১
হজ, উমরাহ ও যিয়ারতের পদ্ধতি [মাসনূন দো‘আসহ]
লেখকঃ হাজী ও উমরাকারীদের হাদিয়া অফিসস্থ ইসলামী গবেষণা পরিষদ, মক্কা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
উমরার তাওয়াফ
তাওয়াফ শুরু করার পদ্ধতি হলো- হাজারে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হয়ে ডান হাত দিয়ে আপনি তা স্পর্শ করবেন এবং এতে চুম্বন করবেন। যদি হাত দিয়ে পাথরটিকে স্পর্শ করা সম্ভব না হয়, তাহলে সেদিকে ফিরে ডান হাত দিয়ে ইশারা করবেন। তবে হাতে চুম্বন করবেন না। ইশারা করার সময় বলবেন “আল্লাহু আকবার। [বুখারী তা বর্ণনা করেছেন ।]
আর যদি বলেন, ‘বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার’ তবে তা উত্তম। [ইবন উমার থেকে অনুরূপ সাব্যস্ত হয়েছে,যা বায়হাকী বর্ণনা করেছেন (৫/৭৯), হাফেজ ইবনে হাজার আত-তালখীসুল হাবীর গ্রন্থে বলেন, এর সনদ শুদ্ধ (২/২৪৭)]
তাওয়াফের শুরুতে আপনার জন্য নিম্নের দো‘আটি পড়া সুন্নাত:
اللّهُمَّ إِيْمَاناً بِكَ وَتَصْدِيْقاً بِكِتَابِكَ وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ وَاتِّبَاعاً لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ
“হে আল্লাহ! আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য প্রতিপন্ন করে, আপনার প্রতিশ্রুতিকে পূর্ণ করে এবং আপনার রাসূলের সুন্নাতকে অনুসরণ করে (আমি তাওয়াফ শুরু করছি)”। [প্রাগুক্ত গ্রন্থটি দেখুন। বিশেষ করে তা ইবন উমর ও কয়েকজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। যদিও কোন কোন বর্ণনায় দুর্বলতা রয়েছে। [সম্পাদক]]
উমরাকারীর জন্য উত্তম হলো ভীড় না জমানো এবং ঠেলাঠেলি, গালি গালাজ ও ঝগড়াঝাটি করে মানুষকে কষ্ট না দেওয়া। কেননা এটা এমন ত্রুটি যাতে ইবাদাতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।
এরপর হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে কা‘বাকে বাম পাশে রেখে সাত চক্কর তাওয়াফ শুরু করুন। এ অবস্থায় যিকির ও ইস্তিগফার করতে থাকুন এবং ইচ্ছামত দো‘আ ও কুরআন পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দো‘আ করুন। তবে স্বর উচ্চ করে নির্দিষ্ট কোনো দো‘আ পাঠ করবেন না, যেমন অনেকে করে থাকে। কেননা এতে তাওয়াফকারী অন্য সকল ভাইদের সমস্যা হয়।
আপনি যখন রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছাবেন, তখন সম্ভব হলে ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করুন। তবে তাতে চুম্বন করবেন না এবং তা মাসেহও করবেন না, যেমন কতেক লোকেরা করে থাকে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কাজ সাব্যস্ত হয় নি। আপনি আপনার তাওয়াফের প্রত্যেক চক্করে স্পর্শ করার কাজটি করবেন। আর রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করা সম্ভব না হলে সেদিকে কোনোরূপ ইশারা না করে ও ‘আল্লাহু আকবার’ না বলেই এগিয়ে যাবেন। রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নিম্নের দো‘আটি পড়া আপনার জন্য সূন্নাত:
﴿رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ حَسَنَةٗ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ٢٠١﴾ [ البقرة : ٢٠١ ]
“হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন। আর (জাহান্নামের) আগুনের শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করুন”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২০১] [আহমাদ,আবু দাউদ ও ইবন খুযাইমা এ দো‘আটি বর্ণনা করেছেন। আলবানী একে সহীহ করেছেন ।]
