hadith book logo

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাদকাসক্তির প্রভাব ও তার সমাধান

লেখকঃ ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, মো. মোশাররফ হোসাইন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

চিকিৎসাখাতে ব্যয় বৃদ্ধি:

মাদকদ্রব্য সেব শারীরিকভাবে আসক্তদের মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে। দীর্ঘদিন ড্রাগ ব্যবহারের ফলে আসক্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, [জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রক কর্মসূচি (UNDCP), মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনবার্সন, ঢাকা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জুন, ১৯৯৯, পৃ. ২; বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর এবং UNDCP -এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্প কর্তৃক প্রণীত, জীবন একটাই সুন্দরভাবে বাঁচার নামই জীবন, জানুয়ারী ১৯৯৮, পৃ. ৪।] স্নায়ুর বিভিন্ন রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, ব্রাঙ্কাইটিস, অন্ত্রের ঘা, যৌন অপারগতা, সন্তান উৎপাদনের অক্ষমতা, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ইনজেকশনের মাধ্যমে ড্রাগ নিলে এইডস, হেপাটাইসিস ‘এ’ ও ‘বি’ সহ বিভিন্ন রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে। [জাতিসংঘ অন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী (UNDCP), মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনবার্সন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১-২।] ক্রমাগত হারে এদের রোগ-ব্যাধি বাড়তেই থাকে। এদের রোগ-ব্যাধি বেশী হয় ও স্বাস্থ্যহীনতা ঘটে। ফলে এদের পেছনে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ও কম হয় না, যা জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। [মোঃ রেজাউল ইসলাম, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮৬।]

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের ফলে অকর্মণ্য যুবক ও যুবতীর সংখ্যা বাড়তেই থাকে। জটিল ও কঠিন রোগে ভোগের ফলে এদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়। মাদকাসক্ত কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যখাতে যা ব্যয়, তা গড়পড়তা খরচের চেয়ে বেশি। [কাজী আলী রেজা (সম্পাদিত), জাতিসংঘ এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫২।] তাছাড়া মাদকাসক্ত ছেলে সন্তানদের চিকিৎসা করাতে অভিভাবকদের গুনতে হয় বাড়তি টাকা। ঢাকা শহরে প্রাইভেট ক্লিনিকে রেখে চিকিৎসা করাতে রোগী প্রতি খরচ পড়ে মাসিক ২০,০০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা। [অধ্যাপিকা বশিরা মান্নান, প্রাগুক্ত, পৃ. ২০।] এক হিসাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে মাদকাসক্তদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়ায় বার্ষিক প্রায় দুই শত কোটি টাকা।

মাদকাসক্তদের মধ্যে দুরারোগ্য ব্যধি এইডস এর ভয়াবহ প্রকোপ দেখা যায়। এক হিসাবে দেখা গেছে যে, এইডস আক্রান্ত রোগীদের শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ হচ্ছে শিরার মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণকারী। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫ লাখ এইচআইভি জীবাণুবাহী নারী-পুরুষ রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন এইডস রোগীর কথাই সরকার স্বীকার করে এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে ১৬৫ জন। অবশ্য ওয়াকিবহাল একাধিক সূত্র জানায়, দেশের এইডস রোগীর সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে। [দৈনিক সংগ্রাম, ২৮ অক্টোবর, ২০০৪, পৃ. ৩।] সাধারণ রোগীর পাশাপাশি এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়ার ফলে দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে রীতিমত আতংক দেখা দিয়েছে।