hadith book logo

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহিমান্বিত জীবনের শেষ একশ দিনের অসিয়্যতসমূহ

লেখকঃ সালেহ ইবন আব্দুর রহমান আল-হুসাইন, আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ আল-হাজ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, সালাত ও সালাম সর্বোত্তম নবী ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সমস্ত সাহাবীদের ওপর বর্ষিত হোক।

আল্লাহর সাহায্যে এ বইটিতে আল্লাহর নির্বাচিত নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ একশ দিনের অসিয়্যতসমূহ একত্রিত করেছি। দশম হিজরীর যুলকাদ মাসের পঁচিশ তারিখে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে রওয়ানা দেওয়ার পর থেকে একাদশ হিজরীর বারোই রবি‘উল আউয়াল তাঁর মৃত্যুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত এ সময় ব্যপ্ত। নিম্নোক্ত মাপকাঠিতে আমরা এ সব অসিয়্যত নির্ধারণ করেছি:

১- সরাসরি অসিয়্যত শব্দটি উল্লেখ থাকলে যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী,

«اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا» .

“তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের কল্যাণের অসিয়্যত করো (উপদেশ দাও”। [তিরমিযী, হাদীস নং ১১৬৩। তিনি হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৮৫১।]

অথবা বাক্যের ধরণ অনুযায়ী বিষয়টি সম্পর্কে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্ব বুঝালে, যেমন বিষয়টি বারবার উল্লেখ করে গুরুত্ব প্রদান করা। উদাহরণত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ» .

“সালাত, সালাত (অর্থাৎ সালাত ঠিকভাবে আদায় করবে)”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৫১৫৬; মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ৫৮৫। শু‘আইব আরনাউত হাদীসটিকে (মতনের বিবেচনায়) সহীহ বলেছেন, আর এ হাদীসের সনদটিকে হাসান বলেছেন। ‬ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]

২- অসিয়্যতটি প্রদানের দিন স্পষ্ট উল্লেখ থাকা বা অসিয়্যতটিতে এমন ইঙ্গিত থাকা যা প্রমাণ করে এটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শেষ জীবনে অসিয়্যত করেছেন।

৩- উম্মতের কিছু লোকের মধ্যে যে সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি সঙ্ঘটিত হচ্ছে সেগুলোকে অসিয়্যতের দৃষ্টিকোণে পর্যবেক্ষণ করে আমরা বুঝতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের মধ্যে এ ধরণের ভুল-ত্রুটির আশঙ্কা করেছেন বলে তিনি তাঁর শেষ জীবনে এগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা সাধারণত অসিয়্যতকারী এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অসিয়্যত করেন যেগুলোতে পতিত হওয়ার বা যেগুলো চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এসব মানদণ্ডে নিম্নোক্ত অসিয়্যতসমূহ যথার্থ বলে বিবেচিত হয়েছে:

১- সালাত আদায়ের অসিয়্যত।

২- কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার অসিয়্যত।

৩- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার পরিজন (আহলে বাইত) এর ব্যাপারে অসিয়্যত।

৪- আনসারদের ব্যাপারে অসিয়্যত।

৫- কর্তৃত্বের অধিকারীর আনুগত্য করার অসিয়্যত।

৬- মুসলিমের মান-সম্মান রক্ষার অসিয়্যত।

৭- নারীদের সম্পর্কে অসিয়্যত।

৮- দাস-দাসীর অধিকার প্রদানের অসিয়্যত।

৯- আমানত আদায়ের অসিয়্যত।

১০- ইয়াহূদী ও খৃস্টানদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বিতাড়িত করে দেওয়ার অসিয়্যত।

১১- শির্ক ও এর যাবতীয় পন্থা থেকে সতর্ক করা।

১২- বিদ‘আত ও নতুনত্ব থেকে হুশিয়ারী।

১৩- গোলযোগ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে সতর্কীকরণ।

১৪- সুদ থেকে হুশিয়ারী।

১৫- দীনের দাওয়াত পৌঁছানোর অসিয়্যত।

আমি এ সব অসিয়্যত আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছি। যেসব হাদীসের ওপর ভিত্তি করে অসিয়্যত ধর্তব্য হয়েছে সেগুলো আগে উল্লেখ করেছি। অতঃপর এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সব যেমন কুরআন ও সুন্নাহর দলীল, ইসলামের কিছু বিজ্ঞ পণ্ডিত মুফাসসির ও মুহাদ্দিসের অভিমত উল্লেখ করেছি। আমরা সাধ্যমত নাতিদীর্ঘ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো বইটি সকলের জন্য সহজবোধ্য ও স্পষ্ট ভাষায় গ্রহণযোগ্য হোক।

উম্মতের জন্য আমরা যেসব নসীহত ও উপকার কামনা করছি সে ব্যাপারে আল্লাহর কাছে তাওফীক প্রার্থনা করছি। তিনিই নানা জাতির একমাত্র হিদায়াতদাতা এবং উদ্দেশ্য সফলে তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক।

লেখকদ্বয়