hadith book logo

চিনে নাও তুমি তোমার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে

লেখকঃ ড. আদেল আশ-শিদ্দী, ড. আহমাদ আল-মাযইয়াদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাওমের প্রতি তাঁর দয়া ও অনুকম্পা:

অতঃপর আবু তালিব ও খাদিজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার মৃত্যুর পর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কষ্টের মাত্রা প্রচণ্ডভাবে বেড়ে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলেন এবং ছাকীফ গোত্রের লোকজনকে ইসলামের দা‘ওয়াত দিলেন; কিন্তু তিনি তাদের পক্ষ থেকে বিরোধিতা, তিরস্কার ও কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পেলেন না। তারা তাঁকে পাথর মেরে তাঁর দুই পায়ের গোড়ালিকে রক্তাক্ত করে দিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার মক্কায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«فَانْطَلَقْتُ ( يعني من الطائف ) وَأنا مَهْمُومٌ عَلَى وَجْهِي ، فَلَمْ أسْتَفِقْ إِلاَّ وأنَا بِقَرْنِ الثَّعَالِبِ ( ميقات أهل نجد ) ، فَرَفَعْتُ رَأْسِي، وَإِذَا أنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أظَلَّتْنِي، فَنَظَرْتُ فَإذَا فِيهَا جِبريلُ عليه السلام، فَنَادَاني ، فَقَالَ : إنَّ الله تَعَالَى قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ، وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ، وَقَد بَعَثَ إلَيْكَ مَلَكَ الجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بمَا شِئْتَ فِيهِمْ . فَنَادَانِي مَلَكُ الجِبَالِ، فَسَلَّمَ عَلَيَّ ، ثُمَّ قَالَ : يَا مُحَمَّدُ ! إنَّ اللهَ قَدْ سَمِع قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ، وَأنا مَلَكُ الجِبال، وَقَدْ بَعَثَنِي رَبِّي إلَيْكَ لِتَأْمُرَنِي بِأَمْرِكَ، فَمَا شِئْتَ، إنْ شئْتَ أطْبَقْتُ عَلَيْهِمُ الأَخْشَبَيْنِ ( جبلان بمكةَ ). فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : بَلْ أرْجُو أنْ يُخْرِجَ اللهُ مِنْ أصْلاَبِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ وَحْدَهُ لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئاً» .

“তখন আমি এমনভাবে বিষণ্ন চেহারা নিয়ে (তায়েফ থেকে) ফিরে এলাম যে, কারনুস সা‘আলিবে (নজদবাসীর মীকাত) পৌঁছা পর্যন্ত আমার চিন্তা লাগব হয় নি, তখন আমি আমার মাথা উপরে উঠালাম, হঠাৎ দেখতে পেলাম এক টুকরো মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। অতঃপর আমি সে দিকে দৃষ্টি দিলাম, তার মধ্যে ছিলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আপনার কাওম আপনাকে যা বলেছে এবং তারা প্রতি উত্তরে যা বলেছে, তা সবই আল্লাহ শুনেছেন। তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের (দায়িত্বে নিয়োজিত) ফিরিশতাকে পাঠিয়েছেন, এদের (তায়েফবাসী) সম্পর্কে আপনার যা ইচ্ছা আপনি তাকে হুকুম দিতে পারেন, তখন পাহাড়ের ফিরিশতা আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। অতঃপর বললেন, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার কাওম আপনাকে যা বলেছে, তা সবই আল্লাহ শুনেছেন; আর আমি হলাম পাহাড়ের (দায়িত্বে নিয়োজিত) ফিরিশতা। আপনার ‘রব’ আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন, আপনার যা ইচ্ছা আপনি আমাকে হুকুম দিতে পারেন। আপনি যদি চান, তাহলে আমি তাদের উপর ‘আখশাবাইন’কে (মক্কায় অবস্থতি দু’টি কঠিন শিলার পাহাড়) চাপিয়ে দিব। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (না, তা হতে পারে না) বরং আমি আশা করি যে, আল্লাহ তাদের বংশ থেকে এমন সন্তান বের করে আনবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৫৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৫৪]

* আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক (হজের) মৌসমে বের হতেন, আর নিজেকে (রাসূল হিসেবে) বিভিন্ন কাওম ও গোষ্ঠীর নিকট পেশ করতেন এবং বলতেন:

«مَنْ يُؤويني؟ من يَنصُرني؟ فَإِنَّ قُرَيْشًا قَدْ مَنَعُونِي أَنْ أُبَلِّغَ كَلامَ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ» .

“কে আমাকে আশ্রয় দিবে? কে আমাকে সাহায্য করবে? কারণ, কুরাইশরা আমাকে আমার মহান রবের বাণী প্রচার করতে বাধা দিচ্ছে!” [তিরমিযী, হাদীস নং ২৯২৫; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২০১]

* অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের মৌসুমে ‘আকাবা নামক স্থানের কাছে ছয় ব্যক্তিকে পেলেন এবং তাদেরকে দা‘ওয়াত দিলেন, ফলে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর তারা মদীনায় ফিরে গেলেন এবং তাদের কাওমের লোকজনকে দাওয়াত দিলেন, শেষ পর্যন্ত তাদের মাঝে ইসলামের আলো ছড়িয়ে গেল। অতঃপর প্রথম ও দ্বিতীয় ‘আকাবার শপথ অনুষ্ঠান হয়ে গেল এবং এগুলো ছিল গোপনে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুসলিমগণের মধ্য থেকে কারা কারা হিজরত করে মদীনায় চলে যাবে, সে বিষয়টি যখন চূড়ান্ত হয়ে গেল, তখন তাঁরা দলে দলে বের হয়ে গেলেন।