hadith book logo

মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়

লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৭

মৃতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত আরও কিছু কুসংস্কার ও গর্হিত কাজ:

১) জানাযার খাট বহন করার সময় তার পেছনে পেছনে উচ্চস্বরে তাকবীর দেয়া ও যিকির করা।

২) কবরে গোলাপ জল ছিটানো।

৩) আয়াতুল কুরসী বা কুরআনের আয়াত লেখা চাদর দ্বারা মৃত দেহ আবৃত করা।

৪) মরদেহ বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় দু বার খাট রাখা।

৫) চার কুল পড়ে কবরের চার কোনায় খেজুরের ডাল পোঁতা।

৬) কবর যিয়ারত করতে গিয়ে সাতবার সুরা ফাতিহা, তিনবার সুরা ইখলাছ,সাতবার দরূদ ইত্যাদি পাঠ করা।

৭) নির্দিষ্ট করে ২৭ রামাযান,দু ঈদের দিন কিংবা জুম’আর দিন কবর যিয়ারত করতে যাওয়া।

৮) তথাকথিত শবেবরাত,শবে মেরাজ ইত্যাদি রাতে কবর যিয়ারত করা।

৯) লাশ দেখার জন্য মহিলাদের ভিড় করা।

১০) মৃত ব্যক্তির নামে ভারতের আজমীরে কিংবা বিভিন্ন খানকা,দরবার ও মাযারের উদ্দেশ্যে টাকা-পয়সা,গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পাঠানো। [সুত্রঃ জাল হাদীসের কবলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাত। অধ্যায়ঃ জানাযা, ৩৫০ পৃষ্ঠা। লেখকঃ মুযাফফর বিন মুহসিন (সামান্য পরিবর্তীত)]

১১)অনুরূপ লাশ জানাযা-দাফনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর সামাজিক,রাজনৈতিক বা দলীয় প্রথা পালনের উদ্দেশ্যে লাশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করা যেমন,লাশকে স্থানে স্থানে নিয়ে প্রদর্শন করা,শ্রদ্ধা নিবেদন করা,লাশের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা,ভিডিও করা,লাশকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে জীবনালোচনা করা,বিভিন্নমুখী ভাষণ-বক্তৃতা দেওয়া ইত্যাদি সবই গর্হিত কাজ। এগুলোর মধ্যে জীবিত-মৃত কারোরই কোনো কল্যাণ নেই। এসব অনর্থক কর্মকাণ্ড পরিহার করা সকলের জন্য জরুরি।

এভাবে অসংখ্য শিরক, বিদয়াত ও কুসংস্কার আমাদের সমাজে এমনভাবে জেঁকে বসে আছে যেগুলোর প্রতিবাদ করতে গেলেও হয়ত প্রতিবাদকারীকে উল্টো বিদয়াতী উপাধী নিয়ে ফিরে আসতে হবে।

তবে বর্তমানে জ্ঞান চর্চার অবাধ সুযোগে আমাদের নতুন প্রজন্ম,যুব সমাজ,তরুণ আলেম সমাজ সবাই যদি উন্মুক্ত হৃদয়ে দ্বীনে ইসলামের বুক থেকে বিদয়াতের পাথরকে সরানোর জন্য তৎপর হয় তবে অদূর ভবিষ্যতে ইসলাম তার আগের মহিমায় ভাস্বর হবে। ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য্যে ভরে উঠবে আমাদের সপ্নিল বসুন্ধরা। আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন।