hadith book logo

মাসিক আত-তাহরীক প্রশ্নোত্তর ২০১৫

লেখকঃ দারুল ইফতা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩

প্রশ্ন (২২/১৪২) : মালফূযাত গ্রন্থের ২৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত ‘যাকাতের দরজা হাদিয়ার নিম্নে।’ এর সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাওলানা ইলিয়াস ছাহেব লিখিত মালফূযাত গ্রন্থের ২৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে যে, ‘যাকাতের দরজা হাদিয়ার নিম্নে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর ছাদাক্বা হারাম ছিল, হাদিয়া হারাম ছিল না।’ এর সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আব্দুল আলীম

কাঞ্চন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : উল্লিখিত মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ ইসলামী শরী‘আতে যাকাত ‘ফরয’। যে পাঁচটি স্তম্ভের উপর ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে, তার অন্যতম হচ্ছে যাকাত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ছালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর ও রাসূলের আনুগত্য কর। অবশ্যই তোমরা রহমত প্রাপ্ত হবে’ (নূর ২৪/৫৬)। পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে ছালাতের পরেই যাকাতের নির্দেশ এসেছে। ছহীহ হাদীছে যাকাতকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ বলা হয়েছে। অপরদিকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার জন্য হাদিয়ার কথা বলেছেন মাত্র। পারস্পরিক ‘হাদিয়া’ প্রদান করা সুন্নাত। কাজেই যাকাতের ‘ফরয’ দরজা হাদিয়ার নিম্নে উল্লেখ করা নিতান্ত অন্যায়। দ্বিতীয়তঃ যাকাত হ’ল ছাদাক্বা বা ফরয অনুদান। যা গ্রহণ করা বিশ্বনবী হিসাবে রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর পরিবারের জন্য মর্যাদাকর নয়। পক্ষান্তরে ‘হাদিয়া’ হ’ল উপঢৌকন। এতে মর্যাদা হানিকর কিছু নেই। সম্ভবতঃ সেকারণে রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য ‘হাদিয়া’ হারাম করা হয়নি।