১
হজ, উমরা ও যিয়ারত গাইড
লেখকঃ ড. মনজুরে এলাহী, আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান, নোমান আবুল বাশার কাউসার বিন খালেদ, ইকবাল হোসাইন মাসুম, আবুল কালাম আজাদ, জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের, মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
পূর্বকথা
প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে মক্কা নগরীতে পবিত্র কাবা ঘর পুনর্নিমাণের নির্দেশ পেলেন ইব্রাহীম (আঃ)। নির্মাণ শেষে সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হজে আসার আহবান জানিয়ে ঘোষণা উচ্চারণ করারও আদেশ পেলেন তিনি। নির্দেশ মতো ঘোষণা উচ্চারণ করলেন ইব্রাহীম (আঃ)। সে ইব্রাহীমি ঘোষণায় সাড়া দিয়ে বর্তমানে বিশ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান প্রতি বছর পবিত্র নগরী মক্কায় গমন করে থাকে হজ পালনের উদ্দেশ্যে।
হজ, হাতে-গোনা নির্ধারিত কয়েকটি দিনে পালিত হওয়ার বিষয় হলেও, একজন মানুষের জীবনকে ঢেলে সাজাতে সাহায্য করে নতুন করে। কেউ যখন হজ পালনের উদ্দেশ্যে ঘরসংসার ছেড়ে রওয়ানা হয় মক্কার পথে। মনে মনে সে ভাবতে লাগে যে আত্মীয়-পরিজন, জীবনের মায়া-মোহ, নিত্যদিনের ব্যস্ততা-দৌড়ঝাঁপ ইত্যাদির শেকল ছিঁড়ে সে কেবলই ধাবমান হচ্ছে আল্লাহর পানে। নিজের একান্ত পরিচিত জীবন থেকে আলাদা হয়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে সে আল্লাহর জিকির-স্মরণের ভিন্নতর এক জগতে। সে নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে যেখানে আছে ‘বায়তুল্লাহ’ আল্লাহর ঘর। যেখানে আছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের ত্যাগ ও অর্জনের সোনালি ইতিহাস। যেখানে আছে ওইসব মানুষের ত্যাগের ইতিহাস যাদের প্রতিটি নিশ্বাসে প্রবাহ পেয়েছে আল্লাহর স্মরণ-ভক্তি-ভালোবাসা। যাদের জীবন-মৃত্যু নিবেদিত হয়েছে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। হজ পালনকারীর হৃদয়ে এ ধরনের ভাবও উদিত হয় যে, এমন এক পবিত্র ভূমির দিকে সে পা বাড়াচ্ছে, আল্লাহ যেটাকে চয়ন করেছেন তাঁর শেষ হেদায়েত প্রকাশের জায়গা হিসেবে। এভাবে হজের সফর মানুষের হৃদয়ে শুরু থেকেই সৃষ্টি করে আল্লাহ-মুখী এক পবিত্র চেতনা যা হজের প্রতিটি কাজকে করে দেয় ইখলাসপূর্ণ।
হজ এক অর্থে আল্লাহর পানে সফর। হজে আল্লাহর রহমত-বরকত স্পর্শের এক উন্নততর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে একজন মানুষ। হজ এমন একটি ইবাদত যেখানে একত্রিত হয় আল্লাহর জিকির, শরীরের ক্লেশ-ক্লান্তি-শ্রম। যেখানে ব্যয় হয় উপার্জিত অর্থ। সে হিসেবে হজকে অন্যান্য ইবাদতের নির্যাস বললেও ভুল হবার কথা নয়।
মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয় বলে হাদিসে এসেছে। শরিয়তের সীমা-লঙ্ঘন ও অশালীন আচরণমুক্ত হজকারী নবজাতক শিশুর তুল্য হয়ে ফিরে আসে স্বদেশে, এ কথাও ব্যক্ত হয়েছে হাদিসে স্পষ্ট ভাষায়। তবে এ ধরনের হজ কেবল পবিত্র ভূমি পর্যটন করে চলে এলেই হবে না, বরং তার জন্য প্রয়োজন প্রতিটি হজকর্মে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুসরণ-অনুকরণ-ইত্তেবা। হজপালনের প্রতিটি পদক্ষেপে কীভাবে আমরা প্রিয় নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি সে প্রেরণা থেকেই এই পুস্তক রচনায় হাত দেয়া।
বেশ কয়েকজন বিজ্ঞ আলেমে দ্বীন ও শরীয়তবিদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল এই পুস্তক। পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা-টিপ্পনি সরবরাহ করে বইটিকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি হজকর্মের পেছনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবাদের (রাঃ) আদর্শ কী, তা অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে যথেষ্ট শ্রম দিয়ে। আমাদের দেশে হজ বিষয়ক প্রকাশনা অঢেল। তবে এর অধিকাংশই রেফারেন্সবিহীন। আবার কিছু কিছু এমনও রয়েছে যেগুলোয় মারাত্মক ধরনের ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। হাদিস-কুরআনের অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে লিখিত পুস্তক খুব কমই নজরে পড়ে। সে দৃষ্টিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা পাঠকের সমাদর পাবে বলে বিশ্বাস।
গবেষকবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রশংসার দাবি রাখে। হুজ্জাজ চেরিট্যাবল সোসাইটি ও ইসলামহাউস ডট কম বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁদের সবার প্রতি রইল অসংখ্য ধন্যবাদ ও দোয়া। নোমান বিন আবুল বাশার, কাউসার বিন খালেদ ও আহমদুল্লাহ বিন আহসানুল্লাহ বইটির পরিমার্জন ও সৌন্দর্য বন্ধর্নে যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের সবাইকে জাযায়ে খায়ের দান করুন।
