১
মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়
লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৭
ফিকাহ শাস্ত্রের উসূলবীদগণের অভিমত
طَرِيْقُ الوُصُوْلِ إِلى إِبْطَالِ البِدَعِ بِعِلْمِ الأُصُوْلِ কিতাবের গ্রন্থকার বলেন,জনসাধারণ বর্তমানে যে সকল বিদ’আতী কাজ করছে তার কতিপয় উদাহরণ পেশ করা হলঃ
প্রথমত: কবরের নিকট কুরআন পড়া। উদ্দেশ্য হল,যাতে মায়্যেতের উপর আল্লাহ তায়ালা রহমত করেন। আল্লাহ পাকের রহমত ও করুণার প্রতি মৃত ব্যক্তি মুখাপেক্ষি বটে; বিন্তু এই উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম তো কখনো গোরস্থানে মৃতদের উদ্দেশ্য কুরআন পড়েন নি। মৃতের প্রতি মানুষের সহানুভূতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহবায়ে কেরাম যেহেতু করেন নি তাই সেটা বিদয়াতের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, কবরের নিকট কুরআন পড়া বিদয়াত। কারণ,একথা কোনক্রমেই বোধগম্য নয় যে,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু হওয়া সত্বেও এত উপকারী একটি কাজ সারা জীবনে একবারও করলেন না বা করতে বললেন না?!
দ্বিতীয়ঃ মৃত মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করা:
কুরআন পাঠ করা তো পাঠকারীর জন্য একটি ইবাদত। কুরআন নিজে পড়লে বা অন্য কারো পড়া মনোযোগ সহকারে শ্রবন করলে তার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। কুরআন আল্লাহর কালাম। এতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কথা নেই। কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। কিন্তু মৃত মানুষকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি এটাই পর্যালোচনার বিষয়।
এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে,কুরআন মৃত মানুষের জন্যে অবতীর্ণ হয় নি;হয়েছে জীবিত মানুষের জন্য। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآَنٌ مُبِينٌ - لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ
“এতো এক উপদেশ বার্তা এবং সুস্পষ্ট কুরআন। যাতে তিনি জীবিতকে সতর্ক করেন এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ” [সূরা ইয়াসীনঃ ৬৯-৭০]
- কুরআন নাযিল হওয়ার উদ্দেশ্য হল,কুরআন আনুগত্যশীল নেক বান্দাদের জন্য পুরস্কারের সুসংবাদ প্রদান করবে এবং অবাধ্য ও নাফরমানদের জন্য শাস্তির বার্তা শোনাবে।
- এ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এ জন্য যে,এর মাধ্যমে আমরা আমাদের মন-মানষিকতা,আচার-ব্যবহারকে সুন্দর করব এবং নিজেদের সার্বিক অবস্থাকে সংশোধন করব।
- অন্যান্য আসমানী কিতাবের মত আল কুরআন আল্লাহ তায়ালা এজন্য অবতীর্ণ করেছেন যে,এর দিক নির্দেশনা মোতাবেক মানুষ আমল করবে,খুঁজে নিবে নিজেদের জীবন চলার সঠিক পথ। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
إِنَّ هَذَا الْقُرْآَنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا - وَأَنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآَخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
“এই কুরআন অবশ্যই সর্বাধিক সরল পথ দেখায় এবং সৎকর্ম পরায়ন মুমিনদেরকে এই সুসংবাদ প্রদান করে যে,তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার,আর যারা পরকালকে বিশ্বাস করেনা তাদের জন্য তৈরি করে রেখেছি যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। ” [সূরা বানী ইসরাইলঃ ৯-১০]
আপনি কখনো শুনেছেন কি যে পূর্ববর্তী জতি সমূহের মাঝে যতগুলো আসমানী কিতাব ছিল সেগুলোর কোন একটি মৃত মানুষের উদ্দেশ্যে কিতাব পড়া হতো? অথবা তা পড়ার বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হত?
আল্লাহ তায়ালা তো স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিলেনঃ
قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ - إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ - وَلَتَعْلَمُنَّ نَبَأَهُ بَعْدَ حِينٍ
“(হে নবী) আপনি বলে দিন,আমি তোমাদের নিকট এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আর আমি তোমাদের কাছে কৃত্রিমতাও করি না। এ হল,জগত সমূহের জন্য উপদেশ বার্তা। তোমরা কিছুকাল পরে এর সংবাদ অবশ্যই জানতে পারবে। ” [সূরা সোয়াদঃ ৮৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি কখনো মৃত সাহাবীদের উদ্দেশ্যে কুরআন পড়েছিলেন যেন তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়?অথচ তিনি তো ভাল করেই জানতেন যে, তারা তো নিস্পাপ নয়? গুনাহ মোচন এবং আল্লাহর দরবারে মর্যাদা বৃদ্ধির কত প্রয়োজন তাদের! তার কি এই আদর্শ ছিল না যে, কোন সাহাবী মারা গেলে তার কাফন দাফনের ব্যবস্থা করতেন? কাফন-দাফন শেষ হলে সবাই চলে যেতেন নিজ নিজ কাজে আর মৃত ব্যক্তি নিজেই থাকত তার আমলের একমাত্র জিম্মাদার? এটাই তো ছিল তাঁর নিয়ম। অতএব,তার অনুসরণ করা আমাদের একান্ত কর্তব্য নয় কি?
প্রথমত: কবরের নিকট কুরআন পড়া। উদ্দেশ্য হল,যাতে মায়্যেতের উপর আল্লাহ তায়ালা রহমত করেন। আল্লাহ পাকের রহমত ও করুণার প্রতি মৃত ব্যক্তি মুখাপেক্ষি বটে; বিন্তু এই উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম তো কখনো গোরস্থানে মৃতদের উদ্দেশ্য কুরআন পড়েন নি। মৃতের প্রতি মানুষের সহানুভূতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহবায়ে কেরাম যেহেতু করেন নি তাই সেটা বিদয়াতের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, কবরের নিকট কুরআন পড়া বিদয়াত। কারণ,একথা কোনক্রমেই বোধগম্য নয় যে,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু হওয়া সত্বেও এত উপকারী একটি কাজ সারা জীবনে একবারও করলেন না বা করতে বললেন না?!
দ্বিতীয়ঃ মৃত মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করা:
কুরআন পাঠ করা তো পাঠকারীর জন্য একটি ইবাদত। কুরআন নিজে পড়লে বা অন্য কারো পড়া মনোযোগ সহকারে শ্রবন করলে তার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। কুরআন আল্লাহর কালাম। এতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কথা নেই। কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। কিন্তু মৃত মানুষকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি এটাই পর্যালোচনার বিষয়।
এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে,কুরআন মৃত মানুষের জন্যে অবতীর্ণ হয় নি;হয়েছে জীবিত মানুষের জন্য। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآَنٌ مُبِينٌ - لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ
“এতো এক উপদেশ বার্তা এবং সুস্পষ্ট কুরআন। যাতে তিনি জীবিতকে সতর্ক করেন এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ” [সূরা ইয়াসীনঃ ৬৯-৭০]
- কুরআন নাযিল হওয়ার উদ্দেশ্য হল,কুরআন আনুগত্যশীল নেক বান্দাদের জন্য পুরস্কারের সুসংবাদ প্রদান করবে এবং অবাধ্য ও নাফরমানদের জন্য শাস্তির বার্তা শোনাবে।
- এ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এ জন্য যে,এর মাধ্যমে আমরা আমাদের মন-মানষিকতা,আচার-ব্যবহারকে সুন্দর করব এবং নিজেদের সার্বিক অবস্থাকে সংশোধন করব।
- অন্যান্য আসমানী কিতাবের মত আল কুরআন আল্লাহ তায়ালা এজন্য অবতীর্ণ করেছেন যে,এর দিক নির্দেশনা মোতাবেক মানুষ আমল করবে,খুঁজে নিবে নিজেদের জীবন চলার সঠিক পথ। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
إِنَّ هَذَا الْقُرْآَنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا - وَأَنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآَخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
“এই কুরআন অবশ্যই সর্বাধিক সরল পথ দেখায় এবং সৎকর্ম পরায়ন মুমিনদেরকে এই সুসংবাদ প্রদান করে যে,তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার,আর যারা পরকালকে বিশ্বাস করেনা তাদের জন্য তৈরি করে রেখেছি যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। ” [সূরা বানী ইসরাইলঃ ৯-১০]
আপনি কখনো শুনেছেন কি যে পূর্ববর্তী জতি সমূহের মাঝে যতগুলো আসমানী কিতাব ছিল সেগুলোর কোন একটি মৃত মানুষের উদ্দেশ্যে কিতাব পড়া হতো? অথবা তা পড়ার বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হত?
আল্লাহ তায়ালা তো স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিলেনঃ
قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ - إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ - وَلَتَعْلَمُنَّ نَبَأَهُ بَعْدَ حِينٍ
“(হে নবী) আপনি বলে দিন,আমি তোমাদের নিকট এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আর আমি তোমাদের কাছে কৃত্রিমতাও করি না। এ হল,জগত সমূহের জন্য উপদেশ বার্তা। তোমরা কিছুকাল পরে এর সংবাদ অবশ্যই জানতে পারবে। ” [সূরা সোয়াদঃ ৮৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি কখনো মৃত সাহাবীদের উদ্দেশ্যে কুরআন পড়েছিলেন যেন তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়?অথচ তিনি তো ভাল করেই জানতেন যে, তারা তো নিস্পাপ নয়? গুনাহ মোচন এবং আল্লাহর দরবারে মর্যাদা বৃদ্ধির কত প্রয়োজন তাদের! তার কি এই আদর্শ ছিল না যে, কোন সাহাবী মারা গেলে তার কাফন দাফনের ব্যবস্থা করতেন? কাফন-দাফন শেষ হলে সবাই চলে যেতেন নিজ নিজ কাজে আর মৃত ব্যক্তি নিজেই থাকত তার আমলের একমাত্র জিম্মাদার? এটাই তো ছিল তাঁর নিয়ম। অতএব,তার অনুসরণ করা আমাদের একান্ত কর্তব্য নয় কি?