এভাবেই উমরাকারী প্রত্যেক চক্কর হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে সেখানে এসে চক্কর শেষ করে তার সাত চক্কর তাওয়াফের কাজ চালিয়ে যাবে। যখনই হাজারে আসওয়াদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে, তা স্পর্শ করে চুম্বন করবে এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। হাজারকে স্পর্শ ও চুম্বন করা সম্ভব না হলে সে বরাবর আসলে ডান হাত দিয়ে সেদিকে ইশারা করে একবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে।
তাওয়াফে কুদুমের প্রথম তিন চক্করে রমল করা সুন্নাত। রমল হচ্ছে, ঘন পা ফেলে দ্রুত চলা, তবে তা করতে সক্ষম না হলে কোনো দোষ নেই। কেননা তা সুন্নাত, ওয়াজিব নয়।
তাওয়াফের কাজ শেষ হলে দ্রুত আপনার ডান কাঁধ ঢেকে নিন। আর মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু’ রাকাত সংক্ষিপ্ত সালাত পড়া আপনার জন্য সুন্নাত, যদি তা সহজসাধ্য হয়। তবে যদি ভীড় বা অনুরূপ কোনো কারণে সেখানে সালাত আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে মসজিদুল হারামের যে কোনো জায়গায় দু’রাকাত সালাত পড়ে নিন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ‘ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন’ পড়ুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহার পর ‘কুলহুয়াল্লাহু আহাদ’ পড়ুন। [মুসলিম এ বিষয়টি বর্ণনা করেন।]
অবশ্য এ দু’সূরা ছাড়া অন্য সূরা পড়লেও কোনো অসুবিধা নেই।
জেনে রাখুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফ সম্পন্ন করে যমযমের কাছে গিয়ে যমযমের পানি পান করেছিলেন। [আহমাদ এটা বর্ণনা করেন।] সুতরাং আপনিও যখন তাওয়াফের কাজ শেষ করবেন, আপনার জন্য তখন সুন্নাত হলো যমযমের কাছে গিয়ে তা থেকে অথবা পানের জন্য রক্ষিত পাত্র থেকে যমযমের পানি পান করা। এরপর আপনার জন্য সহজসাধ্য হলে হাজারে আসওয়াদের কাছে ফিরে এসে একে চুম্বন করা মুস্তাহাব। আর তা যদি সম্ভব না হয় বিশেষ করে ভীড়ের সময় তাহলে তা ছেড়ে দিতে পারেন।
আর যদি বলেন, ‘বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার’ তবে তা উত্তম। [ইবন উমার থেকে অনুরূপ সাব্যস্ত হয়েছে,যা বায়হাকী বর্ণনা করেছেন (৫/৭৯), হাফেজ ইবনে হাজার আত-তালখীসুল হাবীর গ্রন্থে বলেন, এর সনদ শুদ্ধ (২/২৪৭)]
তাওয়াফের শুরুতে আপনার জন্য নিম্নের দো‘আটি পড়া সুন্নাত:
اللّهُمَّ إِيْمَاناً بِكَ وَتَصْدِيْقاً بِكِتَابِكَ وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ وَاتِّبَاعاً لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ
“হে আল্লাহ! আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য প্রতিপন্ন করে, আপনার প্রতিশ্রুতিকে পূর্ণ করে এবং আপনার রাসূলের সুন্নাতকে অনুসরণ করে (আমি তাওয়াফ শুরু করছি)”। [প্রাগুক্ত গ্রন্থটি দেখুন। বিশেষ করে তা ইবন উমর ও কয়েকজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। যদিও কোন কোন বর্ণনায় দুর্বলতা রয়েছে। [সম্পাদক]]
উমরাকারীর জন্য উত্তম হলো ভীড় না জমানো এবং ঠেলাঠেলি, গালি গালাজ ও ঝগড়াঝাটি করে মানুষকে কষ্ট না দেওয়া। কেননা এটা এমন ত্রুটি যাতে ইবাদাতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।
এরপর হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে কা‘বাকে বাম পাশে রেখে সাত চক্কর তাওয়াফ শুরু করুন। এ অবস্থায় যিকির ও ইস্তিগফার করতে থাকুন এবং ইচ্ছামত দো‘আ ও কুরআন পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দো‘আ করুন। তবে স্বর উচ্চ করে নির্দিষ্ট কোনো দো‘আ পাঠ করবেন না, যেমন অনেকে করে থাকে। কেননা এতে তাওয়াফকারী অন্য সকল ভাইদের সমস্যা হয়।
আপনি যখন রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছাবেন, তখন সম্ভব হলে ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করুন। তবে তাতে চুম্বন করবেন না এবং তা মাসেহও করবেন না, যেমন কতেক লোকেরা করে থাকে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কাজ সাব্যস্ত হয় নি। আপনি আপনার তাওয়াফের প্রত্যেক চক্করে স্পর্শ করার কাজটি করবেন। আর রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করা সম্ভব না হলে সেদিকে কোনোরূপ ইশারা না করে ও ‘আল্লাহু আকবার’ না বলেই এগিয়ে যাবেন। রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নিম্নের দো‘আটি পড়া আপনার জন্য সূন্নাত:
﴿رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ حَسَنَةٗ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ٢٠١﴾ [ البقرة : ٢٠١ ]
“হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন। আর (জাহান্নামের) আগুনের শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করুন”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২০১] [আহমাদ,আবু দাউদ ও ইবন খুযাইমা এ দো‘আটি বর্ণনা করেছেন। আলবানী একে সহীহ করেছেন ।]
এভাবেই উমরাকারী প্রত্যেক চক্কর হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে সেখানে এসে চক্কর শেষ করে তার সাত চক্কর তাওয়াফের কাজ চালিয়ে যাবে। যখনই হাজারে আসওয়াদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে, তা স্পর্শ করে চুম্বন করবে এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। হাজারকে স্পর্শ ও চুম্বন করা সম্ভব না হলে সে বরাবর আসলে ডান হাত দিয়ে সেদিকে ইশারা করে একবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে।
তাওয়াফে কুদুমের প্রথম তিন চক্করে রমল করা সুন্নাত। রমল হচ্ছে, ঘন পা ফেলে দ্রুত চলা, তবে তা করতে সক্ষম না হলে কোনো দোষ নেই। কেননা তা সুন্নাত, ওয়াজিব নয়।
তাওয়াফের কাজ শেষ হলে দ্রুত আপনার ডান কাঁধ ঢেকে নিন। আর মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু’ রাকাত সংক্ষিপ্ত সালাত পড়া আপনার জন্য সুন্নাত, যদি তা সহজসাধ্য হয়। তবে যদি ভীড় বা অনুরূপ কোনো কারণে সেখানে সালাত আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে মসজিদুল হারামের যে কোনো জায়গায় দু’রাকাত সালাত পড়ে নিন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ‘ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন’ পড়ুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহার পর ‘কুলহুয়াল্লাহু আহাদ’ পড়ুন। [মুসলিম এ বিষয়টি বর্ণনা করেন।]
অবশ্য এ দু’সূরা ছাড়া অন্য সূরা পড়লেও কোনো অসুবিধা নেই।
জেনে রাখুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফ সম্পন্ন করে যমযমের কাছে গিয়ে যমযমের পানি পান করেছিলেন। [আহমাদ এটা বর্ণনা করেন।] সুতরাং আপনিও যখন তাওয়াফের কাজ শেষ করবেন, আপনার জন্য তখন সুন্নাত হলো যমযমের কাছে গিয়ে তা থেকে অথবা পানের জন্য রক্ষিত পাত্র থেকে যমযমের পানি পান করা। এরপর আপনার জন্য সহজসাধ্য হলে হাজারে আসওয়াদের কাছে ফিরে এসে একে চুম্বন করা মুস্তাহাব। আর তা যদি সম্ভব না হয় বিশেষ করে ভীড়ের সময় তাহলে তা ছেড়ে দিতে পারেন।