পরিশেষে আল্লাহর দরবারে আকুতি তিনি যেন আমাদের এই মেহনত-শ্রম কবুল করেন ও পরকালে আমাদের নাজাতের উসিলা বানান। আমিন
মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক
চেয়ারম্যান
হুজ্জাজ চেরিট্যাবল সোসাইটি
পরিচালক : বাংলা বিভাগ
www.islamhouse.com
হজ, হাতে-গোনা নির্ধারিত কয়েকটি দিনে পালিত হওয়ার বিষয় হলেও, একজন মানুষের জীবনকে ঢেলে সাজাতে সাহায্য করে নতুন করে। কেউ যখন হজ পালনের উদ্দেশ্যে ঘরসংসার ছেড়ে রওয়ানা হয় মক্কার পথে। মনে মনে সে ভাবতে লাগে যে আত্মীয়-পরিজন, জীবনের মায়া-মোহ, নিত্যদিনের ব্যস্ততা-দৌড়ঝাঁপ ইত্যাদির শেকল ছিঁড়ে সে কেবলই ধাবমান হচ্ছে আল্লাহর পানে। নিজের একান্ত পরিচিত জীবন থেকে আলাদা হয়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে সে আল্লাহর জিকির-স্মরণের ভিন্নতর এক জগতে। সে নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে যেখানে আছে ‘বায়তুল্লাহ’ আল্লাহর ঘর। যেখানে আছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের ত্যাগ ও অর্জনের সোনালি ইতিহাস। যেখানে আছে ওইসব মানুষের ত্যাগের ইতিহাস যাদের প্রতিটি নিশ্বাসে প্রবাহ পেয়েছে আল্লাহর স্মরণ-ভক্তি-ভালোবাসা। যাদের জীবন-মৃত্যু নিবেদিত হয়েছে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। হজ পালনকারীর হৃদয়ে এ ধরনের ভাবও উদিত হয় যে, এমন এক পবিত্র ভূমির দিকে সে পা বাড়াচ্ছে, আল্লাহ যেটাকে চয়ন করেছেন তাঁর শেষ হেদায়েত প্রকাশের জায়গা হিসেবে। এভাবে হজের সফর মানুষের হৃদয়ে শুরু থেকেই সৃষ্টি করে আল্লাহ-মুখী এক পবিত্র চেতনা যা হজের প্রতিটি কাজকে করে দেয় ইখলাসপূর্ণ।
হজ এক অর্থে আল্লাহর পানে সফর। হজে আল্লাহর রহমত-বরকত স্পর্শের এক উন্নততর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে একজন মানুষ। হজ এমন একটি ইবাদত যেখানে একত্রিত হয় আল্লাহর জিকির, শরীরের ক্লেশ-ক্লান্তি-শ্রম। যেখানে ব্যয় হয় উপার্জিত অর্থ। সে হিসেবে হজকে অন্যান্য ইবাদতের নির্যাস বললেও ভুল হবার কথা নয়।
মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয় বলে হাদিসে এসেছে। শরিয়তের সীমা-লঙ্ঘন ও অশালীন আচরণমুক্ত হজকারী নবজাতক শিশুর তুল্য হয়ে ফিরে আসে স্বদেশে, এ কথাও ব্যক্ত হয়েছে হাদিসে স্পষ্ট ভাষায়। তবে এ ধরনের হজ কেবল পবিত্র ভূমি পর্যটন করে চলে এলেই হবে না, বরং তার জন্য প্রয়োজন প্রতিটি হজকর্মে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুসরণ-অনুকরণ-ইত্তেবা। হজপালনের প্রতিটি পদক্ষেপে কীভাবে আমরা প্রিয় নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি সে প্রেরণা থেকেই এই পুস্তক রচনায় হাত দেয়া।
বেশ কয়েকজন বিজ্ঞ আলেমে দ্বীন ও শরীয়তবিদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল এই পুস্তক। পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা-টিপ্পনি সরবরাহ করে বইটিকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি হজকর্মের পেছনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবাদের (রাঃ) আদর্শ কী, তা অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে যথেষ্ট শ্রম দিয়ে। আমাদের দেশে হজ বিষয়ক প্রকাশনা অঢেল। তবে এর অধিকাংশই রেফারেন্সবিহীন। আবার কিছু কিছু এমনও রয়েছে যেগুলোয় মারাত্মক ধরনের ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। হাদিস-কুরআনের অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে লিখিত পুস্তক খুব কমই নজরে পড়ে। সে দৃষ্টিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা পাঠকের সমাদর পাবে বলে বিশ্বাস।
গবেষকবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রশংসার দাবি রাখে। হুজ্জাজ চেরিট্যাবল সোসাইটি ও ইসলামহাউস ডট কম বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁদের সবার প্রতি রইল অসংখ্য ধন্যবাদ ও দোয়া। নোমান বিন আবুল বাশার, কাউসার বিন খালেদ ও আহমদুল্লাহ বিন আহসানুল্লাহ বইটির পরিমার্জন ও সৌন্দর্য বন্ধর্নে যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের সবাইকে জাযায়ে খায়ের দান করুন।
পরিশেষে আল্লাহর দরবারে আকুতি তিনি যেন আমাদের এই মেহনত-শ্রম কবুল করেন ও পরকালে আমাদের নাজাতের উসিলা বানান। আমিন
মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক
চেয়ারম্যান
হুজ্জাজ চেরিট্যাবল সোসাইটি
পরিচালক : বাংলা বিভাগ
www.islamhouse.com