রজ্ঞা বা হিকমত রয়েছে তা দ্বারা তারা তোমাকে অটল ও অবিচল থাকতে সহযোগিতা করবে। তুমি তাদের সাথেই থাক, তাদের আঁচলের নীচে বসবাস কর। কখনোই একা বা বিচ্ছিন্ন হয়ো না। কারণ, বাঘ ছাগলের পাল থেকে বিচ্ছিন্ন ছাগলটিকেই আক্রমণ করে।