hadith book logo

মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়

লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৩

মৃতের উদ্দেশ্যে ফাতেহাখানী করার ব্যাপারে একটি সংশয়ের জবাব

কতিপয় মানুষ তথাকথিত ফাতেহাখানী বৈধ প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে ’হেদায়াতুল হারামাইন’ গ্রন্থে সংকলিত একটি ফতোয়া এবং জুনদীর হাওলা দিয়ে একটি হাদীস পেশ করে থাকে। তা হল,“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পুত্র ইবরাহীম রা. মৃত্যু বরণ করার পর সাহাবী আবু যার রা. শুকনো খেজুর এবং শুকনো রুটি মেশানো দুধ নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তার উপর সূরা ফাতেহা এবং সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করলেন। তারপর হাত উঠিয়ে জিকির">দু’আ করে উভয় হাত মুখমণ্ডলে ফেরালেন। অত:পর আবু যার রা.কে বললেন,এগুলো মানুষের মাঝে বিতরণ করে দাও। এর সমস্ত সওয়াব আমি আমার পুত্র ইব্রাহীম এর রূহের উদ্দেশ্যে বখশিয়ে দিলাম। ”

উক্ত ঘটনা সম্পূর্ণ বানোয়াট। বরং সমাজে প্রচলিত ফাতেহাখানীর কুপ্রথাকে সামনে রেখে অত্যন্ত চালাকীর সাথে এটা সাজানো হয়েছে যার কোন ভিত্তি নেই। তাছাড়া “‘হেদায়াতুল হারামাইন’ কিতাবের লেখক উক্ত ঘটনার কোন তথ্যসূত্রও উল্লেখ করেন নি।

হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আলেম আব্দুল হাই লাখনৌভী রহ. এর ফাতাওয়ার কিতাবে (২য় খণ্ড ৩৬ পৃষ্ঠায়) উক্ত ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে এবং তার জবাবও সেখানে বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত আলোচনা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলঃ

প্রশ্নঃ আমারা “‘হেদায়াতুল হারামাইন’ কিতাবে পেয়েছি যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সন্তান ইবরাহীম রা. মৃত্যু বরণ করার পর তিনি তৃতীয়,দশম,চল্লিশতম ইত্যাদি দিনে শুকনা খেজুর ইত্যাদিতে ফাতিহা পাঠ করে সাহাবীদেরকে খাইয়েছিলেন। তাহলে বর্তমানে ফাতেহাখানীর আয়োজন করলে তাতে বাধা কোথায়?

উত্তরঃ ‘হেদায়াতুল হারামাইন’ কিতাবে উল্লেখিত ঘটনা আদৌ সত্য নয়। গ্রহণযোগ্য কিতাব সমূহে এর কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়না। আল্লাহ ভাল জানেন।

-আবুল হাসানাত মুহাম্মাদ আব্দুল হাই রহ.

কুরআনখানী ও ইসালে সওয়াব সম্পর্কে জগদ্বিখ্যাত মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং ইমামগণের অভিমত:

এ প্রসঙ্গে আমরা এখন ধারাবাকিভাবে তাফসীর বিশারদ, হাদীস বিশারদ,ফিকহের মূলনীতি বিশেষজ্ঞ এবং চার মাযহাবের মহামতি ইমামগণের মতামত এবং উক্তি সমূহ উপস্থাপন করব যা দ্বারা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হবে যে,বর্তমানে সমাজে মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে যে শোকসভা,স্মরণ সভা ও সবীনাখানী বা কোরআনখানীর আয়োজন হয়ে চলছে এর সাথে ইসলামী শরীয়ত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাতের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।