hadith book logo

হজ, উমরাহ ও যিয়ারতের পদ্ধতি [মাসনূন দো‘আসহ]

লেখকঃ হাজী ও উমরাকারীদের হাদিয়া অফিসস্থ ইসলামী গবেষণা পরিষদ, মক্কা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

যিলহজ মাসের নয় তারিখ আরাফার দিন হাজীসাহেবদের করণীয়

আরাফার দিন একটি বরকতময় দিন। এ দিনটির বহুবিধ কল্যাণের কারণে এবং এ দিন ফেরেশতাগণ ও রহমাত নাযিল হওয়ায় আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে এর শপথ করেছেন। আরাফার দিনের চেয়ে অন্য কোনো দিন শয়তানকে এত বেশি অপমানিত ও অপদস্থ হতে দেখা যায় না।

প্রিয়ভাই! আপনি যখন আরাফায় পৌঁছবেন তখন আপনার জন্য মুস্তাহাব হলো সম্ভব হলে নামিরায় অবতরণ করে সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা, যেভাবে আপনার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। আর যদি নামিরায় অবতরণ সম্ভব না হয় তাহলে আরাফার সীমানার ভেতর অন্য কোনো স্থানে অবস্থান করতে পারেন, এতে কোনো অসুবিধা নেই। নির্দেশনাদানকারী চিহ্ন ও বোর্ড দ্বারা ‘আরাফার সীমানা বর্ণনা করে দেওয়া হয়েছে।

আপনি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ‘আরাফায় অবস্থান করবেন। আপনার পুরো সময়টাই আপনি তালবিয়া পাঠ করে, দো‘আ ও ইস্তিগফার করে এবং আল্লাহর স্মরণে অতিবাহিত করবেন। সূর্য ঢলে পড়লে এবং যোহরের ওয়াক্ত হলে ইমাম সাহেবের জন্য খুতবা দেওয়া সুন্নাত। খুতবায় তিনি এ দিন এবং পরবর্তীতে হাজী সাহেবদের জন্য কি কি কাজ বিধিসম্মত তা বর্ণনা করবেন এবং মানুষকে উপদেশ দিবেন, ইসলামের হুকুম আহকাম তাদের স্মরণ করিয়ে দিবেন, স্বীয় রব, পরিবার ও মুসলিম ভাইদের প্রতি কি কর্তব্য রয়েছে তা বর্ণনা করবেন, যেরূপ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন।

এরপর আপনি যোহরের সময় একটি আযানে ও দু’টি একামাতে যোহর ও আসর সালাত একত্রে কসর করে পড়বেন। এ দু’ সালাতের পূর্বে, মধ্যখানে ও পরে আর কোনো সালাত পড়বেন না।

প্রিয় ভাই! সালাত পড়া শেষ করে আপনি এ সময়টিতে ইবাদাতে মনোনিবেশ করতে সচেষ্ট হোন। এ বিশাল সুযোগ যেন আপনার থেকে না হারায়। সূর্যাস্ত পর্যন্ত অধিক পরিমাণে যিকির, দো‘আ, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ পড়তে থাকুন, তাওবা ও ইস্তিগফার করুন। দো‘আর সময় ক্বিবলামুখী হয়ে, দু’হাত উত্তোলন করুন। দো‘আর সময় আপনি যেন বিনীত, নম্র এবং স্বীয় স্রষ্টা ও মুনিবের প্রতি মুখাপেক্ষী অবস্থায় থাকেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ বাণীটি শুনুন:

«خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ»

“সর্বোত্তম দো‘আ হলো ‘আরাফার দিনের দো‘আ। আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি, তম্মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো এ দো‘আ যে: আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান”।

আপনার রবের কাছে আপনি দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ প্রার্থনা করুন।

প্রিয় ভাই, আপনি এমন সব আমল থেকে সতর্ক থাকুন, যা এ মহান স্থানে আপনার সাওয়াব ও পূণ্য নষ্ট করে দেবে।