hadith book logo

মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়

লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫২

ইসালে সওয়াব সম্পর্কে কতিপয় সংশয় নিরসন:

১ম সংশয় ও তার জবাব এ সংশয় রাখা যাবে না যে,সওয়াব যেমন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ সম্পদও তো তেমনি তাঁরই অনুগ্রহ। সুতরাং সম্পদ দান করা যেমন বৈধ,সওয়াব দান করাও তেমনি বৈধ। কিন্তু এ ধারণা অবাস্তাব। কারণ,সম্পদ বাহ্যিকভাবে দেখা যায় বা হস্তান্তর যোগ্য জিনিস এবং তা একজনের মালিকানা থেকে অন্যের মালিকানায় দেয়া সম্ভব। পক্ষান্তরে,সওয়াব হল ইন্দ্রিয় বর্হিভূত জিনিস যা দেখা যায়না বা অনুভব করা যায়না। অন্তরের অবস্থা অনুযায়ী আমলকারী সওয়াব লাভ করে থাকে। ফলে তা এক হাত থেকে আরেক হাতে যাওয়াও অসম্ভব। অতএব,সম্পদ আর সওয়াবকে এক মনে করা অযৌক্তিক।

একথা সত্য যে,সওয়াব হল নেক আমলের অনুগামী বিষয়। যে আমল করবে সে তার সওয়াব থেকে উপকৃত হবে। তবে অন্যকে তা দান করার বা উৎসর্গ করার কোন অধিকার নেই। এ কথাগুলো সব সময় স্মরণ রাখা দরকার।

২য় সংশয় ও তার জবাব: অনুরূপভাবে এ যুক্তি পেশ করা যাবে না যে,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন এবং তাঁর সওয়াব উম্মতের জন্যে বখশিয়েছেন। এ যুক্তি মোটেই ঠিক নয়। কারণঃ

১মত: কুরবানী আর্থিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত যা একজনের পরিবর্তে আরেকজন করতে পারে। তাছাড়া উম্মতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কুরবানী করা ঠিক তেমন যেমন পরিবারের অবিভাবক পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য কুরবানী করে থাকেন ।

২য়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ পরিবার এবং উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানী করার কারণ হল, তিনিই এ জন্য সবচেয়ে বেশি হকদার। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন:

النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিনদের কাছে নিজেদের আত্মা থেকেও অধিক নিকটতম। ” [সূরা আহযাবঃ ৬]তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কুরবানী করার উক্ত হাদীস দ্বারা ইসালে সওয়াব করার বৈধতা প্রমাণ করা ভুল ও অযৌক্তিক। কারণ,এর দ্বারা একজনের পক্ষ থেকে আরেকজন স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রমাণিত হয় অর্থাৎ একজনের পক্ষ থেকে অন্যজন কুরবানী করা জায়েয আছে। কিন্তু ইসালে সওয়াব বা সওয়াব দান করা আলাদা জিনিস। মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করার বৈধতা বিভিন্ন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী রা. কে অসীয়ত করেছিলেন তিনি যেন তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানীর পশুগুলোকে জবেহ করেন। এ বিধানের উপরেই উম্মতের আমল চলে আসছে। ইসালে সওয়াব বা সওয়াব দানের সাথে এর নূন্যতম সম্পর্ক নেই।

৩য় সংশয়: নিম্নোক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারাও ইসালে সওয়াবের পক্ষে প্রমাণ পেশ করা ঠিক নয়। হাদীস দুটি হল:

আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে,জনৈক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললেন,আমার মা মারা গেছেন। আমি তার পক্ষ থেকে সদকা করলে তা কি আমার মায়ের উপকারে আসবে?নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,“হ্যাঁ”। অতঃপর তিনি একটি খেজুর বাগান তার মায়ের উদ্দেশ্যে সদকা করে দিলেন।

অন্য বর্ণনায় এসেছে,উক্ত লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল,তার মা বাকহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন,এমনটি না হলে হয়ত তিনি সদকা করতেন। তাহলে এখন তার পক্ষ থেকে আমার সদকা যথেষ্ঠ হবে কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,“হ্যাঁ”। প্রথম বর্ণনায় এসেছে,যদি তিনি কথা বলতে পারতেন তবে সদকা করতেন।

উভয় হাদীসই মায়ের জন্য সন্তানের দান-সদকার কথা উল্লেখিত হয়েছে এবং উভয়টিতে মায়ের পক্ষ থেকে বদলী। উক্ত মহিলাদ্বয় সদকা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, সুযোগ পেলে বাস্তবায়ন করতেন। তাই তাদের মনের বাসনাকে তাদের সন্তানগণ পূর্ণ করেছেন এবং এ ধরণের স্থলাভিষিক্ত হওয়া শরীয়ত সম্মত এবং প্রমাণিত। ইসালে সোয়াবের সাথে এর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।