hadith book logo

সুন্নতের প্রতি যত্নবান হওয়ার আদেশ ও তার আদব

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না … .. .

আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا . ( النساء : ৬৫)

অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, তারপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজদের অন্তরে কোন দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়। (সূরা আন নিসা, আয়াত ৬৫)

আয়াত থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল:

এক. এ আয়াতের শানে নুযুল হল, এক আনসারী সাহাবী ও যুবাইর রা. মাঝে জমিতে পানি সেচ নিয়ে একটি বিবাদ হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিবাদের ফয়সালা করে দিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফয়সালাটি আনসারী সাহাবীর মনপুত হল না। তিনি এর সমালোচনা করলেন। এ ঘটনা সম্পর্কে এ আয়াতটি নাযিল হয়।

দুই. দীনি বিষয় তো অবশ্যই, দুনিয়াবী বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফয়সালা বা সাজেসন মানা ঈমানের দাবী। কেহ যদি আংশিক ভাবে তার সাজেসন মান্য করে, তবে সে ঈমানদার হতে পারবে না এ আয়াতের দাবী অনুসারে।

তিন. এ আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে একটি ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিচার করার পর এক ব্যক্তি নতুনভাবে বিচারের জন্য উমার রা. এর কাছে এসেছিল। উমার রা. তাকে হত্যা করে ফেললেন (নাউজুবিল্লাহ) । এ ঘটনাটি যে হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে তা সহীহ হাদীস নয়। এ শানে নুযুল বিশ্বাস বা প্রচার করা ঠিক নয়। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর বিশিষ্ট সাহাবী উমার ইবনুল খাত্তাব রা. এর প্রতি একজন মুসলিমকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করার অপবাদ দেয়া হয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।

এ আয়াতের সঠিক শানে নুযুল ওটাই যা প্রথম বর্ণনা করা হল।

চার. এ আয়াতের দাবী হল, জীবনের সর্বক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ও দিক-নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আর এ ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে।